সাক্ষাৎকার

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৪, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও মামলায় কোনো চাপ নেই

নিউজ পেজ ডেস্ক

দুর্নীতিবাজদের কোনো দল নেই। তাদের একটাই পরিচয়, তারা দুর্নীতিবাজ। প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও মামলা ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে সরকারের ওপর মহল থেকে কোনো চাপ নেই। এমনকি খোদ দুদকের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।

প্রতিবেদক : বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলা করছে দুদক। এতে সরকারের ওপর মহল থেকে কোনো চাপ আছে কি?
দুদক চেয়ারম্যান : ওপর মহল থেকে যদি চাপই থাকত, তাহলে কি আমরা সরকারের প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে পারতাম? তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু অনুসন্ধানই নয়, মামলাও করছে দুদক। আরো অনেকের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে দুদক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে না, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান করে এবং মামলাও হয়। দেখুন, আমরা শুধু রাজনীতিকদের না, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি-অনিয়মের অনুসন্ধান করছি। সরকারের পক্ষ থেকে বাধা থাকলে তো এভাবে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারতাম না। দুদক আগের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি আগামী দিনেও কাজ করে যাবে।

প্রতিবেদক : বিএনপির অভিযোগ- আপনারা সরকারের হয়ে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছেন...।
দুদক চেয়ারম্যান : দেখুন, যাঁরা ক্ষমতায় আছেন এবং যাঁরা ক্ষমতার বাইরে আছেন তাঁদের সবার দুর্নীতির খোঁজই আমরা নিচ্ছি। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি অনুসন্ধানেও কাজ চলছে এবং অব্যাহত থাকবে। বিএনপির অভিযোগ ঠিক নয়। তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে এখন তো কোনো নতুন মামলা হচ্ছে না। আগে যেসব মামলা হয়েছিল, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সেসব মামলার কার্যক্রম চলছে। দুর্নীতিবাজরা যে দলের হোক, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দুদক অনুসন্ধান করে এবং মামলা করতেও পিছপা হয় না। একসময় দুদক ছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। তখন দপ্তরটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ছিল। এখন দুদক স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এর পরও দুর্নীতি আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করছি।

প্রতিবেদক : বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও মামলা তো দূরের কথা, অনুসন্ধানও করেনি দুদক। আপনার অধীনে কমিশন সরকারি দলের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলাও করছে। দুদকের এমন শক্ত অবস্থান নেওয়ার নেপথ্যে কী?
দুদক চেয়ারম্যান : বিগত সরকারের সময় দুদকের ওপর নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হতো। এখন যে দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ না থাকা। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকার কারণেই দুদক বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করছে, মামলা করছে। সব শেষে আদালতে চার্জশিট দিচ্ছে। যখন আমাদের প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন ব্যুরো ছিল, তখন তো ছোটখাটো সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়েই বিপাকে পড়তে হতো । কয়েক বছর আগেও সরকারি দলের এমপির বিরুদ্ধে দুদক মামলা করার কল্পনাও করত না। এখন দেশবাসী কী দেখছে? কমিশন হওয়ার পর অনেকটা বদলে যেতে থাকে দুদক। ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়ে। এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছেন দুদকের কর্মকর্তারা। সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকা এবং আমাদের কর্মকর্তাদের দৃঢ় মনোভাবের কারণেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে দুদক।

প্রতিবেদক : দুদক কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে খোদ দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে...।
দুদক চেয়ারম্যান : হ্যাঁ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দুদক কর্মকর্তাদের পরিচয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতারণা করে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। আমাদের দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রতিরোধ টিম তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কয়েক দিন আগে আমাদের এক কর্মচারী মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে একজনের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়। অভিযোগটি পেয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। যে প্রতিষ্ঠানটি (দুদক) অন্যের দুর্নীতির খোঁজ করবে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাই যদি দুর্নীতি করেন- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি।

প্রতিবেদক : ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধে দুদকের বিরাট ভূমিকা আছে। এখন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হলেও সঠিক সময়ে সরবরাহ করে না। ব্যাংকের নিজস্ব আইনের কথা বলে তথ্য দিতে গড়িমসি করে। এ বিষয়ে দুদক নতুন কিছু ভাবছে কি?
দুদক চেয়ারম্যান : ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু ক্ষেত্রে যা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ কোনো দুর্নীতি নয়; রীতিমতো ব্যাংক ডাকাতি। এমন বড় দুর্নীতিই বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য অধিকার থেকে। ওই সব বড় ঘটনা দুদক সুচারুভাবে অনুসন্ধান করে মামলা করেছে, চার্জশিট দিয়েছে। দুদকের শক্ত অবস্থানের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরের অনিয়ম অনেকটা কমে আসছে। তবে আমরা জানি, কোনো দেশ বা সমাজ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। দুদক সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর দুদকের নতুন আইনে কমিশনকে তথ্য না দেওয়ার এখন আর কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি ব্যাংকই আমাদের তথ্য দিতে বাধ্য। আমাদের আইনেই পরিষ্কার বলা আছে, অন্য যেকোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, দুদকের আইনই প্রাধান্য পাবে। সুতরাং এখন আর ব্যাংকের নিজস্ব আইনের দোহাই দিয়ে তথ্য না দিয়ে উপায় নেই। তথ্য তাদের দিতেই হবে। দুদক কর্মকর্তারা এখন চাইলেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় সব ধরনের তথ্য পাচ্ছেন।

প্রতিবেদক : পাচার করা টাকা ফেরত আনতে দুদক কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
দুদক চেয়ারম্যান : দুর্নীতির ক্ষেত্রে এখন মানি লন্ডারিং মুখ্য হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে তারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করত না। তাদের হাত থেকে দেশের অর্থ ও সম্পদ রক্ষা করতে দুদক তৎপর রয়েছে। বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে আনতে দুদক ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে পাচার করা টাকা ফেরত আনা হয়েছে। আরো অনেকের পাচারের টাকা ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুদক।

প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা করার সময় দুদক বলেছিল, দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন সেই আলোচিত মামলায় সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ অনুমোদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনটি হওয়ার কারণ কী?
দুদক চেয়ারম্যান : ২০১১ সালে পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা দুর্নীতির তথ্য জানতে পারি। আমাদের প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তি ছিল মিডিয়ায় প্রকাশিত ও বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য। আর এমন একটি আলোচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থেই আমাদের মামলা করতে হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তদন্তে আমরা বস্তুনিষ্ঠ কোনো তথ্য-প্রমাণ পাইনি। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের টিমের সঙ্গে আমাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এমনকি কানাডার আদালতে সেই তথাকথিত রমেশের ডায়েরিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে দুদকের পক্ষ থেকে আমাদের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর, বর্তমানে সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কানাডায় পাঠানো হয়েছিল। তিনি দুইবার কানাডায় যান, কিন্তু সেখান থেকে মামলাটি দেশের আদালতে প্রমাণ করা যায় এমন তথ্যাদি সংগ্রহ করতে পারেননি। এর ফলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তবে আগামী দিনে যদি পদ্মা সেতু দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় তাহলে হয়তো পুনরায় এই দুর্নীতির ঘটনা নতুন করে ভেবে দেখা হবে।

প্রতিবেদক : দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আপনার কোনো বার্তা আছে কি?
দুদক চেয়ারম্যান : সাধারণ মানুষ দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে প্রভাবশালীরা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ করেছে সাধারণ মানুষ, প্রভাবশালীরা করেনি। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় দুর্নীতি আমরা প্রতিরোধ করব। এদের প্রতিরোধ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ দুর্নীতিবাজদের শিকড় অনেক গভীরে। যাঁরা দুর্নীতি করেন, তাঁরা সতর্ক হোন। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক কঠোরভাবে কাজ শুরু করেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। আর যেসব সরকারি কর্মকর্তা সরকারের পক্ষ থেকে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন, তাঁদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁরা যত বড় রাঘব বোয়ালই হোন না কেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাঁদের কারো নিস্তার নেই।

প্রতিবেদক : আদালতে শত শত মামলা রয়েছে দুদকের। বেশির ভাগ মামলায় দুদকের আইনজীবীরা হেরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বলেন, দুদকের আইনজীবীর দুর্বলতায় এমনটি হচ্ছে। এ বিষয়টি কিভাবে দেখেন?
দুদক চেয়ারম্যান : দুদকের যেসব আইনজীবী আছেন, হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া তাঁরা খুব বড় মাপের আইনজীবী নন। কিন্তু বড় দুর্নীতিবাজরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে দেশের প্রভাবশালী আইনজীবীদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করে। আমাদের আইনজীবীর সংকট রয়েছে। একেকজন আইনজীবীকে অনেক মামলা পরিচালনা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা উচ্চ আদালতে রিট করে মামলা স্থগিত করে রাখে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি।

প্রতিবেদক : তরুণদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে দুদক কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে?
দুদক চেয়ারম্যান : আমরা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে সততার আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততার জাগরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ‘সততা সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধে সারা দেশে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ নামে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে শিক্ষার্থীরা। এই কমিটি স্থানীয়ভাবে তরুণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করে থাকে। বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, উন্মুক্ত আলোচনা, সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচিরও আয়োজন করে তারা। এ ছাড়া আমাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি আছে। ওই সব কমিটিও স্থানীয়ভাবে কাজ করছে।

প্রতিবেদক : দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
দুদক চেয়ারম্যান : একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোই রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে। এ জন্য রাষ্ট্র ও জনগণকে দুর্নীতি নামের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে কি না, এর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই। তবে জনসচেতনতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমাজ থেকে দুর্নীতির মাত্রা অনেক কমে আসবে। দেশে যদি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক কার্যক্রম চালু থাকে, তাহলে দেখা যাবে একসময় কেউ দুর্নীতি করতে চাইলেও সে লজ্জায় দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। ইতিমধ্যে নতুন প্রজন্মকে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

প্রতিবেদক : দুর্নীতি প্রতিরোধে গণশুনানি কয়টি জেলায় শুরু হয়েছে এবং কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দুদক চেয়ারম্যান : দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করতে জেলায় জেলায় গণশুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম পাঁচটি জেলায় শুরু করা হয়েছে। এই গণশুনানির মাধ্যমে যেকোনো নাগরিক কমিশনের কাছে তার অভিযোগ সহজেই উত্থাপন করতে পারবে। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কিংবা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদক : প্রতি মাসেই কমিশনে শত শত অভিযোগ আসে। যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাও করা হয়। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে দুদক। এমনটি কেন হচ্ছে?
দুদক চেয়ারম্যান : দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, এমন আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুদক কাজ করে। কিন্তু দেশ ছেড়ে পালানোর কোনো আশঙ্কা না থাকলে সেই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় না। মামলার তদন্তের স্বার্থে দুদক কর্মকর্তা চাইলে আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেন। গ্রেপ্তার নিয়ে দুদকের কোনো দুর্বলতা নেই।

প্রতিবেদক : আপনাকে ধন্যবাদ।
দুদক চেয়ারম্যান : আপনাকেও ধন্যবাদ।


নিউজ পেজ২৪/এইচএস