সম্পাদকীয়

অক্টোবর ১১, ২০১৪, ৯:৩৩ অপরাহ্ন

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা জরুরী

নিউজ পেজ ডেস্ক

ঈদের তিন দিনের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আর গত ঈদে অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের সময় দুর্ঘটনা ছিল আরো ভয়াবহ। শুধুমাত্র সারাদেশে ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুর, শেরপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, পাবনা ও সীতাকুণ্ডে পৃথক দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে। ঈদছাড়াও বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র শিহরিত হওয়ার মত।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এআরসি) গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয় ৩৫ হাজার।

অন্যদিকে, বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি দশ হাজার যানবাহনে মৃত্যুর হার ৮৫ দশমিক ৬। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছাড়াও আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণের হারও কম নহে। এই সমস্যা একটি সোশ্যাল বা সামাজিক ট্রাজেডিতে পরিণত হচ্ছে। দেশে নগরায়ন ও যানবাহনের যান্ত্রীকরণের হার যত বাড়ছে, একইসাথে পাল্লা দিয়া বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনাও। যেমন ২০১০ সালে বার্ষিক নগরায়নের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪%, সেইখানে মোটরগাড়ির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮%।

বিশ্বব্যাংকের আরেকটি তথ্য থেকে জানা যায়, জাতীয়, হাইওয়ে ও জেলার প্রধান সড়কগুলির ৪০% ভাল আছে। বাকি ৬০ ভাগ রাস্তাই খারাপ। তাছাড়া লক্কড়ঝক্কর মার্কা যানবাহন, অননুমোদিত যানবাহন এবং অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অদক্ষ তথা লাইসেন্সধারী নয় এমন চালকের সংখ্যাই বেশি এই দেশে। এই যখন অবস্থা, তখন সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটাটাই যেন অস্বাভাবিক।

এ অবস্থা নিরসনে এখনই দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া জরুরী। তা না হলে মানুষ ও যানবাহন বাড়ার সাথে দুর্ঘটনা মহামারী আকারে দেখা দেবে।

নিউজ পেজ২৪/একস