সম্পাদকীয়

জানুয়ারী ৩১, ২০১৪, ৭:৩৩ অপরাহ্ন

দশম সংসদের কার্যকারিতা ও প্রতিনিধিত্বশীলতা

নিউজ পেজ ডেস্ক

৫ ই জানুয়ারি আলোচিত নির্বাচনে গঠিত দশম সংসদের যাত্রা শুরু হলো ২৯শে ডিসেম্বর। স্বাগত ভাষণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু নির্বাচন যে অবাধ ছিলনা এ বিষয়ে প্রায় সবক’টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে। একই মত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও। সবশেষ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দ্বিতীয় দফার বিতর্কে অভিমত দিয়েছে, ‘নির্বাচন না ছিল অবাধ, না ছিল সুষ্ঠু।’ এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। কারণ হিসেবে অবশ্য তিনি প্রধান একটি জোটের নির্বাচনে অংশ না নেয়া এবং প্রতিরোধের ডাক দেয়াকে দায়ি করেছেন।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সহিংসতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। একই সাথে তিনি নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোকে সহিংসতা ছেড়ে সংলাপের আহবান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সহিংসতার ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত সমঝোতামূলক সংলাপের আহবান জানিয়েছে। এছাড়া আরেকটি অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনেরও তাগিদ দিয়েছে অনেকে। যদিও এক্ষেত্রে কোন সময়সীমা বেধে দেয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপতি যেমন সংলাপের আহবান জানিয়েছেন, তেমনি বিএনপির নেতৃত্বে ১৯ দলীয় জোটও সংলাপের কথা বলছে। কিন্তু সংলাপের কোন উদ্যেগ দৃশ্যমান হচ্ছেনা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছে ১৯ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। কোনকোনো অভিযানে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের মারা যাওযার খবরও আসছে। বিরূপ রাজনৈতিক এই পরিস্থিতিতে বিএনপি দল গোছানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে দ্রুত আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে।

অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন কবে হবে তার নিশ্চয়তা না থাকলেও জনগণের মধ্যে সংসদ ও সরকারের কার্যকাল নিয়ে সংশয় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের স্বাভাবিক মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু একতরফা নির্বাচনের কারণে দেশে বিদেশে বর্তমান সংসদের মেয়দকাল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও মন্ত্রীরা জোর গলায়ই বলছেন, সরকার পাঁচ বছরই বহাল থাকবে। কিন্তু আস্থার সংকট কাটছেনা সাধারণ মানুষের মাঝে। সর্বত্রই আলোচনা, ‘এই সরকার এক বছর, দুই বছর নাকি পাঁচ বছরই বহাল থাকবে!’

দশম জাতীয় সংসদ আগের তুলনায় বেশি কার্যকর ও প্রাণবন্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, “বর্তমানে যারা বিরোধী দলে আছে তারা সংসদে আসবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে।” একই সাথে সরকার এবং বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি মনে করে সংসদে বিরোধী দলের ধারনাই তারা পাল্টে দেবে। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদলে থাকাকে ‘নতুন কনসেপ্ট’ বলে সংসদে ভাষণে বলেছেন বিরোধীদরীয় নেতা রওশন এরশাদ। এমন ধারনাকে হাস্যকর দাবী করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদকে সার্কাস দলের প্যান্ডেল বলে অভিহিত করেছেন।

সব মিলিয়ে সংসদ ও সরকারের কার্যকাল নিয়ে জনমনে ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। এই সংসদে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য। তাই সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে তেমনি সংশয় আছে দশম সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা রাখবে কতটুকু! আর জনগণের কাছে এই সংসদের দায়ই বা থাকবে কিভাবে?

নিউজ পেজ২৪/একস