খোলা কলাম

জানুয়ারী ১, ২০১৫, ৪:০৯ অপরাহ্ন

বেগম জিয়াকে কিছু বিষয় পরিস্কার করতে হবে ।। হাসান মামুন

হাসান মমুন

নানাভাবেই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, বিএনপি বিপাকে আছে। গাজীপুরের পর সারাদেশে দু’টি খুব দুর্বল হরতাল করার পর দলটির নেত্রী হঠাৎ যে সংবাদ সম্মেলন করলেন, তাতেও বোঝা গেল—বিএনপি অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। সাত দফা প্রস্তাব বা দাবি জানানোর সময় খালেদা জিয়ার কণ্ঠস্বরও সবল মনে হয়নি। আর এটা নাকি ধরা পড়েছে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও।

মজার ব্যাপার হল, ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে তাদের অনেকে ‘কঠোর কর্মসূচি’র ঘোষণা শুনতে চেয়েছিলেন। এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কঠোর কর্মসূচি মানে তো হরতাল। ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ আরেকটি হরতালের ডাক দিলেই বা কী হতো? বিএনপি কেন? জামায়াতও হরতাল ডেকে তা ‘সফল’ করতে পারছে না আগেকার মতো। হরতাল ভাবে সফল করা যায়, এটা কে না জানে। জ্বালাও-পোড়াও করে হরতাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতাও তারা এখন আর দেখাতে পারছেন না।

গত বছরের ৫ জানুয়ারিতে ‘গণতন্ত্র ধ্বংস’ হয়েছে কিনা জানি না, ধ্বংস হওয়ার মতো গণতন্ত্র এদেশে গড়ে উঠেছে কিনা— সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। তবে ওই দিনের পর থেকে সরকারকে শক্তিশালী হতে দেখছি। অধিকাংশ আসনে কোনো নির্বাচনই হয়নি, তো কী হয়েছে? সাধারণ নির্বাচন যে আইনগতভাবে বৈধ- উচ্চ আদালতে রিট করেও মিলেছে এ বক্তব্য। নির্বাচনের ‘রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা’র প্রশ্ন অবশ্য রয়েছে। এ জায়গায় বর্তমান সরকার যে উত্তীর্ণ নয়, সেটাও তো প্রমাণ করতে হবে।

৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করে সরকার একটি বছর পার করতে চলল—কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়া। এরই মধ্যে গোটা প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে অনেকে মনে করেন, প্রশাসন দিয়েই সরকার দেশ চালাতে এবং প্রয়োজনে বিরোধী দলকে মোকাবেলা করতে পারবে। রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এর পরিণতি কী হতে পারে, সে প্রশ্ন অবশ্য রয়েছে। আপাতত প্রশাসনের চাপ যে বিএনপির মতো বড় দলও মোকাবেলা করতে পারছে না, তা বেগম জিয়ার বক্তব্যেও স্পষ্ট।

তিনি নিজেদের হাতে গড়া এলিট ফোর্স বিলুপ্তির দাবি জানিয়েই যাচ্ছেন। খেয়াল করছেন না— জনগণ এ প্রশ্নে বিভক্ত। পুলিশের বিরুদ্ধেও তো প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। সেটাও কি তাহলে বিলুপ্ত করতে হবে? মাঝে তিনি সেনাবাহিনী নিয়েও বক্তব্য রেখেছিলেন। ওয়ান-ইলেভেন থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অবনতির দিকে। এ ক্ষেত্রে বড় কারণ নাকি ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। তিনি এখন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য করে চলেছেন, যা তার মুখে মানায় না। তার তো বোঝা উচিত, এটা পঁচাত্তর-পরবর্তী জিয়ার শাসনামল নয়।

ইতোমধ্যে ইতিহাসের অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। আর এখানে যার যা স্থান, তাকে সেটা দিতে হবে। ইতিহাসে তার পিতা জিয়াউর রহমানের যে স্থান, সেখান থেকেও তাকে মাইনাস করা যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, এসব বক্তব্য কেন দিচ্ছেন তিনি? তার দলেই বা এ নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে? সবাই কি স্বাগত জানাচ্ছেন একে কিংবা আদৌ দরকারি মনে করছেন? তবে বেগম জিয়া তারেকের এসব বক্তব্যকে সমর্থন করে আরেকটি ভুল করেছেন। সরকারকে চটিয়েছেন শুধু তাই নয়; বিএনপিকে কোনো ধরনের সমাবেশ করতে না দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত সমর্থন করা মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

দেশে বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে একটা বড় আবেগ সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে, এটা কেন বুঝবেন না বেগম জিয়া? একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পক্ষেও বড় আবেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারেও তিনি কিন্তু অবস্থান স্পষ্ট করেননি। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এমনভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে জোটসঙ্গী জামায়াত না চটে। প্রশাসনের চাপে জামায়াতে ইসলামীও কিন্তু এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দলটিকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, সে বিষয়ে বেগম জিয়ারও কোনো ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন বেগম জিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন একবার। কিন্তু সেটা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। পারলে রাখতেন না, তা কিন্তু নয়। তফাৎ হল, তার প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ফল ধরে রেখে দেশটা চালিয়ে যেতে পারছেন। দেশে সুশাসন নেই— বেগম জিয়ার এ উক্তির সঙ্গে অনেকেই হয়তো একমত হবেন। কিন্তু তার কারণ তো অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়। নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হলেও কমবেশি এ ধরনের শাসনই আমরা পেতাম। নব্বইয়ের পর থেকে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো কতটা কী সুশাসন নিশ্চিত করেছে, তার একটা মূল্যায়ন কিন্তু হতে পারে।

অনেকে তো মনে করেন, এ কালপর্বে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তীকালেই বরং কিছুটা সুশাসন নিশ্চিত হয়েছিল। গণতন্ত্র অবশ্য গিয়েছিল নির্বাসনে। কিন্তু ওই তন্ত্রেই বা কতটুকু কী ছিল? সত্যি বলতে, আমরা একের পর এক ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ করে গেছি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা ছাড়া। নির্বাচনটাকে ‘অর্থবহ’ও করতে পারিনি, যে কারণে রাষ্ট্রক্ষমতার হস্তান্তরটাই কেবল সম্পন্ন হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রাখা বেগম জিয়ার বক্তব্যে কিন্তু ওই দাবিটাই ব্যক্ত হয়েছে কেবল। বোঝা গেছে, তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরে পেতে চান এবং আর কিছু নয়। সেজন্য সাধারণ নির্বাচন ঘিরে যা যা করলে তার ও তাদের সুবিধা হবে বলে মনে হয়, সেসব দাবিই তুলে ধরেছেন। যেমন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার। যারা বিরোধী দলে থাকেন, তারাই এ দাবি তোলেন।

রাষ্ট্রের আর কোনো প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি তারা জানান না। যেন আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বা থাকলেও সেগুলো ঠিকমতোই ভূমিকা রেখে চলেছে! বেগম জিয়াকে কিন্তু এখন পরিষ্কার করে বলতে হবে, কখনো ক্ষমতায় যেতে পারলে সেটা দিয়ে তারা কী করবেন। দেশে সুশাসন নেই বলে হল্লা করলেই হবে না— বলতে হবে, নিজেরা কিভাবে সেটা নিশ্চিত করবেন। বেগম জিয়ার সুবিধা হতো, যদি কখনোই তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকতেন। কিন্তু তিনি ও তারা তো পরীক্ষিত! ওসব দূরের স্মৃতিও নয়। তবে একথা ঠিক, সুশাসনের পথরেখা না বাতলেও শুধু নেতিবাচক ভোটে ক্ষমতায় এসে যায় এ দলের বদলে ও দল।

সেজন্য একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তো হতে হবে। অগ্রহযোগ্য নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সেটাকে বাতিল করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে সে ক্ষেত্রে। কিন্তু বেগম জিয়া সুর নরম করতে চাইলেই তো সরকার নির্বাচন দেবে না। দিলেও বলবে— আমার/আমাদের অধীনেই নির্বাচনে আসতে হবে। আমাদের মনে আছে, ৫ জানুয়ারির পরপরই আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন বেগম জিয়া। সরকারও অবস্থান পাল্টে বলতে শুরু করল, ‘যথাসময়ে’ পরবর্তী নির্বাচন হবে। এটা ক্রমে তার পাকা অবস্থান হয়ে গেছে এমন একটা পরিস্থিতি দেখে যে, বিএনপি আন্দোলন জমাতে পারছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়া দাবি করেছেন, বিএনপি ‘সুসংগঠিত দল’। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এটা স্পষ্ট, দলটিতে সংহতি তো নেইই—উপরন্তু রয়েছে হতাশা। কাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কে জানে— বেগম জিয়া যেসব কর্মসূচি দিচ্ছেন, তাতে থাকছে না কোনো ধারাবাহিকতাও। মাঝে তিনি সিনিয়র নেতাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আবার বললেন, কর্মসূচি চলাকালে তারা মাঠে থাকছেন! এতে ‘হামলা-মামলার শিকার’ কর্মীরা তো ক্ষুব্ধ হবেই। আর কতদিন এমন একটা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, সেটা ভেবেও পেরেশান তারা।

আওয়ামী লীগ টানা একুশ বছর রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকেও সরকার গঠন করেছিল। বিএনপি পরপর দু’বার রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকে কতটা টিকে থাকতে পারবে, সে প্রশ্ন তাদের বৃত্তেও উঠবে এখন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী দু’বছরেও বিএনপিই প্রধানত ছিল চাপের মুখে। ওই নির্বাচনেও তারা ঠিকমতো লড়তে পারেননি। সে কারণে ফল খুবই হতাশাজনক হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রমে উঠে আসার জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব দেয়া জরুরি, তা কি দিতে পেরেছিলেন বেগম জিয়া? দলকেও শক্তিশালী করতে পারেননি, যে কারণে জামায়াতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হল তাকে। কিন্তু জামায়াত তো আন্দোলন করছিল নিজেদের নেতাদের বিচার থেকে বাঁচাতে।

এ জায়গাতেও বিএনপির আন্দোলন মার খায়। জ্বালাও-পোড়াও ধরনের আন্দোলনও একে দুর্বল করে ফেলেছিল ভেতর থেকে। তীব্রভাবে জ্বলতে জ্বলতে এটা এক পর্যায়ে নেই হয়ে যায়। তার ভেতর দিয়েই বিতর্কিত একটা নির্বাচন সেরে ফেলে সরকার। বেগম জিয়া ভেবে দেখতে পারেন— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও কি এটাকে খুব অগ্রহণযোগ্য বলেছে? আঞ্চলিক পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারত ছিল সরকারের পক্ষে। আর অপর শক্তিশালী দেশ চীন হয়ে পড়েছিল নিরপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের যেটুকু সমালোচনা ছিল— চীনের তাও ছিল না। এখন তারা আরও স্পষ্ট করে বলছেন, কোনো দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ যাবেন না। অব্যাহতভাবে ব্যবসা পেতে থাকলে তারা হয়তো আরও বেশি করে সরকারের জন্য সুবিধাজনক বক্তব্য দেবেন।

দেশে-বিদেশে বিএনপির পুরনো আস্থার জায়গাগুলো কিভাবে ও কতটা বিনষ্ট হয়েছে, সে বিষয়ে বেগম জিয়ার উপলব্ধি স্পষ্ট কিনা— তার বক্তব্যে সেটাও বোঝা যায় না। এ অবস্থায় বহুদিন ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে বিরাজমান মির্জা ফখরুল সাহেব মাঝে-মধ্যে কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। আন্দোলন কিভাবে গড়ে উঠবে বা সরকারকে কী কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যা বলেন, তা নিজে কতটা বিশ্বাস করেন বোধগম্য নয়। খবরে প্রকাশ, সংবাদ সম্মেলনে রাখা সাত দফা প্রস্তাব দলের স্থায়ী কমিটিতে আলোচিত হয়নি। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান এ বিষয়ে অবহিত আছেন নিশ্চয়ই?

বিএনপিতে যে গঠনতান্ত্রিকভাবেই কোনো ধরনের গণতন্ত্র চর্চা নেই— শুরু থেকে, এটিও তার জন্য একটা সমস্যা। এ সুবাদেই তারেক নেতা হয়ে ওঠেন রাতারাতি; আর দল ও দেশ পরিচালনায় সর্বনাশ ঘটে। শাসন পরিস্থিতির অবনতি শুধু নয়, দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার পর্যন্ত ঘটে তাদের প্রশ্রয়ে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতরতাও গুরুত্ব পায়নি তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বের কাছে। রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে ঘটে চলা দুর্নীতির বিষয়ে চূড়ান্ত উদাসীনতার জন্যও বেগম জিয়া তখন কম সমালোচিত হননি।

বর্তমানে এ থেকে উত্তরণ ঘটে গেছে বা যাবে, এমন দাবি করা যায় না। এমনটিও বলা যায় না, ৫ জানুয়ারি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি বলেই দেশটি রসাতলে গেছে। সরকারসহ রাজনৈতিক দলগুলো সুশাসন ও গণতন্ত্রের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ না থাকলে দেশ যেমন চলে, সেভাবেই চলছে। ক্ষমতাসীনদের বড় একটি সুবিধা হল, নতুন করে সরকার গঠনের পর মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেনি, যা একের পর এক ঘটেছিল ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়। ওটা ভেতর থেকে দুর্বল করে ফেলেছিল অনির্বাচিত সরকারটিকে।

বর্তমান সরকারকে যদি দুর্বলভাবে নির্বাচিত সরকারও বলি, তবে বলতে হবে সেটি ভাগ্যবান। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তাকে খাবি খেতে হচ্ছে না। সংসদে একটি পোষমানা বিরোধী দলও তারা পেয়ে গেছেন। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া তাকে একইসঙ্গে দিচ্ছে রাজনৈতিক ও নৈতিক জোর। জামায়াত নিয়ে বরং বিপাকে আছে বিএনপি। আর একাত্তর নিয়ে বিপাকে আছে জামায়াত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটটি আয়তনে আরও বড় হলেও তার ভেতরেও নাকি বেড়েছে অনৈক্য। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কীই বা বলতে পারেন বিএনপি নেত্রী? পরিস্থিতি বদলানোর জন্য তাকে বোধহয় আরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ভালো হতো— শুধু ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে’ আটকে না থেকে তিনি যদি সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বিষয়গুলো ক্লিয়ার করতে পারতেন। এখানে জামায়াত, জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতি বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়ও রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকিয়েও বেগম জিয়া চিন্তা করে দেখতে পারেন, ‘অবৈধ সরকার’টিও কেন অত চাপে নেই।

লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট