সম্পাদকীয়

জুলাই ১, ২০১৪, ১:২৪ অপরাহ্ন

রমজানের আলোয় পরিচ্ছন্ন হোক সমাজ ও রাজনীতি

নিউজ পেজ ডেস্ক

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার যিনি রমজানকে সেরা মাস বানিয়েছেন এবং সে সময় ভাল কাজের প্রতিদান বাড়িয়ে দিয়েছেন। মেঘমালার ন্যায় দিনগুলি অতিবাহিত হচ্ছে। সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে কম সংখ্যক লোক আছেন যারা বাস্তবতা ও পরিণতি নিয়ে চিন্তা করছেন অথবা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করছেন।

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে শুরু হচ্ছে ইফতার রাজনীতি। তার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম। রোজা শুরু হলেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকে। যদিও এখন অর্থনীতির অবস্থা অনেকটাই গতিহীন।

রাজনীতিতেও তেমন গতি দেখা যাচ্ছেনা। গতি বলতে সহিংস কর্মসূচীর কথা বলছিনা। অহিংস কর্মসূচীও খুব দেখা যাচ্ছেনা। তবে অনেকটা নেতিয়ে থাকা রাজনীতিতে ইফতার পলিটিক্স কিছুটা গতি আনবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ অন্যদলগুলো ইফতার কেন্দ্রিক নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই রমজানের ইফতার কর্মসূচি পালন করছেন। ইফতার মাহফিলে পরস্পরকে আমন্ত্রণও জানাচ্ছেন রাজনীতিবিদরা। ইফতার রাজনীতির মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের চাঙা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ চাইছে দলীয় নেতাকর্মী ও মিত্রদের সঙ্গে এই ইফতার কর্মসূচি দিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে।

বর্তমানে দেখা যায়, রোজা স্বচ্ছল মুসলিমদের ক্ষুধা ও খাদ্য বিলাসে পরিণত হয়েছে। নানা কিসিমের খাদ্যখানার নিশ্চয়তা থাকার পরও অনাহারে থেকে যে বিলাসিতা করা হয় সেটাই ক্ষুধা বিলাস। আর খাদ্য বিলাস নিয়ে তো বেশি কিছু বলার নেই। ক্ষুধা লাগিয়ে ইফতারির সময় ফল-ফাকড়া থেকে শুরু করে নানা কিসিমের খাদ্যখানা প্রতিদিন ইফতারির সময় যেভাবে মাক-মাক করে সেঁটে দেওয়া হয়, তাতে খাদ্য বিলাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার আবশ্যকতা থাকে না।

অপরদিকে, পাশের ব্যক্তিটি সারাদিন রোজা রেখে হাড় খাটুনি খেটে একমুঠু ইফতার করতে পারছে না। আমাদের সেদিকে নজর দেয়া উচিত নয় কি! প্রতিবেশি গরীব অসহায় মানুষদের সাহায্য করা, ওদের মুখে একটু জল কিবা একটা খেজুর দিয়ে অনাহার মুক্ত রাখাইতো রোজার মূল চেতনা।

রোজার মাস আসলেই মসজিদগুলো মুসল্লিতে ভরে যায়। সবাই আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফ চায়। সারা বছরের পাপ থেকে মুক্তি নিয়ে পরিচ্ছন্নভাবে চলতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন মুসল্লীরা। রমজানে মুসলমানদের মধ্যে ভালো থাকা এবং ভালোভাবে চলার যে প্রত্যয় কাজ করে তা যদি সারা বছর বজায় থাকে তাহলে দেশ থেকে দূনীতি, চুরি, ঘুষ, গুম, ধর্ষন, রাহাজানির মত অপকর্মগুলো নি:সন্দেহে কমে যেত। তাই আসুন রমজানের মত সারাবছরই আমরা নিজেদের শুধরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখি।

নিউজ পেজ২৪/এইচএস/একস