সাক্ষাৎকার

জুলাই ২৩, ২০১৪, ৭:৫৪ অপরাহ্ন

হতাশা দূর করার জন্য সুচিন্তাই যথেষ্ট

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গিয়াস আদ-দ্বীন সজিব

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ ভুপেন হাজারিকার গাওয়া জনপ্রিয় গানের প্রথম চরণ এটি। পৃথিবীটা যদি গানের ভাষার মত এমন হত, তাহলে এখানে দুঃখ-কষ্ট, বেদনা, হতাশা হয়তো থাকত না। কিন্তু, খুব বেশী দূরে নয়; সম্প্রতি সময়ে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অসহায় শিশু, নারীসহ শত শত মানুষ যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, কতজনই বা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য জাতি ধর্ম বর্নের প্রয়োজন নেই। শুধু একজন প্রকৃত মানুষ হওয়া প্রয়োজন। আর তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি শুধুমাত্র প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাই ইউনিভার্সিটিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স। তরুণদের নিয়ে এমন ভাবনা আর দেশের সার্বিক উন্নয়নে সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যবহার করে স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে প্রকৃত মানুষ হিসেবে।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিউজ পেজ২৪.কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান এবং স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর সম্মানিত পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু জানালেন তাঁর অভিমত।

আদ-দ্বীন সজিব
: স্যার, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি?
মিজানুর রহমান: আপনি একটু ভেবে দেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কতক্ষণ সময় ক্লাস হয়? খুবই সামান্য। তাহলে প্রশ্নটা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা অন্যান্য সময় কি করে? নিশ্চয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরা ফেরা, ফেসবুকিং, ঘুমিয়ে অথবা কোন কোন কাজ বা কিছু না করে সময় কাটায়। তাই সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যবহার করে পড়াশুনার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ ‍হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

আদ-দ্বীন সজিব
: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
মিজানুর রহমান: আপনি যদি খেয়াল করেন, তবে দেখবেন শিক্ষার্থীদের হতাশা দুশ্চিন্তা ছাড়া নিজের মধ্যে এমন অনেক না বলা কথা থাকে, যেগুলো তারা কারো সাথে শেয়ার করে না। যদিও তারা জানে যে, এতে তারা নিজেরাই ক্ষতির স্বীকার হয়। আর স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এমন এক জায়গা যেখানে সবাই হৃদয় খুলে নিজের কথা বলতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং, মন সামাজিক পরিচর্যা, উৎসাহমুলক সেশন, দুশ্চিন্তা হতাশা কাটানোছাড়াও একজন যোগ্য নাগরিক এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের ব্যাক্তিগত সমস্যার সলুশন, টেকসই উন্নয়ন পরিবেশবাদী, জার্নি ফর এ বিউটিফুল লাইফ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রোগাম করে থাকি। স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর অধীনে প্রথম আলো বন্ধুসভা, স্পোর্টস ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, লেঙ্গুয়েজ ক্লাব ছাড়াও আরও ২৪ টি ক্লাব আছে। এছাড়া মনসামাজিক পরিচর্যাবর জন্য রয়েছে সতন্ত্র ইউনিট যেখানে একক বা দলীয় ভাবে ছাত্রছাত্রীরা তাদের মনের কথা খুলে বলে এবং সুন্দরভাবে বাঁচার পথ খুঁজে নেয়।

আদ-দ্বীন সজিব: আপনি তো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার মানের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান কোথায়?
মিজানুর রহমান:বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা ক্লাস নিচ্ছেন? দেখবেন যে, দেশেবিদেশের প্রশিক্ষিত নিয়মিত শিক্ষক ছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে নামকরা আর সুনামধন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারারাই কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। এছাড়া নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, বাড়তি খেয়াল রাখা ছাড়াও শিক্ষক সচেতনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব একটা পিছিয়ে নেই বলা যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই তো ভাল করছে এমনটা নয়। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেঞ্চুরির যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিডিয়াতেও বেশ জায়গা করে নিয়েছে।

আদ-দ্বীন সজিব: দেশের উন্নয়নে সাংবাদিকরা কি ধরনের ভুমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
মিজানুর রহমান: সাংবাদিকরা বরাবরই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভুমিকা রেখে আসছেন। তবে বর্তমানে সাংবাদিকরা একটা কনটেন্ট অর্থাৎ বিভিন্ন শাখাপ্রশাখায় বিভিন্ন ফিলোসোফি নিয়ে কাজ করেন। দেশের উন্নয়নের কথা বলতে গেলেই অর্থনীতির কিছু বিষয় চলে আসে। যেমন ধরুন, অর্থনীতির সংবাদ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান রাখা উচিত। আর তা না হলে দেশের উন্নয়নে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

আদ-দ্বীন সজিব: দেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার অভিমত কি?
মিজানুর রহমান: কিছু ক্ষেত্রে তরুণরা বুড়োদের মত হয়ে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অপব্যাবহার, মোবাইলে অজানা কোন মানুষ অথবা প্রেমিকযুগলের সাথে রাতভর কথা বলা ইত্যাদি তথাকথিত কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখে দেশকে হুমকির ‍মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তরুণদের তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন, মোবাইল বা কল অপারেটর কোম্পানিগুলো একটা সময় ফোন কলরেটের বিভিন্ন ধরনের অফার দিতো। কিন্তু, এখন তারা আর কলরেট অফার নয়, দিচ্ছে ইন্টারনেট প্যাকেজের বিশেষ সুবিধা। আর দেশের উঠতি বয়সের তরুন তরুনিরা নিজের জান্তে-অজান্তেই করছে এর অপব্যবহার। তারা খুব সহজেই দেখছে পর্ণগ্রাফির মত অশ্লীল ছবি। তাই আমি তরুণদের বলব, চিন্তা করতে হবে। যারা চিন্তা করে সাধারণত তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করে না। সুচিন্তা হতাশা দূর করার জন্য যথেষ্ঠ। সুচিন্তার অভাব ঘটলেই মগজে কুচিন্তা, কুচিন্তা থেকে কুকর্ম এবং ফলাফল হিসেবে দুশ্চিন্তার মধ্যে জীবন পতিত হয়। কাজেই সঠিক চিন্তা করার সামর্থ্যের মধ্যেই ভবিষৎ তরুণদের সাফল্য লুকিয়ে আছে এবং পৃথিবী সেদিকেই যাবে।

আদ-দ্বীন সজিব: স্যার, আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য নিউজপেজ২৪.কম এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
মিজানুর রহমান: আপনাকে এবং নিউজপেজ২৪.কম-কে ধন্যবাদ।



সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু
বিভাগীয় প্রধান
সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ এবং
পরিচালক
স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি


নিউজ পেজ২৪/সজিব