খোলা কলাম

জানুয়ারী ১, ২০১৫, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

ভালো আছি ভালো থাক, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখ

আব্দুল আজিজ মীর

রিয়াদঃ উপরের বাক্যটির সাথে বাংলাদেশিরা কম বেশি সবাই পরিচিত তাই ব্যাখ্যায় আমি যাবোনা। তবে প্রবাসের এই মরুর বুকে মধ্যম বয়সে এসেও ছাত্র জীবনের বন্ধুদের টিপ্পনী আদান-প্রদানের বাক্যটি বরাবর মনে পরে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় ও মহা বিদ্যালয় ইংরেজী মাধ্যম রিয়াদের বর্তমান অবস্থা কমবেশি সবাই জানে এবং যার যার মত করে ভাবছেন ও ব্যাখ্যা করছেন। সমস্যার সমধান আদৌ হবে কিনা তা কেউ জানেনা। তবে আমাদের সমস্যা কোন দিনই সমাধানের সম্ভাবনা নেই তা মোটামুটি নিশ্চিত।

ইংরেজী মাধ্যমে অধ্যয়নরত আমাদের প্রিয় সন্তানরা অত্যান্ত ভালো ফলাফল করেও বাংলাদেশে সরকারী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (যেমন প্রকৌশল ও চিকিৎসা বিদ্যায়) ভর্তি হতে পারেনা। অবশ্যই এটা প্রবাসী ছাত্রদের মেধার দুর্বলতা না, দুর্বলতা ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিগত প্রথার। তাই অনেককে বাধ্য হয়ে ভর্তি হতে হয় নাম সর্বস্ব ব্যক্তি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারটিও সীমিত। সীমিত বলছি এই জন্য কতজন অভিবাবকের সামর্থ রাখেন বিদেশে পাঠাতে তাদের সন্তানদেরকে আর মেয়ে হলে সামর্থ থাকলেও তাদের ভাগ্যের পরিনতি আরও ভয়াবহ। সর্বোপরি ভালো ফলাফল না করে বিদেশে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সম্ভাবনা নেই। আর বিদেশের বহু ব্যক্তিমালিকানাধীন নাম সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের কিচ্ছা কাহিনী প্রায় সংবাদ মাধ্যমের হেড লাইন হয়, বৃটেন তার মধ্যে সর্ব প্রথম।

তাই আমাদের সন্তানদের পড়াশুনার প্রতি নুন্যতম ভালোবাসা থাকলে মনে হয় কারো উচিৎ না এই সমস্ত অসহায়, অর্ধবিকলাঙ্গ বাচ্চাদের নিয়ে রাজনীতি করা। অর্ধবিকলাঙ্গ এই জন্য লিখলাম কারন বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সম্ভাবনা শূন্য। যদিও অনেক লেখা-লেখি এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবেদন নিবেদন করে আজও কোন সুফল পাওয়া যায়নি বা সম্ভাবনাও নেই।

অধুনা আমাদের কিছু অভিবাবকদের বিদ্যালয় নিয়ে তৎপরতা পড়তে বা শুনাতে ভালোই লাগে। আরব বসন্তের মত অভিবাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাহারা মনে হয় নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু চেষ্টার ফল যে বৃহৎ একটি শূন্য তা তাদের তৎপরতা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়। লাগাতার এসএমএস পাঠিয়ে যাচ্ছেন। প্রেরক NEW SMS অর্থাৎ মোবাইল নাম্বার নেই। সেই সাথে করে যাচ্ছেন লাগাতার ইমেইল। প্রেরক “আমাদের সন্তান আমাদের বভিষ্যত” বা “সত্যের সন্ধানে”। প্রেরকের ইমেল ঠিকানা নেই। ধরে নিলাম কিছু লোক সচেতন হচ্ছেন বা হবেন কিন্তু একত্রিত হতে কোথায় যোগাযোগ করবে?

সৌদি আরবের বাস্তবতায় সচেতনতারও সিমাবদ্ধতা আছে। যা টেকনোলজি সমৃদ্ধ ওই সমস্ত এসএমএস ও ইমেইল প্রেরকরাও জানেন তাই এই লুকোচুরি। আমার এক বিদ্যালয়ের অভিবাবক বন্ধুর কথার সময় আমাকে বলে বসলেব, বাংলাদেশ হলে ওই সমস্ত বা ওই লোকটাকে শিক্ষা দিয়ে দিতাম। আমি বললাম আমি আপনার এই কথার উত্তর দিব কিছু মনে না করলে। তিনি বললেন দেন, আমি তাহাকে আমার একটি নিদ্দিষ্ট আঙ্গুল দেখিয়ে বললাম কিছুই করতে পারবেন না।

পত্র-পত্রিকায় এসেছে ভিকারুন্নেসায় ভর্তির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা অভিবাবকদের দিতে হয়েছে ডোনেশনের নামে। মুনিপুরিপাড়া স্কুলের তথাকথিত ডোনেশনের সংবাদ করতে যেয়ে নারী টিভি সাংবাদিকের হাত মটকানী খেতে হয়েছে। সংসদে জনৈক এমপি সাবেহ বলেছেন “সরকারের বেঁধে দেয়া ফিতে স্কুল চালানো যাবেনা তাই বেশি ডোনেশন নিতে হয়”।

বাংলাদেশের ওই সমস্ত বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়ের অভিবাবকরা কি কম সচেতন? তাহলে তারা কেনো “শিক্ষা” দিতে পারছেনা? তাই চুপ করে থাকেন, চাপাবাজি বাদ দিয়ে। আমার ওই বন্ধু একটু নারাজ হয়েছে। তার ক্ষমতার দাপট সম্পর্কে আমার নেতীবাচক জবাবে কিন্তু বাস্তবতা তাই। আমরাতো আসলেই অসহায়।
আর নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোন কিছু না চললে সাধারণরা অসহায় থাকলে তাই স্বাভাবিক। হউক তা দেশে বা প্রবাসে।

তথাকথিত ক্ষমতার দাপট কারোরই দেখানো উচিৎ না। যাতে সমাজের ক্ষতি হবে। আর বিদ্যালয় নিয়ে তো অবশ্যই না। কারন এতে স্বার্থ রয়েছে আমাদের প্রিয় সন্তানদের। তাই আমাদের সব পক্ষকেই সীমিত ক্ষমতার দাপট দেখাতে হবে। তাতে উপকৃত হবে আমাদের সন্তানরা। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যে যার অবস্থান থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করলে তারা সফল হবে। ক্ষমতার দাম্ভিকতা চিরস্থায়ী নয়। অন্তত ইতিহাস তাই বলে। আর আকাশের ঠিকানায় থেকে এসএমএস ও ইমেল পাঠিয়ে কিছু কি হবে? উত্তর বড় একটি শূন্য। \

লেখকঃ সাংবাদিক, সৌদি আবরস্থ একটি ইউরোপিয়ান দূতাবাসে কর্মরত