সম্পাদকীয়

জানুয়ারী ১, ১৯৭০, ৬:০০ পূর্বাহ্ন

আসুন শুদ্ধতার পথে

রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান চলছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ এ মাস যেন শুদ্ধতা ও আত্মকল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে অনাহারের কষ্ট উপলব্ধি এবং আত্মসংযমের পরাকাষ্ঠায় নিজেকে পরিশুদ্ধ করার এ এক বড় সুযোগ।

রমজান এলে মুসলিম বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও এক ভিন্ন সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনের বেলায় নাগরিক জীবনে শত ব্যস্ততা দেখা গেলেও এক ধরনের আলস্যও যেন জড়িয়ে থাকে। অথচ বিকেল হতে না হতেই চারদিকে সাজ সাজ রব। রাস্তার মোড়ে-মোড়ে বর্ণিল চাঁদোয়ার নিচে বাহারি ইফতারের পসরা। ঘরে-ঘরে গৃহিনীদের ব্যস্ততা জানান দেয় ইফতারের আর বেশি দেরি নেই।

সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারের এ তোড়জোড়ের দৃশ্য বড়ই মনোমুগ্ধকর। পর পরিবার-পরিজনদের নিয়ে ইফতার করার অনুভুতির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা চলে না। কিন্তু সেই ইফতারের খাবারে যদি বিষ মেশানো হয়, তাহলে তা কতটা মর্মান্তিক তা বলাই বাহুল্য। গত কয়েক বছর ধরে খাদ্যে ভেজাল আমাদের জাতীয় জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মাছ-মাংস থেকে শাক-সবজি কোনো কিছুই আর ভেজাল মুক্ত নেই। যা মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

প্রশাসন ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। সমানতালে ভেজালও চলছে। খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক মেশানোর দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইনও করা হয়েছে। তারপরও ফলাফল খুবই হতাশাজনক।

আমরা মনে করি আইনের বেড়ি নয়, চেতনায়, মননে উন্নত হতে না পারলে নৈতিকতার আদর্শ বাস্তবায়ন করা যায় না। এই মাহে রমজানে তাই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আমাদের সেই নৈতিকতার শিক্ষা নিতে হবে। দেশ-জাতি-রাষ্ট্র-সমাজ এমনকি ব্যক্তি জীবনে সফল হতে আমাদের সততাকেই বেছে নিতে হবে। এই রমজানে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।