সাক্ষাৎকার

অক্টোবর ১৫, ২০১৪, ১০:২৮ অপরাহ্ন

পুরুষ পোষার চেয়ে বিড়াল পোষা অনেক ভালো: তসলিমা নাসরিন

নিউজ পেজ ডেস্ক:

ঢাকা: বির্তকিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন ঠিক বিশ বছর আগের এক আগস্ট মাসে।

মাঝের এই বিশটা বছরে ইউরোপ-আমেরিকা-ভারতের নানা প্রান্তে, নানা শহরে অবিরাম ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত এই লেখিকা। মাঝে কলকাতায় স্থায়ী হওয়া চেষ্টা করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তাকে সেই শহরে থাকতে দিতে রাজি হয়নি।

গত তিন-চার বছর ধরে ভারতের রাজধানী দিল্লিই তার ঠিকানা। ভিসা আর রেসিডেন্ট পারমিট নিয়ে অনেক টালবাহানা-র পর অবশেষে তিনি দীর্ঘমেয়াদে ভারতে থাকার অনুমতি পাবেন বলেও সম্প্রতি সরকার তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাসনের এই বিশ বছরের দিনরাত, সুখ-দু:খ দিল্লির অ্যাপার্টমেন্টে বসে তিনি কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে-

নিউজ পেজ পাঠকের জন্য তার সাক্ষাতকারটি দেওয়া হলো-

তসলিমা নাসরিন: একা থাকতে থাকতে বদ অভ্যাস হয়েছে গেছে। মানুষের ভিড়ে থেকে নিজেকে আলগোচে সরিয়ে একাই থাকি। বিড়াল পুষতে পুষতে এখন বিড়াল দেখলেই বিড়াল পুষতে ইচ্ছে করে। একা থাকার মেয়েরা নাকি বিড়াল পুষে। এখানে সেখানে ঘুরতে ঘুরতে এইটুকু জেনেছি যে, পুরুষ পোষার চেয়ে বিড়াল পোষা অনেক ভালো। কুড়ি বছরে কতো কি ঘটেছে, কতো শহরে থেকেছি কেতো দেশে থেকেছি আবার শহর পাল্টাছে কতো দেশে বদল করেছে। কোথায় মনে হয়নি যে আমি ভালো আছি। বা কোথায়ও মনে হয়নি যে আমার দেশ। যদিও ইউরোপের নাগরিকত্ব পেয়েছে। কিন্তু ইউরোপকে সত্যিকারে আমার নিজের দেশ বলে মনে হয়নি। সবসময় মনে হয় আমি আমার নিজের দেশে যাবো। আবার এখন কুড়ি বছর পর মনে হয়, আমার দেশে বলে কিছু নেই। মানুষ যারা আমাকে ভালোবাসে। যারা আমার লেখা পড়ে, বোঝে। যারা আমাকে শ্রদ্ধা জানায়। তাদেরকেই আমার দেশ বলে মনে হয়।

এরকম লোক পৃথিবীর সব জায়গাতেই আছে। যখন আমি ইতালি যাচ্ছি , যখন আমি নরওয়ে যাচ্ছি। ফ্রান্সের কতো মেয়ে আমার কাছে আসে। ফ্রেন্স মেয়েরা। তারা আমাকে বলে তোমার লেখা পড়ে আমরা শক্তি পাই। তুমি আমাদের অনুপ্রেরণা। তোমার লেখা আমাদের ভালো লাগে। তারা ভালোবাসে আমাকে। তাদেরকেই মনে হয় আমার দেশ। এখন দেশ বলতে আমি শুধু মাটি গাছপালা বাড়ি-ঘর। যেখানে আমার জন্ম হয়েছিল বা যেখানে আমি বড় হয়েছি সেটাকেই যে দেশ বলে মনে হয়, তা কিন্তু নয়। আমি কিন্তু তারপরও আমার দেশে ফেরার অধিকারের জন্য লড়াই করবো। যতো দিন বেঁচে থাকবো ততো দিন।

প্রশ্ন: পছন্দে হোক বা অপছন্দে হোক, ধরুন দিল্লিই গত তিন-চার বছর ধরে আপনার ঠিকানা। আপনি বললেন বহু শহর আপনাকে ঘুরতে হয়েছে। ঠাইনারা হতে হয়েছে। কিন্তু এই শহর গুলোকে কতোটা আপন করে নিতে পেরেছেন? ধরুন দিল্লি প্রসঙ্গেই বলি আপনি কতোটা দিল্লিয়াইট হতে পেড়েছেন, আপনি কি চাদনী চকরের করিম’স এ গিয়ে বিড়িয়ানী খান, বা দিল্লি হাটে গিয়ে বাজার করেন?

তসলিমা নাসরিন : হ্যাঁ সেটা আমি করি। সব শহরেই করি। মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীর সব জায়গায় আমার । ফ্রান্স আমার দেশ নয়। বাংলাদশে আমার দেশ যেহেতু আমি জন্ম নিয়েছি, তা কিন্তু নয়। এবং এই যে ধরুন আপনি দিল্লির যে জায়গার কথাগুলো বলেছেন। ওইগুলেতে আমি যায়। করিমসে গিয়ে বিরিয়ানি খাই। ওগুলোতো রাস্তা-ঘাট। দোকান পাট। আসলে দিল্লিাইট হতে যেটা দরকার সেটা হলো দিল্লির মানুষ আমাকে কতোটা আপন করে নিয়েছে। তবে যেখানেই যাই সাবই আমাকে আউডসাইড ভাবে। সবাই আমাকেভাবে ও তুমিতো অন্যদেশের। তুমিতো আমাদের নও।

প্রশ্ন: তাহলে সবাই আপনাকে ভাবে বাংলাদেশশ থেকে একজন নির্বাসিত লেখিকা। এটাই আপনার পরিচয়?

তসলিমা নাসরিন : হ্যাঁ। যদিও আমি ভারতে থাকতে থাকতে ভারতেই বিষয়ই বেশি জানি। এখানে সব ধরনের পত্রিকা পাচ্ছি। এখানকার টিভি খুলছি। বাংলাদেশের খবর কম পাচ্ছি। তাছাড়া, আমি আন্তর্জাতিক খবরতো পড়ছিই। আমি বিবিসি সিএনএন দেখছি। বাংলাদেশের খবর তো ওইভাবে আসে না। যদি না বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সব জায়গাতেই কিন্তু আমাকে বলা তুমি অন্য দেশের। সুতরাং; আমি যতোই আপন করে নেই। তারা কিন্তু একটা দেওয়াল রাখে। সে আমি সব দেশেই দেখেছি। এখনার কোনো প্রবলেম নিয়ে যখন আমি প্রতিবাদ করি। তখন কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে লেগে যায়। বলে যে তুমি বাইরের লোক আমাদের ভেতরের ব্যাপার নিয়ে কথা বলবে না। আরে আমি তো নিজেকে পৃথিবীর লোক ভাবি। তাই আমি পৃথিবীর সব ব্যাপার নিয়ে কথা বলি। কিছু আমেরিকায় উল্টাপাল্টা হলে করলে আমেরিকাকে গালাগাল করি। ইউরোপে প্রবলেম দেখলে ওটা নিয়ে কথা বলি। তো ভারতে থাকছি ভারত নিয়ে কথা বললে তোমাদের এতো গাঁ জ্বলে কেনো? না আবার বাংলাদেশ নিয়ে কথা বললে। তখন বাংলাদেশের লোক বলে.. কী? এই দেশ নিয়ে তোমার কোনো কথা বলার রাইটস নেই। এই দেশ তোমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। যে দেশে থাকছো সে দেশ নিয়ে কথা বলো। কিন্তু তার মানে তো আমি থেমে থাকি না। যেখানেই থাকি আমি লিখে যাচ্ছি। বই লিখছি, ব্লগ লিখছি।....

প্রশ্ন: এই লেখা প্রসঙ্গে আসছি। আপনি একজন লেখক এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি করেন। বাংলা ভাষাভাষি পরিমণ্ডল থেকে এতোদিন ধরে বাইরে থাকতে হচ্ছে- আপনার কি মনে হয় লেখালেখিতে তার প্রভাব পড়ছে?

তসলিমা নাসরিন : আমাকে যখন বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দিল, ১৯৯৪ সালে। তখন তো ইউরোপে গিয়ে পড়লাম। খুব চেষ্টা করতাম দেশে ফেরার জন্য। কিন্তু দেশে ফেরা তো সম্ভব হচ্ছিল না। কলকাতায় ফিরতে চাইলাম কিন্তু ভারত সরকার আমাকে ভিসা দেয়নি ছয় বছর। ছয় বছর পর ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ভিসা দেওয়া হলো। আমি সঙ্গে সঙ্গে চলে এলাম কলকাতায়। কিছুদিন থাকলাম। তারপর ভিসা শেষ হয়ে গেল। চলে যেতে বাধ্য হলাম। আবার ফিরে ফিরে আসতাম। প্রতি বছর আসতাম। আমি চাইতাম আমি একটা বাংলাভাষি পরিবেশে থাকি। যেখানে মানুষগুলো বাংলাভাষায় কথা বলছে, আমিও বাংলাভাষায় তাদের সঙ্গে কথা বলব। কারণ আমি বাংলাভাষায় লিখি। যদি বাংলাভাষা থেকে দূরে থাকি, বাইরে থাকি- আমার পক্ষে আর হয়তো বাংলাভাষায় লেখা সম্ভব হবে না। এটা আমি বিদেশে বসেই অনুভাব করছিলাম। ইংরেজিতে কথা বলতে হতো, অনেক সময় বাংলায় লিখতে গেলে কোনো শব্দ হয়তো খুঁজে পেতাম না, হাতড়াতে হতো। এই জন্যে বিদেশে সমস্ত কিছু ছেড়ে ২০০৪ থেকে যখন আমাকে রেসিডেন্ট পারমিট দেওয়া হলো আমি কলকাতায় বাস করতে শুরু করলাম। কেউ কি প্যারিস ছেড়ে কলকাতায় থাকে? আমি থাকলাম আমার ভাষার জন্য, আমার লেখা জন্য। বাংলার মানুষ তা বুঝলেও সরকার তো বোঝেনি। আমাকে যদি তাদের রাজনৈতিক ফুটবল বানানো যায়, আমাকে লাথি দিয়ে তাড়িয়ে দিলে যদি তাদের দুটো ভোট জোটে- তাই হলো। এতে আমার সর্বনাশ হলো কি না, আমি ভালো বই লিখতে পারলাম কি না সে কথা কে বুঝলো? তাড়িয়ে দিল।

প্রশ্ন : আপনাকে তাড়ানোরও কুড়ি বছর হয়ে গেল। কুড়ি বছরে উঠা-পড়াও নিশ্চয় ছিল? কোনটি উঠা, কোনটি পড়া বলে মনে হয়?

তসলিমা নাসরিন : দেখুন, বিদেশি বিভুঁইয়ে ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষার মধ্যে থাকলে এক সময় হতাশ হয়ে পড়ে মানুষ। আমি যদি কোনো মানুষকে খুন করতাম, বা আমি যদি সত্যি একজন ক্রিমিনাল হতাম, তখন দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলেও আমার একটা শান্ত্বনা থাকতো। কিন্তু মানুষের ভালোর জন্য লিখলাম, মানবতার জন্য লিখলাম, মেয়েদের সমান-অধিকারের কথা লিখলাম, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লিখলাম, এটা এতোই অন্যায় হয়ে গেল যেজন্য আমাকে তাড়াতে হবে? এই কুড়ি বছরে অনেক পুরস্কার পেয়েছি, যেগুলো আমি কল্পনাও করিনি। মুক্তচিন্তার জন্য ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট থেকে শাখারোপ পুরস্কার, সিমানদা বুফার পুরস্কার পেয়েছি ফরাসি সরকারের কাছ থেকে। কিন্তু এগুলোর চেয়েও বড় আমার কাছে যখন মানুষ এসে চোখের জল ফেলে। বলে তুমি আমাদের প্রেরণা, ওইটা আমাকে অনেক বেশি স্পর্শ করে।

প্রশ্ন : পেছন ফিরে তাকিয়ে কখনো কি এমন মনে হয়েছে- আমি যদি অন্যভাবে লিখতাম, আমার লেখায় যদি ঝাঁজ একটু কম হতো, তাহলে তো আমি বাংলাদেশে থাকতে পারতাম। আর পাঁচটা লোকের মতো নিজের দেশে নিজের ভাষার মধ্যে থাকতে পারতাম। এতোটা বাড়াবাড়ি করা হয়তো উচিত হয়নি। বা না করলেও হতো?

তসলিমা নাসরিন : না, এ রকম ভাবনা আসে না। আমার আগেও যারা মিন মিন করে নারীবাদের কথা বলতো, ওদের কথা কেউ শুনতো না। সমাজটাকে ধাক্কা দিতো না। কিন্তু ধাক্কা দেওয়ার দরকার ছিল। ধাক্কার ফল আমার জীবন দিয়ে সইলাম। কিন্তু মানুষ তো কিছুটা ভেবেছে এবং এই প্রসঙ্গ নিয়ে তো আলোচনা হয়েছে। এখন প্রচুর মেয়েরা লিখছে, বা ছেলেরা লিখছে। কিন্তু আমি সেই তেইশ বছর আগে যা লিখেছিলাম, সেই নির্বাচিত কলাম, সেই গুলোই লিখছে এখন। তখন যে রাগ ছিল আমার, যেভাবে আমি বলতে চেয়েছি- সেভাবেই বলেছি। আর মানুষের রাগ থাকা উচিত। রাগের প্রয়োজন আছে।

প্রশ্ন : এতো রাগ নিয়ে মনে করেন আবার বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন?

তসলিমা নাসরিন : আমার মনে হয় না আমাকে কেউ বাংলাদেশে ফিরতে দেবে। যদি দেয় সেতো খুব ভালো। কিন্ত বাংলাদেশে যতদিন এই ধর্মান্ধ লোকগুলো আস্ফালন করবে, বা ধর্মান্ধ লোকগুলো যতদিন আছে ততদিন সম্ভব হয়তো না। আমি কিছুরই জন্য অনুতাপ করি না। যা আমি লিখেছি, আমি তাই লিখবো। এখন আমার যদি নতুন করে জন্ম হয়, তথন যদি কেউ বলে তখন তুমি কি একটু অন্যভাবে লিখবে? না, আমি ঠিক এভাবেই লিখবো, যেভাবে লিখেছি। আমাকে ভুগতে হয়েছে। তবে পজেটিভ জিনিসটি হচ্ছে আমি অনেক দেশে, অনেক কিছু দেখেছি। অনেক লেখক আমাকে কাছে টেনে নিয়েছেন, আমি আরো বড় করে পৃথিবীটাকে দেখতে পাচ্ছি। হয়তো বাংলাদেশে থাকলে যে চোখটা আমার হয়েছে, মনটা আমার হয়েছে, এতোটা হতো না।

প্রশ্ন : ভারতে একটি নতুন সরকার এসেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্কে উন্নয়নে আগ্রহী এমনটাই বলা হচ্ছে। নতুন সরকার যদি বাংলাদেশে সঙ্গে আপনার ইস্যুটা উত্থাপন করে তাহলে একটা ব্রেকথ্রু হতে পারে।

তসলিমা নাসরিন : আমি সত্যিই চাই যে ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলুক। কারণ আমি ভারতে আছি, বলছি যে আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই। ভারত সরকার যদি বলে আমি খুবই কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি কংগ্রেস সরকারকে বলেছিলাম- আপনারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলুন। কারণ আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মূল্য দিয়ে আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ এতকিছুর ওপর নির্ভর করছে আপনাদের ওপর, সেখানে আপনারা তো একই শর্তটা দিতে পারেন যে- তোমারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মূল্য দেও, আমরা যেমনটা দিচ্ছি।

প্রশ্ন: কিন্ত সদ্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুরে এলেন বাংলাদেশ। ভিসা থেকে শুরু করে মৈত্রী এক্সপ্রেস, তিস্তা, স্থলসীমান্ত চুক্তি অনেক বিষয়ে আলোচনা হলো। তসলিমা নাসরিন সেই আলোচনায় এসেছে- তেমনটি শোনা যায়নি।

তসলিমা নাসরিন : না না, তসলিমা তো আর আসবে না। তসলিমা ছোট ব্যাপার এখানে। তিস্তা, রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় যেখানে সেখানে তো তসলিমা আসতে পারে না। আমি খুবই ছোট মানুষ। আমি বলেছি যে আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকব যদি তারা বলে। এইটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারের চেয়ে গণতন্ত্রের ব্যাপার। গণতন্ত্রের প্রধান যে পিলার, সেই বাক স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের অধিকারের ব্যাপার।

প্রশ্ন: কোনো অংকই যদি না মেলে, আমি বলতে চাইছি তসলিমা নাসরিনকে যদি আরো কুড়িটা বছর নির্বাসনেই কাটাত হয়, তসলিমা নাসরিন কীভাবে কাটাবেন সেটা কি কিছু ভেবেছেন?

তসলিমা নাসরিন : আমি তো আগে থেকে প্লান করে কিছু চলি না। আমি চলমান লোক, আমি যখন যা ইচ্ছে হয় তখন তাই করি। করতে চেষ্টা করি। সব সময়তো আর সম্ভব হয় না। যেমন ধরুন আমার এখন কলকাতায় যেতে ইচ্ছে করছে, আমি কি যেতে পারব? আমাকে যেতে দেওয়া হবে না। কুড়িটা বছর কীভাবে যাবে তা তো আমি আগে থেকে প্লান করে রাখি না। দুইদিন পর আমি হয়তো মরে যাব। তবে যেখানেই থাকি, আমি লিখে যাব এইটুকু জানি। যতদিন বাঁচি, যতদিন আমার মাথা কাজ করবে, ততদিন আমি যে কথাগুলো বলেছিলাম সে কথাগুলো বলব এবং আরো যদি নতুন আইডিয়া আসে সেই সব প্রকাশ করব।

নিউজ পেজ২৪/আরআই.