সম্পাদকীয়

এপ্রিল ১৪, ২০১৪, ৩:৩৩ অপরাহ্ন

নতুনের কেতনে ভেসে যাক সব জঞ্জাল!

বিশেষ প্রতিনিধি

মানুষ সময়ে সময়ে বদলাতে চায়। পুরোনো ব্যর্থতা ভুলে নতুনভাবে জীবন সাজাতে চায়। যদিও তা সব সময় ঘটা করে হয় না। তারপরও নতুন বছর এলে মানুষ স্বপ্নকে হালানাগাদ করে নতুন পরিকল্পনা নেয়। আর তা যদি হয় বাংলা বছরের প্রথমদিন তাহলে তো কথাই নেই।

পহেলা বৈশাখ; বাংলা, বাঙ্গালি ও বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় ছটায় উদ্ভাসিত সর্বজনীন উৎসবের দিন ।নতুনের কেতন ওড়ানো বৈশাখ এসেছে নতুন সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লড়াইয়ে জয়লাভের প্রতিশ্রুতি ও প্রেরণা নিয়ে। আনন্দ-হিল্লোল, উচ্ছ্বাস-উষ্ণতায় দেশবাসী বরণ করছে নতুন বছরকে।

অর্থ-সঙ্গতি থাকুক আর নাই থাকুক, সবার হৃদয়ে অবিরাম বেজে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের সেই চিরচেনা গানের সুর ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…,’কিংবা নজরুলের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’ নতুন দিনে মানুষের মনের পুরনো সব ব্যর্থতা ও আবর্জনার জঞ্জাল সরিয়ে নতুন আশা, কর্মোদ্দীপনা, স্বপ্ন, প্রত্যয় ও প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার ডাক দিয়ে যায়।

চৈত্রের শেষ দিনে সাধারণত গ্রাম ও শহরে ব্যবসায়ীরা আগের বছরের বিকিকিনির হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন খাতা খুলেন।। যাকে বলা হয় হালখাতা। যদিও কালের আবর্তে হালাখাতার সেই চিরায়ত সংস্কৃতি এখন আর নেই। তারপরও গ্রাহকদের আপ্যায়ন ছাড়া্ও এদিন দোকানকে নতুন করে সাজানো হয়।নতুন বছরে ব্যবসা সম্প্রসারনের নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়া হয়।

নতুন বছরে হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যেমন নতুনভাবে প্রতিষ্ঠানকে সাজিয়ে তোলেন। তেমনি প্রতিটি মানুষও জীবনকে হালনাগাদ করে নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যেতে চান।

কিন্তু মানুষতো সামাজিক জীব। চাইলেই কি এককভাবে সে এগুতে পারে ? সমাজ-সংস্কৃতিতে যে জঞ্জাল বাসা বেঁধেছে তা সরিয়েই তাকে এগুতে হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন আর গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারী মনোভাব না পাল্টালে সামগ্রিকভাবে দেশের এগিয়ে চলা দুরুহ ব্যাপার।

তারপরও মানুষের ব্যাক্তিগত প্রচেষ্টাকে স্যাল্যুট! ক্ষ্রুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তন আর অগ্রগতি সামগ্রিক উন্নয়নেরই অংশ। ব্যক্তি মানুষের সচেতনতা আর পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যাবে সমাজের দুর্ভেদ্য সব জঞ্জাল! নতুন বছরে তা প্রত্যাশা করাই যায়।
নিউজ পেজ/একস