সম্পাদকীয়

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৩, ৯:৪৮ অপরাহ্ন

দেশ নিয়ে খেলবেন না!

ওরা বস্তির শিশু। তাই বলে কি হবে? ওরাতো এই সমাজেরই অংশ। তাদের প্রতিদিনকার চিত্র যেমন সমাজের সামগ্রিক প্রতিচ্ছবিতে প্রতিফলন ঘটায়, তেমনি সমাজের বিদ্যমান উপাদানগুলোও তাদের ওপর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বস্তির শিশুদের অধিকার সংরক্ষন বিষয়ে এই লেখা নয়। প্রসঙ্গ ভিন্ন-

রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো কয়েকটি শিশু কাঠের টুকরা হাতে নিয়ে একটি রিক্সার পেছনে দৌড়াচ্ছে। পাশাপাশি রিক্সাটিতে আঘাত করছে এবং ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ বলে চিৎকারও করছে। দেখে মনে হচ্ছে ,ক্ষুদে পিকেটার খুব মজা করে তাদের দায়িত্বপালন করছে! পাশের লোকজন বলছে ওরা টেলিভিশনে এসব ঘটনা তো নিয়মিতই দেখে।

ওরা খেলছে হরতাল হরতাল খেলা। লাঠি নিয়ে খেলা, আগুন নিয়ে খেলা। এটা তাদের নিছকই খেলা। এক সময় এটাই হয়তো পরিণত হতে পারে দেশ বিধ্বংসী খেলায়। যা খেলছেন আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক কর্ণধাররা। তারা দেশ নিয়ে খেলছেন, ভোট নিয়ে খেলছেন, জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলছেন, খেলছেন মানুষের আবেগ নিয়ে। তারা খেলাচ্ছেন অসহায়, নিরীহ, সাধারণ মানুষকে।

ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা ক্ষমতায় আরোহন করা নিয়ে চলছে তাদের জেদাজেদি। এক চুল না নড়া কিংবা সব চুল উড়ে যাওয়ার চুলোচুলিতে রাজনৈতিক কর্ণধাররা নিজ সিদ্ধান্তে বরাবরই অনড়। যার ফলাফল পরিস্কার-- হত্যা, আগুন, ভাঙ্চুর, লুটপাট, আতংক ইত্যাদি। সবশেষ দেশের অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়া। সমাজের অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া।আর বিশ্বফোরামে বন্ধুহীন হয়ে পড়া।

কিন্তু এসব ফলাফল কি বোঝেন না শীর্ষ রাজনীতিকরা? নিশ্চয়ই বোঝেন। কারণ নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্টই হচ্ছে—নেতা তার চোখে খুব সহজেই ভবিষ্যতকে দেখতে পান। যার নাম দূরদর্শীতা। সবকিছু বোঝার পরও তারা দেশ নয়,জনগণ নয়, বোঝেন নিজেরটা।“বিচার মানি তালগাছ আমার” এই প্রবাদের মত। দেশ যেখানেই যাক!

তারপরও জনগণের আকুতি--রেহাই দিন, মুক্তি দিন, বাঁচতে দিন, জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিন! এক চুল নয়, জনগণের প্রয়োজনে বৃহত্তর স্বার্থে চুলের পুরো গোছাটাই বিসর্জন দিন। নাহলে হয়তো ভংয়কর কোন পরিণতি অপেক্ষা করছে সবার জন্য।

নিউজ পেজ২৪/একস