খোলা কলাম

ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৫, ৯:৫৮ অপরাহ্ন

নির্বাচনটি না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিত কি?

ইকতেদার আহমেদ

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৪ জাতীয় সংসদের দশম নির্বাচন সংসদ বহাল থাকাকালে অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে বিধান ছিল তাতে উল্লেখ ছিলÑ মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের এ বিধানটি বলবৎ থাকাকালে সংসদ বহাল থাকাবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ ছিল না। জাতীয় সংসদের নির্বাচনসংক্রান্ত ওই বিধানটি ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাটিও নিয়ে আসা হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে বর্তমানের বিধানে উল্লেখ রয়েছে যে, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের নির্বাচনবিষয়ক এ বিধানটি ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নকালে প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অবধি যে ছয়টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এর কোনোটিই মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারায় সংসদ বহাল থাকাবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবশ্যকতা দেখা দেয়নি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৩ বছরের ইতিহাসে দেশটি ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা দ্বারা শাসিত হয়েছে। অবশিষ্ট সময় এ দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বহাল ছিল, যা বর্তমানেও কার্যকর আছে। প্রথম থেকে পঞ্চম এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে শেষোক্ত চারটি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বহাল থাকাকালীন অনুষ্ঠিত হয়। এ চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অধীনে ন্যস্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও সংসদ সামগ্রিকভাবে এ তিনটির গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির গুরুত্বের কাছে ম্লান ছিল। প্রথম সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের আগে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ থেকে নির্বাচিত সদস্য সমন্বয়ে যে গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল তা সংবিধান প্রণয়নের পর ভেঙে দেয়া হয়। সুতরাং প্রথম সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারব্যবস্থা কী ছিল তা বিবেচ্য নয়। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বহাল থাকাকালে অনুষ্ঠিত হলেও সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে এ নির্বাচনটি বর্জন করে।
বিরোধী দলের বর্জনের মুখে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের সময় ব্যাপক সহিংসতা হয়। এ নির্বাচনটিতে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য হলেও নির্বাচন-পরবর্তী যে ফলাফল ঘোষণা করা হয় তাতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ সংসদে একতরফাভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করিয়ে সংসদের অবলুপ্তি ঘটান। উল্লেখ্য, পঞ্চম সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তা ছাড়া পঞ্চম সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে পদত্যাগ করলে সে সংসদটিকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ভেঙে দিতে হয়। পঞ্চম সংসদ বহাল থাকাকালে যদিও বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দু’টি দলের পক্ষে সম্মিলিতভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল পাস করার সুযোগ ছিল কিন্তু সে সময় উভয় দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এ বিলটি পাস করা দূরের কথা অধিকন্তু আওয়ামী লীগ ওই সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। পরিহাসের বিষয় হলো- যে বিএনপি নীতিগতভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরোধী ছিল এবং এবং যে বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে বলেছিলেনÑ এ পৃথিবীতে পাগল ও শিশু ছাড়া অন্য কেউ নিরপেক্ষ নয় সে বিএনপি ও সে খালেদা জিয়াই এককভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করে সংসদের অবলুপ্তি ঘটিয়ে ওই সরকারের অধীন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে দেশকে অস্থিতিশীল, নৈরাজ্য ও বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

সপ্তম, অষ্টম ও নবম এ তিনটি সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করায় ত্রয়োদশ সংশোধনী-পরবর্তী এবং পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে যে বিধান ছিল সে অনুযায়ী অর্থাৎ সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী একটি সংসদের মেয়াদ সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর; তবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিতে পারেন যদিও অনুরূপ ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নন মর্মে রাষ্ট্রপতির নিশ্চিত হওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।

সাংবিধানিক সঙ্কট অর্থ সাংবিধানিক শূন্যতা। আমাদের অতীতের নির্বাচনগুলোর মধ্যে একমাত্র দশম সংসদ নির্বাচন ছাড়া অপরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচন মেয়াদ অবসান ছাড়া ভেঙে যাওয়ার কারণে সংসদের নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তম, অষ্টম ও নবম এ তিনটি সংসদ নির্বাচন মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ায় নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়; যদিও শেষোক্ত নির্বাচনটি সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।

আমাদের সংবিধানে সংসদ বহাল থাকা এবং না থাকা উভয় অবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান ছিল। অতীতে একাধিক সংসদ নির্বাচন সংসদ বহাল না থাকাবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সব নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে সংসদ বহাল না থাকার কারণে সাংবিধানিক সঙ্কটের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। সুতরাং অতীত অভিজ্ঞতা ধারণা দেয় সংসদ বহাল না থাকাকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং সংসদ ভেঙে যাওয়া পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা না গেলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দেয় না। যার অন্য অর্থ সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয় না।

আমাদের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অথবা তিনি সংসদ সদস্য না থাকলে তার পদ শূন্য হয়। কিন্তু অনুরূপ শূন্যতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হয়; তবে তারাও প্রধানমন্ত্রীর মতো তাদের উত্তরাধিকারীরা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ নিজ পদে বহাল থাকেন। আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অপরাপর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রীদের পদে বহাল থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তার সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে এবং প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করতে পারেন। একজন মন্ত্রী অনুরোধ রক্ষায় ব্যর্থ হলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে ওই মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এ ধরনের পরামর্শের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অন্যথা করার সুযোগ নেই।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান নির্বাহী। সরকারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান করা না গেলে সংসদ ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও তা প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করে না। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি নিজ পদে বহাল থাকার কারণে তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কট বা শূন্যতা সৃষ্টির অবকাশ নেই।

দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের পর দ্রুত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। দশম সংসদ নির্বাচনটি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা ছিল। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি আওয়ামী লীগ ও তার তৎকালীন মিত্র জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বর্জন করে। অন্য দিকে দশম সংসদ নির্বাচনটি বিএনপি ও তার বর্তমান মিত্র জামায়াতসহ জোটভুক্ত দল এবং অপরাপর কিছু দল বর্জন করে। ষষ্ঠ ও দশম সংসদের আগে পঞ্চম ও নবম যে দু’টি সংসদ ছিল এ দু’টির প্রথমটিতে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না অপর দিকে শেষোক্তটিতে আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।

এ কথাটি অনস্বীকার্য যে, পঞ্চম সংসদে এককভাবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে ওই সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর পদত্যাগ সত্ত্বেও তা ভেঙে না দিয়ে ওই সংসদের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করানোর সুযোগ ছিল। অপর দিকে নবম সংসদে আওয়ামী লীগের এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পক্ষে নির্বাচনটি আয়োজনের আগে বিরোধী দলের সাথে সমঝোতায় উপনীত হয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ ছিল। পঞ্চম সংসদে বিএনপির সে সুযোগ না থাকায় এ দলটি ষষ্ঠ সংসদের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলটি পাস করিয়ে সে সংসদের অবলুপ্তি ঘটান। নবম সংসদে আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এ দলটির পক্ষে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাথে সমঝোতায় উপনীত হওয়ার সুযোগ ছিল। এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন যে সহিংসতা হয়েছিল নির্দ্বিধায় বলা যায় তা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

দশম সংসদ নির্বাচনটি কিরূপ হয়েছে এবং সে নির্বাচনটিতে ভোটার উপস্থিতি কেমন ছিল সে বিতর্কে না গিয়ে ওই নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের পর আওয়ামী লীগ যদি অতীতে বিএনপির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী উদাহরণ অনুসরণ করত তা হলে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠানের এক বছরের মাথায় আমাদেরকে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় পড়তে হতো না।

দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিরোধী দলের চেয়ে সরকারি দলের দায়িত্ব বেশি। নবম ও দশম উভয় সংসদে সংবিধানে সংশোধনী আনয়নের মতো প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে রাজনৈতিক সঙ্কটটি ক্ষমতাসীন দল অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করে চলেছে। এ অবজ্ঞা ও উপেক্ষার পরিণতি শুধু সরকারি দল ও বিরোধী দল নয়, দেশের জন্যও শুভ নয়। আর তাই দশম সংসদ নির্বাচনটি না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট বা শূন্যতার সৃষ্টি হতো এ ধরনের অজুহাত না দেখিয়ে সংসদে সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দেশী বা বিদেশী অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে তারা নিজেরাই সঙ্কট উত্তরণে উদ্যোগী হবেন এটিই এখন তাদের কাছ থেকে দেশবাসীর প্রত্যাশা।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com