সাক্ষাৎকার

জুলাই ১, ২০১৪, ৩:০৩ অপরাহ্ন

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বড় বেশি নেইমার-মেসি নির্ভর : ব্রেহমে

ইমরান হোসেন

ফেভারিটের তকমা গায়ে মেখেই চলমান বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে গ্রুপপর্বের খেলায় দুই দলের কেউই তাদের অনুরাগীদের মন জয় করতে পারেনি। রক্ষণভাগে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে, মাঝমাঠে যেন আনাড়ী ব্রাজিল। তা ছাড়া ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বড় বেশি মেসি ও নেইমার নির্ভর। কোনো ম্যাচে তারা নিষ্প্রভ থাকলে বাকিরা যেন গহীন অরণ্যের আতঙ্কিত হরিণ! এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দিয়েছেন জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ব্রেহমে। ব্রাজিল বিশ্বকাপ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। নিউজপেজ২৪ডটকম পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন :গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আমেরিকার বিপক্ষে জার্মানির জয়টাকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
ব্রেহমে: এই জয়টা তো জার্মানির প্রাপ্যই ছিল। সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। গোটা ম্যাচে মার্কিনরা একটাই সুযোগ পেয়েছিল। আর সেটাও ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে। যদিও আমেরিকা গ্রুপ ম্যাচগুলোয় ভালোই খেলেছে। জার্মানদের সঙ্গে ড্রয়ের লক্ষ্যেই নেমেছিল ওরা। আর, জোয়োকিম লো-র ফুটবলাররা চেয়েছিল জিততে। তবে, থমাস মুলারের গোলটা চোখ ধাঁধানো বললেও কম বলা হয়!

প্রশ্ন : মার্কিনদের কোচিংয়ের দায়িত্বে তো ক্লিন্সম্যান। আপনার পুরানো সতীর্থ। দলটাকে বিশ্বকাপের নকআউটে যেভাবে তুললেন ‘ক্লিনসি’, কী বলবেন?
ব্রেহমে: দারুণ! সত্যিই ‘ক্লিনসি’-র ভূমিকায় আমি মুগ্ধ। ওকে একটা অভিনন্দন বার্তাও তো পাঠিয়েছি। একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন, ব্রাজিলে শেষ ষোলোয় যারা উঠেছে, তাদের মধ্যে তিন দলের দায়িত্বে জার্মান কোচেরা। আমাদের জোয়াকিম লো, আমেরিকার ক্লিন্সম্যান আর সুইজারল্যান্ডের ওটমার হিজফেল্ড।

প্রশ্ন : জার্মান মাঝমাঠের ভরসা শোয়েনস্টাইগারকে নিয়ে আপনার মতামত?
ব্রেহমে: মাঝমাঠে নিজের দায়িত্বটা দারুণভাবেই পালন করেছে। তবে, নিজের সেরা ফর্মে থাকলে ও ঠিক কী কী করতে পারে তা আমরা জানি। শোয়েনস্টাইগারের কাছে প্রত্যাশাটাও তাই একটু বেশিই। জার্মানিকে কাপ জিততে গেলে ওকে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রশ্ন : গ্রুপ লিগের ম্যাচগুলো দেখার পর জার্মানদের মধ্যে কাকে সেরা বলবেন?
ব্রেহমে: থমাস মুলার! কোনো সংশয় আছে নাকি? শুধু চারটা গোল করেছে বলেই নয়, মাঠে ওর স্মার্ট ফুটবল আমাকে মুগ্ধ করছে। আমেরিকার বিপক্ষে মুলারের গোলটা? ওফ্, এখনো চোখে ভাসছে। সেলাম!

প্রশ্ন : তা হলে কি গ্রুপপর্বে জার্মানির কোনো ভুলভ্রান্তি চোখে পড়েনি? যা দেখে আপনি হতাশ?
ব্রেহমে: না, সত্যিই সেভাবে কোনো ফাঁকফোকর নেই দলটায়। হ্যাঁ, ফিলিপ লাম এখনও নিজের সেরাটা দিতে ব্যথ। ঘানার বিপক্ষে বাজে খেলেছে। তবে, সব মিলিয়ে এখনও ওর সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ার মতো কিছু ঘটেনি। আসলে লামের ওপর জার্মানদের প্রত্যাশা সব সময়ই একটু বেশি থাকে। বায়ার্ন হোক বা জাতীয় দল ধারাবাহিকতায় লাম যে জুড়িহীন।

প্রশ্ন : প্রত্যাশা মতোই নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে শেষ করেছে জার্মানি। কিন্তু, জার্মান মুলুকে সেভাবে উদ্দীপনা এখনও চোখে পড়ছে না। কারণটা কী বলুন তো?
ব্রেহমে: আসলে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালকে ৪-০ উড়িয়ে দেওয়ার পর ঘানার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করাটা একটু হলেও দমিয়ে দিয়েছিল অনুরাগীদের। তবে, এখনই এ সব নিয়ে ভেবে লাভ নেই। বিশ্বকাপ যত এগুবে, জার্মানরাও তাতবে। আশা করি, মাঠের লড়াইয়ে আমাদের ছেলেরাও প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকবে।

প্রশ্ন : সত্যি করে বলুন তো, এবার ব্রাজিলে বিশ্বকাপে জার্মানরা কত দূর যেতে পারে? সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই বা কাকে ধরছেন?
ব্রেহমে: বিশ্বকাপ জিততেই পারে জার্মানি। তবে, নকআউট পর্বে লো-কে আরো নজর দিতে হবে দলের ওপর। রক্ষণ, মাঝমাঠ, আক্রমণভাগে যা কিছু ফাঁক রয়েছে দ্রুত ভরাট করে ফেলতে হবে। ভুললে চলবে না, গ্রুপপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে একটা ম্যাচে হার মানেই সব শেষ। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি অথবা ফাইনালে তথাকথিত ছোট দেশগুলো বড় দলের সামনে বড় সমস্যা দাঁড় করায়। ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো সেরা দুই ফেভারিটের ফুটবল দেখে আমি মুগ্ধ নই। ওরা সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি। বড্ড বেশি মেসি আর নেইমার নির্ভও তারা। বরং নজর কেড়েছে হল্যান্ড, ফ্রান্স। তবে দেখার বিষয়, চলতি বিশ্বকাপে শেষ ছবিটা কি দাঁড়াল। আর সে জন্য একটু অপেক্ষা তো করতেই হবে।

সূত্র: দৈনিক আজকাল

নিউজ পেজ২৪/ইএইচএম