সাক্ষাৎকার

অগাস্ট ২, ২০১৪, ৭:১৬ অপরাহ্ন

আন্দোলনের ধরন নিয়ে এখনো নির্দেশনা পাইনি: সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। নবগঠিত ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিও তিনি। সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন একটি পত্রিকার সঙ্গে। কথা বলেছেন মহানগর বিএনপিকে গোছানো, চলমান আন্দোলনসহ নানা দিক নিয়ে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির কর্মকান্ড নিয়ে দলের চেয়ারপারসন ক্ষুব্ধ। ঠিক এই পরিস্থিতিতে মহানগরীর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হলেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার বিরোধীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। এমনি একটি পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর। সেই মানসিকতা নিয়েই এ দায়িত্ব নিয়েছি।

ঢাকা মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী করতে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?

প্রথমত দুটি কাজকে প্রাধান্য দিতে চাই। একটি হচ্ছে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যন্ত একটি সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো। অপরটি হচ্ছে, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হবে।

আন্দোলন কতটুকু কার্যকর করে তোলা সম্ভব হবে?

ঢাকা মহানগরীর পুরো সাংগঠনিক শক্তিকে একই প্লাটফর্মের নিচে আনতে পারি তাহলে কার্যকর ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কারণ, ’৯০-এ আমাদের আন্দোলনের মুখেই এরশাদকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এখন আমরা সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। গণতন্ত্র রক্ষায় সেই আন্দোলন আবারও গড়ে তোলা গেলে আমরা সফল হব।

এবার আন্দোলনের কৌশলগুলো কী হবে?

আন্দোলন কী ধরনের হবে, তা দলের নীতিনির্ধারকরা ঠিক করে দেবেন। তারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই আমরা কাজ করব। আন্দোলনের ধরন নিয়ে এখনো নির্দেশনা পাইনি। এ নিয়ে আলোচনাও হয়নি।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নিজস্ব কোনো কর্মসূচি থাকবে?

কেন্দ্র থেকে যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে প্রথমত তাই পালন করা হবে। কিন্তু নিজেরা যদি মনে করি যে, কোনো ইস্যু নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত, তখন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের কথা চিন্তা করব।

কিন্তু গত বছর তো আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে বলে আপনাদের দলেই সমালোচনা আছে।

আওয়ামী লীগ আমাদের আন্দোলন মোকাবিলা করার জন্য যে জঘন্য প্রক্রিয়ায় গেছে তা নজিরবিহীন। কিন্তু সুখের খবর হচ্ছে, আমাদের নেতা-কর্মীরা এর মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই আগামীতে এই প্রক্রিয়াতে গিয়েও সরকার খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয় মনোভাবের কারণে ইতিপূর্বে আন্দোলন সফল হয়নি।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে জনগণকে আমরা দূরে রাখতে চেয়েছিলাম। জনগণ যেন এই প্রহসনের নির্বাচনে ভোট না দেয় সেই চেষ্টা ছিল। আমরা মনে করি, আমরা সফল হয়েছি। জনগণকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পেরেছি। প্রমাণ করেছি, দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।

কিন্তু নির্বাচন তো হয়েছে, সরকারও গঠন হয়েছে।

৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে এটা যে ত্রুটিপূর্ণ ছিল তা লুকিয়ে রাখা যাবে না। যেটা কালো সেটা সবার জন্যই কালো। সরকারি দলের জন্য এরকম, বিএনপির জন্য অন্যরকম এটা তো হতে পারে না।

আপনারা সংলাপের কথা বলছেন। কী বিষয়ে হবে এই আলোচনা?

আমরাও চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসুক। আমাদের আন্দোলন এ জন্যই। যদি সরকার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নেয় তবে সংলাপ হতে পারে। তা না হলে সংলাপ করে তো লাভ নেই।

আপনাদের আন্দোলনের ফলে যদি সরকার পতন হয় তবে নির্বাচন কার অধীনে হবে?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে।

কিন্তু সংবিধান থেকে তো এই পদ্ধতি তুলে দেওয়া হয়েছে।

তাতে কী? কথায় আছে প্রয়োজন কোনো নিয়ম মানে না। দেশের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হলে তা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সরকার বলছে বিএনপি ১/১১-এর মতো তৃতীয় পক্ষের হাতে আবারও দেশের ক্ষমতা দিতে চাইছে।

১/১১-এর মতো আর কোনো সরকার দেশের ক্ষমতায় আসুক এটা বিএনপি কখনই চায় না। আওয়ামী লীগ হয়ত নিজেদের স্বার্থে চাইতে পারে। কিন্তু সেই চেষ্টা আর কখনই সফল হবে না।

সরকারি দলের নেতারা বলছেন বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ চাইছে। এটা কতটুকু সত্য?

আমরা এদেশের জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করি। জনগণের সমর্থন আমাদের প্রতি আছে। এর সঙ্গে বিদেশিদের সমর্থন পাওয়া গেলে এটা আমাদের জন্য অতিরিক্ত পাওয়া হবে। ইতিপূর্বে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের সমর্থন ছিল।

ভারতে নতুন সরকার এসেছে। এই সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের কূটনৈতিক সমর্থন আশা করেন?

ভারতে নতুন যে সরকার এসেছে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে যে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের কাছে বড়, নাকি বিশেষ কোনো দলের সমর্থনে তারা কাজ করবেন। নিঃসন্দেহে এদেশের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা বেশি দরকার। তাই তারাও হয়ত সঠিকটা বুঝতে পারবেন। কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষমতায় থাকার লিপ্সাকে তারা প্রাধান্য দেবে না বলে মনে করি।

আগের মেয়াদেও আড়াই বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি ছিল। আপনারা কত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবেন?

দলের চেয়ারপারসন আমাদের দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যেই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চেষ্টা করব। যদি একদম না পারি তবে দলের কাছ থেকে সময় বাড়ানোর অনুমতি নিতে হবে।

আপনার সঙ্গে মির্জা আব্বাসের সমন্বয়হীনতার কথা বলা হচ্ছে...

পত্রপত্রিকাতেও এ নিয়ে খবর আসছে। আসলে এটা ঠিক নয়। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। যারা এর আগের কমিটিতে ছিলেন তারাও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সাদেক হোসেন খোকার জায়গায় মির্জা আব্বাস কতটুকু সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলে মনে করেন?

দুইজনই দলের জন্য মহামূল্যবান। ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে তাদের দুইজনেরই অবদান আছে। আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনিও দলের জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন। এখন যিনি দায়িত্ব পেয়েছেন তিনিও কম করবেন না। সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবেন।

এখনকার ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলো সাদেক হোসেন খোকার সময় করা। এই কমিটি আপনাদের ডাকে কতটুকু সক্রিয় হবে?

অতীতে যারা ছিলেন, এখন যারা আছেন এবং নতুন করে যারা আসবেন সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী। সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে চায়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। সবার লক্ষ্যই এক। লক্ষ্য যখন এক, তখন কর্মকা-ে ভিন্নতা থাকবে এটা আমি বিশ্বাস করি না।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আপনাদের কোনো প্রস্তুতি আছে?

দলের সব নেতা-কর্মী চাইছেন তারেক রহমান দ্রুত আমাদের মধ্যে ফিরে আসুক। পাশাপাশি দেশের আপামর জনগণও মন থেকে চাইছেন তিনি ফিরে আসুক। কারণ তারা দেখছেন যে, আমাদের আগামী দিনগুলো যদি সুন্দর করতে হয়, দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হয় তবে তারেক রহমানের মতো একজন উদার মনের রাজনীতিবিদ খুবই দরকার। ওনার কিছু শারীরিক অসুস্থতা আছে যেটার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয় বা বিদেশে চিকিৎসা ভালো, তাই সেখানে আছেন। সুস্থ হলেই তিনি দেশে ফিরবেন।

তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে রাজনৈতিকভাবে বেশি শক্তিশালী নাকি দেশে ফিরলে বেশি শক্তিশালী হবেন?

তিনি দেশের বাইরে থাকলেও এদেশের মানুষের মনের মধ্যেই আছেন। লন্ডনে থেকেও দলের কর্মকা-ে সক্রিয় আছেন। আর দেশে ফিরলেও তিনি একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। নতুন করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগাবেন।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যদি কোনো বাধা আসে তবে কী করবেন?

তিনি দেশে ফেরার জন্য যদি সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়, তবে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

অনেক ছাত্রনেতাকে দেখা গেছে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা হারিয়ে গেছেন। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আপনার ক্ষেত্রে কি এমনটি দেখব?

কখনই না। আমি এখনও নিজেকে নেতা নয়, কর্মী মনে করি। ছাত্র রাজনীতি করে যারা এ পর্যায়ে এসেছেন তাদের সবার মধ্যেই এরকম ধারণা আছে। আমি আমার কাজের ধারাবাহিকতা রাখব। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের যে দূরত্বের কথা প্রায়ই বলা হয়, তা দূর করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

নিউজ পেজ২৪/ইএইচএম