খোলা কলাম

জানুয়ারী ৩১, ২০১৫, ৭:০৩ অপরাহ্ন

বাচ্চাদের পরীক্ষার কথা ভাবুন

দিলরুবা সরমিন

২ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সেই ছেলেবেলা থেকে স্বপ্ন দেখা স্কুল জীবনের শেষ পরীক্ষা। ১৯৮৩ সালের ১০ মার্চ এর এই দিনটির কথা মনে পড়ে যায়। কী চরম পর্যায়ের স্বপ্নভরা টেনশন – দিন গোনা! মাত্র দশ দিনে শেষ হয়ে যাবে পরীক্ষা আর তারপর ফলাফল বের হতে হতে তিন মাস পার করা। অতঃপর কলেজ জীবন! আহ কী পরমানন্দ! স্বাধীন জীবন। কলেজে যাচ্ছি মানেই যেন বড় হয়ে যাচ্ছি।


পরীক্ষার পর কোথায় কোথায় বেড়াতে যাবো সেই পরিকল্পনাতেই সময় কেটে যেত। যাওয়া হোক বা নাই হোক স্বপ্ন দেখতে তো আর কোন বাঁধা ছিল না ! সেইসব দিনগুলোর কথা ভেবে আজ ৩২ বছর পর ও আমার একই রকম অনুভুতি কাজ করে।


৩২ বছর কেটে গিয়েছে কিন্তু আজো আমার সেই অনুভূতি প্রাণের গভীর থেকে দূর হয়ে যায়নি। তাই প্রতিবছর এই সব শিক্ষার্থীর জন্যে/পরীক্ষার্থীর জন্যে আমার অসীম শুভ কামনা থাকে। তারা যেন সুস্থ্য থাকে । নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে । সবাই যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ করতে পারে।


এইসব শুভ কামনা একজন প্রাক্তন ছাত্রীর। একজন সাধারণ মানুষের। একজন সাধারণ মায়ের। জীবনের প্রথম বড় ধরনের এই পরীক্ষা যেন শিশুগুলো নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে দিতে পারে। কিন্তু কীভাবে?


দিনে দিনে বাংলাদেশের অস্থির ও অসুস্থ রাজনীতি, ক্ষমতার মোহ, রাজনৈতিক সহিংসতা এমন নিষ্ঠুর, অমানবিক, নির্মম পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এইসব কোমলমতি শিশুদের কষ্ট, স্বপ্ন কোনদিক থেকেই বিবেচনায় আনে না রাজনীতিবিদেরা। আর তাই অযথা হরতাল, অবরোধ, সন্ত্রাস, বোমাবাজি করে বাচ্চাগুলির মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের পাঁয়তারায় লিপ্ত। কারণ এরা তো চায় না মেধাবী জাতি সৃষ্ট হোক–দেশ চালাক মেধাবীরা। দেশের হাল ধরুক মেধাবীরা । আর তারই নমুনা প্রতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় বা এইচএসসি বা আরো উচ্চ পর্যায়ের পরীক্ষার সময় যে কোনভাবেই হোক এই নোংড়া কর্মসূচি যা জনবান্ধবহীন সেই মারাত্মক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে বাচ্চাগুলোকে একটি জবুথবু পদার্থে পরিণত করতে।


আপাত দৃষ্টিতে এইসব কিছুই রাজনৈতিক কর্মসূচি মনে হলেও এই নিকৃষ্ট ও অসৎ কর্মসূচির পেছনে অনেক বড় উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। যা সাদা চোখে দেখা বা বোঝা যায় না । আমাদের শিশুরা যেন কোনভাবেই তাদের মেধা বা মননের বিকাশ ঘটাতে না পারে সেটার জন্যে যত রকম অপচেষ্টা করা যায় আমাদের রাজনীতিবিদেরা করে থাকেন। আমাদের শিশুরা যেন আগামী দিনে দেশের হাল শক্তভাবে ধরতে না পারে সেই জন্যে একটি মহল খুবই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করেই যাচ্ছে। আর আমরা? দিনের পর দিন এইসব অযৌক্তিক ও জন বিবর্জিত কর্মসূচিকে স্বাগত জানাবো?


এমনটি হতে পারে না। কখোনোই না। আজ কোন শিশুই আর নিশ্চিন্তে পড়াশুনা করতে পারছে না। আজ কোন শিশুই আর পরীক্ষার পর বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা করতে পারছে না । আজ কোন শিশুই আর ঘরে বাইরে নিরাপদ নয় । কেন ?

বাংলাদেশকে কেবল সরকারি বাহিনী দিয়ে পাহারা দেয়া সম্ভব নয় । বাংলাদেশকে – বাঙ্গালি জাতিকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসতে হবে । এই ধরনের অন্যায় ও রীতিমতো অপরাধমূলক কর্মসূচি প্রতিহত করতে হবে । প্রতিবাদ করতে হবে এই নরহত্যার – তাদের এই হত্যা যজ্ঞের। ঘৃণা জানাতে হবে এই জঙ্গিবাদের। পথে নামুন – আসুন সবাই মিলে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করি ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম’ রক্ষায়। কোমল মতি শিশুগুলোর পরীক্ষার নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আপনার আমার, সবার।


লেখক: আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী



নিউজপেজ২৪/ইএইচএম