সম্পাদকীয়

মার্চ ২৫, ২০১৪, ৬:৩২ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা দিবস ও গণমানুষের অধিকার

ঢাকা: বিশ্ব মানচিত্রে আমারা বাংলাদেশীরা স্বাধীনতার চার দশক পার করেছি অনেক আগেই। পঞ্চম দশকেরও প্রথম ভাগ পার হতে চলেছে। এই সময়ে আমাদের অর্জনও নিতান্ত কম নয়। তবে, যে ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য আমার স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বাধীনতার ঘোষণাকে কার্যকর করতে গিয়ে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ নারী-পুরুষ নিবিশেষে দেশের অগণিত মানুষ আত্মত্যাগ করেছিলো তা কতটা পূরণ হয়েছে?

স্বাধীনতার ৪৩ বছরে নতুন নতুন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে সন্দেহ নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক জিডিপি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে নিয়ে সরকারি বেসরকারি সব পদ থেকে ভিনদেশীর বদলে আমরাই অধিকার করে আছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায় চলছে দেশ। এখন তো আর ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করার দরকার ছিলো না। কিন্তু বাস্তবে কি তা আছে। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয সংসদ নির্বাচন কি জনগনের ভোটাধিকার রক্ষার , নাকি হরণের মধ্য দিয়ে হয়েছে, সেটি দলীয় মতের উর্দ্ধে উঠে দেশের রাজনীতিবিদদের বিবেচনা করার আহবান জানাই।

একই সাথে চলমান উপজেরা পরিষদ নির্বাচনে যে হারে সহিংসতা ও ভোট ডাকাতি বাড়ছে সেটি কিসের আলামত? ভোটের সহিংসতায় মানুষ খুনের পরও সুষ্ঠ নির্বাচনের ঢেকুর তুলে আমাদের নির্বাচন কমিশন কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে? অথচ এইতো ৫ বছর আগেও তো আমার সহিংসতামুক্ত ও উৎসব মুখর জাতীয় সংসদ ও উপজেলাসহ আরো অনেক নির্বাচন করেছি। তবে , এবা্র কেন এমন হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছরে নিশ্চয় বিষয়টা সবাইকে ভেবে দেখতে হবে, এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে, যদি সত্যিই আমরা আমাদের প্রিয় এ দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই।

তাই স্বাধীনতার এ উৎসবের দিনে আমাদের আবেদন, আসুন সবাই নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। প্রতিহিংসার অবসান ঘটাই। ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে দেশ গঠনে মনোযোগি হই। তবে নিশ্চিত হবে, ভোট ও ভাতের অধিকার। প্রতিষ্ঠা পাবে স্বাধীনতার চেতনা। আর জনগণের অধিকার নিশ্চিত না করে ক্ষুদ্র দলীয় ও ব্যাক্তি স্বার্থে অন্ধ থাকলে নির্বাসিত হতে বাধ্য জনগণের অধিকার। আর এমনটি হতে থাকলে অল্প দিনের জন্য কেউ পার পেলেও আখেরে একদিন নিশ্চয়ই দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতেই হবে।

নিউজ পেজ২৪