সাক্ষাৎকার

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৪, ৮:৫৩ অপরাহ্ন

ঢাকার যানজট সমাধানের মূল উপায়

নিউজ পেজ ডেস্ক

ঢাকার আরেক নাম যানজট। এক সময়ের তীলোত্তমা ঢাকা এখন রীতিমতো নাকাল যানজটের কবলে। যানজট আর সড়ক দুর্ঘটনা যেন এখন নগরবাসীর জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকাতেই নয়, খুলনা, চট্টগ্রামসহ ঢাকার বাইরেও দেশের বড় বড় শহরগুলোতে এখন যানজট দেখা দিচ্ছে। মহাসড়ক থেকে শুরু করে সর্বত্র যেন এখন এক ত্রাসের নাম সড়ক দুর্ঘটনা।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের সকল প্রচেষ্টাই যেন ব্যর্থ হচ্ছে। কেন বার বার ব্যর্থ হচ্ছে তা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)এর এক্সিডেন্ট গবেষনা ইনিস্টিউটের সহকারী অধ্যাপক এস এম সোহেল মাহমুদ বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন ।

প্রশ্ন-১ : ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে নগরের সড়কগুলো নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না কেন?

উত্তর : রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ জায়গা হচ্ছে নিচু। তিন দিকে পানি। প্রসস্ত রাস্তা তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই এখানে। নিচু এবং সরু জায়গার কারনে ঢাকা সম্প্রসারিত হতে পারছে না।

প্রশ্ন-২: ঢাকায় যানজটের কবল থেকে কি সহসা মুক্তির কোন উপায় নেই?

উত্তর : ঢাকা কোন পরিকল্পিত নগর হবার মত নয়। অধিকাংশ জায়গা নিচু হবার কারণে অধিবাসীরা নিজের উদ্যোগে বাড়ী ঘর নির্মান করছেন। যার কারনে পাইলিং করতে হচ্ছে ৭০/৮০ ফুট পর্যন্ত। তারপর ও ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।

নিচু ভূমির কারণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তপক্ষ (রাজউক) বড় ধরনের কোন নির্মান কাজ করতে পারছে না। পরিকল্পিত নগর তৈরী না হবার কারণে মানুষের চাহিদা মেটাতে বর্তমান রাজধানী ঢাকা ব্যর্থ হচ্ছে।

সমতল জমির চরম সংকটের কারনে পাম্প মেশিনের মত নাকে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখার মত অবস্থা হচ্ছে নগরবাসীর। কারন মানুষের চাহিদা মত রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর সব কিছু নির্মান ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

প্রশ্ন-৩ : এই দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের পথ তাহলে কী?

উত্তর : ঢাকা সিটি আজ শুধু উত্তর দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারণ সেদিকে প্রচুর সমতল জায়গা আছে। ঢাকার ১০/১ ভাগ জায়গা দখল করে আছে সেনানিবাস। যার কারণে ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিমে কোন বড় রাস্তা তৈরী হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন শান্ত ও নিবিড় পরিবেশে হওয়া উচিত। সেখানে শিক্ষা ও গবেষনার জন্য পরিবেশ থাকা উচিত। কিন্তু ব্যস্ত নগরীর কোলাহলপূর্ণ স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হওয়ায় এখানে পরিপূর্ন গবেষনা হয় না।

পুরান নতুন উভয় ঢাকার বেশি জায়গা দখল করে আছে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলখানা, মেডিকেল কলেজ, পিলখানা ও গার্মেন্টস কারখানা। এত সব লোকের জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমানে পরিবহন। এসব কারনে রাস্তায় যানজট নিত্য দিনের ঘটনা।

প্রশ্ন-৪ : আপনি যেসব স্থাপনার কথা বলছেন তা ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া কি আদৌ সম্ভব?

উত্তর : পৃথিবীর কোথাও নগরের ভিতরে সেনানিবাস নাই। কিন্তু ঢাকা শহরে আছে। তাহলে কিভাবে রাস্তায় যানজট কমবে? কমলাপুর রেল স্টেশনে প্রতিদিন মালবাহী লরীগুলো আসছে। এতে দ্রুত গতির রেল চলার পথে বাধা তৈরী হচ্ছে। এটি যদি শহরের বাহিরে হত রেলের গতি আরও বাড়তে পারত।

গার্মেন্টস কর্মীদের সবাই আক্রমন করে কিন্তু সেনাবাহিনীকে তো কেউ আক্রমন করতে সাহস পায় না। চলচ্চিত্র নির্মাতা মিশুক মনির সহ দু:ঘটনায় নিহতের দায় বাসের ড্রাইভারের উপর দেয়া হয়। তার জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনাসহ কর্তা ব্যক্তিরাও দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলে না।

প্রশ্ন-৫ : যেসব স্থাপনা আপনি ঢাকা শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন-এর পেছনে আপনার আর কী যুক্তি আছে?

উত্তর : যেসব স্থাপনা নগর জীবনের সাথে সম্পৃক্ত হবে না তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে।এজন্য পরিকল্পিতভাবে বৃহৎ স্থাপনা নির্মান করতে হবে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেনানিবাস, জেল খানা সামরিক বাহিনীর হেড কোয়ার্টার শহরের বাইরে নির্মানের কোন বিকল্প নেই।


নিউজ পেজ২৪/ইএইচ