সাক্ষাৎকার

অগাস্ট ২১, ২০১৪, ৮:২০ অপরাহ্ন

সম্প্রচার নীতিমালার সংশোধন ও পরিমার্জন জরুরী

টেলিভিশন ও বেতারের জন্য প্রণীত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সংশোধন ও পরিমার্জন জরুরী বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য গোলাম রহমান। নিউজ পেজ২৪ ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মত দেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউজ পেজ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার গিয়াস আদদ্বীন সজিব।


দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সম্প্রচার নীতিমালাসহ সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে নিউজ পেজ২৪ ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূণ বিষয়গুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

আদদ্বীন সজিব: খসড়া সম্প্রচার নীতিমালাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
গোলাম রহমান: প্রত্যেক কাজেরই একটা নীতিমালা আবশ্যক। তারই অংশ হিসেবে সাংবাদিকতাকে একটি সুদূরপ্রসারী ও গ্রহণযোগ্য পেশায় পরিণত করতে একটি প্রসিদ্ধ নীতিমালা সংবাদ-কর্মীদের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল। বর্তমান সরকার এজন্য এগিয়ে এসেছে। সেটাকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটাকে কার্যকর করতে গিয়ে সরকার যে নীতিমালার খসড়া দিয়েছে, সেখানে অনেক বির্তকিত বিষয় রয়েছে। যেগুলোর সংশোধন, পরিমার্জন করতে হবে।
অথবা একটা সম্প্রচার কমিশন তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়া সবগুলো গণমাধ্যম মিলে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি একটা সম্মিলিত নীতিমালা হয়, সেটাই গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের জন্য ভাল হবে। যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।

আদদ্বীন সজিব: প্রতিটি সংবাদ মাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত আদর্শের সাথে এটা সাংঘর্ষিক হয় কি?
গোলাম রহমান: প্রতিটি গণমাধ্যমের বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্দশিক জায়গা থাকতেই পারে। আমার বক্তব্য হচ্ছে যে, আদর্শটা হচ্ছে জনগণের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য। সুতরাং এখানে মানুষকে যেন ভুল বুঝানো না হয়, বিভ্রান্ত করা না হয়, মিথ্যা বা একপেশে সংবাদ পরিবেশন করা না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। আর একটা বিষয়ে নজর রাখতে হবে, তথ্যকে যেন বিকৃত করে উপস্থাপন করা না হয়। বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে পারলে সংবাদ মাধ্যমগুলোর বা প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাধারা থাকলেও অসুবিধে নেই।


আদদ্বীন সজিব: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা পেশাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
গোলাম রহমান: গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম। আর গণতন্ত্রের বিকাশে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা যথেষ্ট এগিয়েছে। আজকাল পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, ও অনলাইন প্রত্যেকটি গণমাধ্যমই সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসবের মাধ্যমে গণতন্ত্র ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা যদি লক্ষ্য করি সংসদ কার্যমক্রমের দিকে, যেখানে বিরোধী দলের উপস্থিতি বা ভূমিকা নগণ্য। আর বিরোধী দল অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরী হয়। তখন সংবাদ মাধ্যমগুলো দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ভালমন্দ, দোষ-ত্রুটি ও সামগ্রিক বিষয়গুলো জনগনের সামনে তুলে ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

আদদ্বীন সজিব: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা পড়ালেখায় কতটুকু এগিয়েছে বলে মনে করছেন?
গোলাম রহমান: সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬২ সালে চালু হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু খ্যাতনামা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যেগকে স্বাগত জানাই।
আমি মনে করি, দেশের গণমাধ্যমগুলো যেভাবে দিন দিন বাড়ছে ঠিক সেভাবে প্রশিক্ষিত, দক্ষ, শিক্ষিত গণমাধ্যমকর্মীর বড়ই অভাব। তাই সাংবাদিকতায় পড়াশুনার বিষয়টি এখন সময়ের চাহিদা। আর এই চাহিদা পূরনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

আদদ্বীন সজিব: দেশে নারী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জকে কিভাবে দেখছেন ?
গোলাম রহমান: সাংবাদিকতা বিষয়টি আসলেই চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে পুরুষের পাশাপাশি অনেকটা ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারী সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের উপর আক্রমন করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। এটা পেশাদারিত্বের একটা চাপ। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। আমার মতে, নারী সাংবাদিক বলে তো কিছু নেই। সাংবাদিক সে যে কেউ হতে পারে। ইদানিং সাংবাদিকতা পেশায় নারীদের আগ্রহ ও এগিয়ে আসার বিষয়টি অবশ্যই এই পেশাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

নিউজ পেজ২৪/সজিব/একস