সম্পাদকীয়

অগাস্ট ২২, ২০১৪, ১২:২৯ অপরাহ্ন

নদী ভাঙ্গনরোধে টেকসই ব্যবস্থা জরুরী

দেশের বড় একটা অংশকে এখন বন্যার পানিতে গ্রাস করেছে। প্রতিদিন নিত্য নতুন এলাকা বানের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ডুবছে ফসল, বাস্তুভিটা, বাড়ছে নিত্য-নতুন দুর্ভোগ। উজানের ঢল ও প্রবল বর্ষণে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় লাখো মানুষ। দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হচ্ছে। গ্রামগুলোর সহস্রাধিক বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দিশেহারা হয়েছে পড়েছে গ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দারা। বাড়ি ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। ভিটেমাটি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে বিভিন্ন চর অথবা মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায়ও আশ্রয় নিতে হচ্ছে অসহায় মানুষগুলোকে।

মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। বন্যাদুর্গত মানুষ অভাবের তাড়নায় হাহাকার করছে। আশ্রয়হীন মানুষের ঘরে খাদ্য নেই, বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে বরাবররের মতই সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সহায়তা কেউ পায় কেউ পায়না। কিন্তু ত্রান সহায়তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রন এবং নদী ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা নেয়া।

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ রুপ ধারন করে নদী বক্ষে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভীটাসহ বিস্তীর্ন জনপদ। এ ভাঙ্গনের ফলে ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে বন্যা কবলিত জেলা গুলোর মানচিত্র। এ ব্যাপারে এখনই স্থায়ী সমাধান না নিলে এসব এলাকার সীমানা সংকুচিত হতেই থাকবে। বাড়বে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা। নদী শাসনসহ পরিকল্পিতভাবে কংক্রিট ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করে নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

নিউজ পেজ২৪/এইচএস/একস