সম্পাদকীয়

জানুয়ারী ১, ১৯৭০, ৬:০০ পূর্বাহ্ন

জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমঝোতার পথে এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের

বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে ২,২২,৪৯১ কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট ঘোষনা হল। অর্থমন্ত্রী বলছেন, এই বাজেট উচ্চবিলাসী হলওে বাস্তবায়নযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের অনেকে এটিকে নির্বাচনী বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘পরাবাস্তব’ বলে মন্তব্য করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দৃষ্টিতে, নির্বাচনী বছর হিসেবে বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে সরকার। সেই ধরনের প্রকল্পে বরাদ্দও রাখা হয়েছে বেশি। এ কারণে বাজেটের আকার বেড়েছে। কিন্তু আয়ের খাত খুব বেশি বাস্তবসম্মত না হওয়াতে এ বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। ’

প্রধান বিরোধীদল বিএনপি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বিগ বিউটিফুল বেলুন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। বিএনপি নেতাদের মতে, ‘এই বাজেট অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য সামনে রেখে ভোটের বাজেট হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।’

অবশ্য বাজেট কার্যকারিতার পাশপাশি সাধারণ মানুষের ভাবনার বিষয় হল -সামনের সময়গুলো কতটুকু স্বস্তি ও স্বাভাবিকভাবে কাটাতে পারবেন তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও যুদ্ধাপারাধ ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরী হয়েছে, তা নিরসনে কতটুকু ছাড় দেবে রাজনৈতিক দলগুলো? গণতন্ত্রের মূল নিয়ামক শক্তি যদি জনগণই হয়ে থাকে, তবে তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমঝোতার পথে এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের।