সম্পাদকীয়

ডিসেম্বর ১৬, ২০১৩, ৯:২৬ পূর্বাহ্ন

বিজয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হোন

বাঙালির বিজয় গৌরব ও অহঙ্কারের। ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন-সার্বভৌম নতুন একটি দেশের জন্ম হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার দামাল ছেলেদের কাছে এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ করে।

বাঙালি জাতির ইতিহাসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। পাঁচ হাজার বছর আগেও এ ভূখণ্ডের অধিবাসীদের বীরত্ব সম্পর্কে সমীহ করা হতো। মহাবীর আলেকজান্ডারের সঙ্গীরা এই বীর জাতির শৌর্যবীর্যের প্রশংসা করেছেন। আড়াই হাজার বছর আগে রোমান কবি ভার্জিলের কবিতায় গঙ্গেয় ব-দ্বীপের অধিবাসীদের বীরবন্দনা প্রকাশ পেয়েছে।

সেই প্রাচীনকালে বাঙালি বীর বিজয় সিংহ লঙ্কা জয় করে দূর দেশেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের কৃতিত্ব দেখান। তারপরও বলা যায়, ধনধান্য পুষ্পে ভরা এ ভূখণ্ডের মানুষের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। এ দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য বিদেশি হানাদাররা বারবার আঘাত হেনেছে। বৈদেশিক আধিপত্যে এক পর্যায়ে বাঙালি তার স্বকীয় মর্যাদাও হারিয়ে ফেলে।

বাঙালি মুসলমানদের অগ্রণী ভূমিকায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও শুরুতেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয় পদ্মা মেঘনা যমুনা বুড়িগঙ্গা পাড়ের মানুষ। সংখ্যালঘিষ্ঠ পশ্চিম পাকিস্তানিরাই এ দেশের ভাগ্য-বিধাতা হয়ে ওঠে। শোষণ ও নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয় বাঙালিরা। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালির সাহসী নেতা বঙ্গবন্ধু।

১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হলে পাকিস্তানিরা তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, তারা একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় গণহত্যা। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

জাতি এ বছর একাত্তরের মহান বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকী পালন করেছে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা। বিগত ৪৩ বছরে দেশ অনেক এগিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সে লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি।

এ বছর আমরা এমন এক সময় মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকী উদযাপন করছি যখন দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে এই সংঘাত। জনগণের রায়কে স্তব্ধ করার জন্য একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এ অন্যায় রোধে শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ব্যত্যয় কোনোভাবে কাম্য হওয়া উচিত নয়। এবারের বিজয়ে চেতনায় গণতন্ত্র সুরক্ষা হোক , জনগণের জন্য বৃহত্তর কল্যানে রাজনীতিকরা ঐক্যবদ্ধ হোক, ১৬ কোটি মানুষের এতটুকুই প্রত্যাশা।