খোলা কলাম

ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৫, ১০:০৩ অপরাহ্ন

আপোসহীন হার্ড লাইন বনাম গণতান্ত্রিক নমনীয়তা

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছিল। সেটি যে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার নির্বাচন ছিল না—সে কথাটি দেশের কোনো মহল অস্বীকার করে না। অনেকে সেটিকে ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন’ বলে চিত্রায়িত করে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন যে নির্বাচনটি সংবিধান সম্মত হলেও তা ছিল একটি ‘পোকা খাওয়া নির্বাচন’। কেউ কেউ আবার তাকে ‘খালি মাঠে গোল দেয়ার প্রহসনের নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। সে যাই হোক! ৫ জানুয়ারির সেই নির্বাচনের পর দেশে একটি নতুন বাস্তবতার উদ্ভব ঘটেছিল। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সৃষ্টি হয়েছিল রাজনৈতিক কৌশল পুনঃবিন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত জোট ও মহাজোট সে কর্তব্যের প্রতি একেবারেই দৃষ্টিপাত করেনি। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি মোকাবেলার’ রাজনৈতিক কৌশলে কোনো মূলগত হেরফের ঘটায়নি। যা চলছিল, সেটিই অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে একবছর আগের নৈরাজ্যপূর্ণ সহিংসতা-সংঘাতের পরিস্থিতি আবার ফিরে এসেছে। এবং তা ফিরে এসেছে আরও ভয়াবহতা নিয়ে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দু’সপ্তাহের মাথায় ‘হার্ড লাইন থেকে সরে আসার এখনই সময়’ শিরোনামে আমার একটি লেখা দৈনিক ইত্তেফাকে (২০ জানুয়ারি সংখ্যার উপ-সম্পাদকীয়) ছাপা হয়েছিল। সে লেখায় আমি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-এই উভয় দলকে তাদের রাজনৈতিক কৌশল পুনঃবিন্যস্ত করে, জামায়াত-শিবির চক্রের বিরুদ্ধে শক্ত ও কঠোর ‘হার্ড লাইন’ অনুসরণের জন্য পরামর্শ দিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, দেশ-বিরোধী ‘রাজাকার’ শক্তিকে কোণঠাসা ও একঘরে করার কৌশল গ্রহণ করুন। সেই সাথে বলেছিলাম, আপনারা পরস্পরের প্রতি ‘হার্ড লাইন’ কৌশল অনুসরণের পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক নমনীয়তা ও সমঝোতার ‘নরম লাইন’ গ্রহণ করুন। তাহলে জনগণ শান্তি পাবে, গণতন্ত্র রক্ষা পাবে, দেশ বিপদমুক্ত হবে। কেন তা করা দরকার এবং তা না করলে কি ধরনের বিপদ সৃষ্টি হতে পারে সে আশংকার কথা যুক্তি দিয়ে আমার লেখায় আমি উপস্থিত করার চেষ্টা করেছিলাম। কোন শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ‘হার্ড লাইন’ নিতে হবে এবং কাদের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক নমনীয়তার ‘নরম লাইন’ অনুসরণ করা প্রয়োজন—সে বিষয়ে আমার পরামর্শের প্রতি দল দু’টি কান দেয়নি। ফলে, যেসব ঘটনা ঘটার আশংকা আমার লেখায় সেদিন প্রকাশ করেছিলাম, সেগুলোই বর্তমানে বাস্তব সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আমার সতর্কবার্তা ও কৌশল বদলের পরামর্শ যে কতো সঠিক ছিল তা তুলে ধরার জন্য সে লেখাটি থেকে বেশ লম্বা অংশ উদ্ধৃত করছি।

দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক বছর আগের সেই লেখায় আমি বলেছিলাম­—‘নতুন এই রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সামনে দুটি মোটা দাগের রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণের সুযোগ রয়েছে। তারা মুখোমুখি-কনফ্রনটেশনের কৌশল অব্যাহত রেখে অগ্রসর হওয়ার পথ নিতে পারে। কিম্বা তারা সেই পথ ছেড়ে বিবাদের কতগুলো ক্ষেত্রে সমঝোতা করে, অবশিষ্ট বিতর্কিত বিষয়গুলো মীমাংসার জন্য গণতন্ত্রের নিয়মতান্ত্রিক পথ গ্রহণ করতে পারে। প্রথমটি হলো সংঘাতের পথ, আর দ্বিতীয়টি হলো গণতান্ত্রিক সমঝোতার পথ।’
‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যদি তাদের ৫ জানুয়ারি ‘নির্বাচন’-পূর্ব রাজনৈতিক কৌশল বদল না করে, তাহলে দেশের রাজনীতির অঙ্গন আবার উত্তপ্ত, সংঘাত-হানাহানিপূর্ণ ও নৈরাজ্যময় হয়ে উঠবে। বিএনপি জামায়াতকে সাথে নিয়ে সারাদেশে আবার সহিংস তাণ্ডবের আগুন ছড়িয়ে দিতে উদ্যত হবে। এসব সন্ত্রাসী অভিযান পরিচালনার জন্য বিএনপি আরো বেশি করে জামায়াত নির্ভর ও তার দেশদ্রোহী এজেন্ডা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। বিএনপি... সরকারের কাজকর্ম পরিচালনায় প্রবল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সরকার ও তার মহাজোটকে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কঠোর নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হবে। সরকার আরো বেশি মাত্রায় স্বৈরতান্ত্রিক ও একনায়কত্ববাদী প্রবণতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়বে। এর প্রায় সবটুকু আঘাত এসে পড়বে প্রধানত দেশের শ্রমজীবী মানুষসহ আম-জনতার উপরে। জামায়াত ও বিএনপির সহিংস তাণ্ডব... এবং সরকারের দমন-পীড়ন-স্বৈরাচারী প্রবণতার ‘কোলেটারেল ড্যামেজের’ শিকার হবে আম-জনতা, খর্ব হবে তাদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারগুলো ও বিপদাপন্ন হবে খোদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সহিংস সংঘাত নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় চলে যেতে পারে। এমতাবস্থায় চরম অরাজকতার মুখে গণতন্ত্রের ওপর খড়গ নেমে আসতে পারে। এমনকি দেশের অস্তিত্বও বিপদাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।’

“আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই যদি এরূপ ‘হার্ড লাইন’ বহাল রাখে তাহলে গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হওয়ার বিপদের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেক আওয়ামী দরদিকে বলতে শোনা যায় যে, এরূপ বিপদের ভয় নেই। সবকিছু ‘ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেয়া হবে’। কিন্তু বিনা জনসমর্থনে শুধু প্রশাসনিক ‘ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করার’ পদক্ষেপ কি কখনো টেকসই হতে পারে? অপরদিকে বিএনপি দরদিদের অনেকেই বলে থাকেন যে ‘আন্দোলনের’ (আন্দোলনের নামে সহিংস তাণ্ডব ও দেশ অচল করে দেয়া) মাধ্যমে সরকারকে পরাজয় মেনে গদি ছাড়তে বাধ্য করা যাবে। ‘আন্দোলনের’ নামে এ ধরনের সহিংস তাণ্ডবে জামায়াতের ক্যাডারদের পাওয়া যাবে, কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ পাওয়া যাবে না। তাতে বরঞ্চ জনগণ আরো বেশি বিমুখ হবে। মাঝখান থেকে ‘কোলেটারাল ড্যামেজে’ আগুনে পুড়ে, বোমার আঘাতে, রেল-অন্তর্ঘাতে নিহত-আহত হবে জনগণ। ফলে বিএনপি-জামায়াত মিলেও এই পথে সরকারকে নামাতে পারবে না। বিএনপির জন্য এধরনের ‘হার্ড লাইনের’ কৌশলও টেকসই হবে না।’

“যে কৌশল টেকসই (sustainable) হবে না, সেরূপ ‘হার্ড লাইন’ কৌশল দু’টি দলকেই যুগপত্ভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। শুধু এক পক্ষ তা পরিত্যাগ করলে সেটি ফলপ্রসূ হবে না। কারণ কোনো এক পক্ষের ‘হার্ড লাইনের’ প্রতিক্রিয়ায় অপর পক্ষকেও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে অনুরূপ ‘হার্ড লাইন’ নিতে হবে। ৫ জানুয়ারির পরেও কোনো পক্ষ থেকেই ‘হার্ড লাইন’ অব্যাহত রাখাটা নিছক আত্মঘাতী পাগলামী করা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। এই পথের পরিণতি হলো ধ্বংস, বিপর্যয় ও আত্মবিনাশ। তা একমাত্র জামায়াতসহ পাকিস্তানের দালাল সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট শক্তি অথবা বাংলাদেশের বিনাশ সাধনে আগ্রহী কোনো বৈরী বিদেশি শক্তি ছাড়া আর কারো কাম্য হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচাল করার উদ্দেশ্যে মরিয়া হওয়ার কারণেও জামায়াত ‘হার্ড লাইনের’ পথ অব্যাহত রাখার পক্ষে থাকবে।’

“হার্ড লাইনের রাজনৈতিক কৌশল বাদ দিয়ে সমঝোতার পথ গ্রহণ করা হলেই কেবল গণতন্ত্র ও দেশকে রক্ষা করা যেতে পারে। গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের বামপন্থিদের ও শ্রমজীবী মানুষদের মৌলিক স্বার্থ আছে। গণতন্ত্র খর্বিত হলে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবে ও তাদের সংগ্রামের পথ আরো কঠিন হবে।... তাই, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ‘হার্ড লাইন’ বাদ দিয়ে সমঝোতার পথ গ্রহণ করলে বামপন্থি ও শ্রমজীবী মানুষদেরই লাভ। দুই বুর্জোয়া দলের বৃত্তের বাইরে বিকল্প শক্তির স্বাধীন বিকাশের স্বার্থে বিকল্প এজেন্ডা সামনে আনার কাজেও সেটি তাদের জন্য সহায়ক হবে। বামপন্থিরা ছাড়াও দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক, উদারবাদী, মানবতাবাদী সব দল ও শক্তি এবং ব্যাপক জনগণও এই পথকে সমর্থন করবে।”

“একমাত্র জামায়াত প্রভৃতি শক্তির মৌলিক স্বার্থ অগ্রসর হবে যদি ‘হার্ড লাইনের’ রাজনৈতিক কৌশল অব্যাহত থাকে। তাই সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি প্রয়োজনীয় শর্ত হলো—জামায়াতকে পরিত্যাগ করা। বিএনপিকে জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করতে হবে। আওয়ামী লীগকেও জামায়াতকে কোনোভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়ার অঙ্গীকারসহ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনীতির অঙ্গনে ‘জামায়াত কার্ড’ নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হবে।’

“সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার পরিবেশ তৈরির জন্য বিএনপিকে সহিংসতার পথ পরিত্যাগ ও আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জেল, মামলা, নির্যাতন, নিবর্তন ইত্যাদির ‘হার্ড লাইন’ ছাড়তে হবে।...”
এক বছর আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রচিত একটি লেখা থেকে এতো বড় উদ্ধৃতিটি তুলে দেয়ার কারণ হলো এই কথাটি প্রমাণের চেষ্টা করা যে, সেসব যুক্তি বক্তব্য আজও সমানভাবে সত্য। সেই সাথে একথাও তুলে ধরা যে, বড় দু’টি বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল যে রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে ও যে রাজনৈতিক (অপ) সংস্কৃতি লালন করছে তা দেশ ও জনগণের জন্য বিপর্যয়কর ও মারাত্মক বিপজ্জনক। বাস্তব ঘটনাবলী সে কথা প্রমাণ করলেও তারা সেই পথ থেকে সরে আসছে না।

আমার এসব বক্তব্য সম্পর্কে আপত্তি করে বলা হতে পারে যে, বিএনপি ও জামায়াত তো একই ২০-দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে একটির ক্ষেত্রে ‘হার্ড লাইন’ ও অন্যটির ক্ষেত্রে ‘গণতান্ত্রিক নমনীয়তার’ অনুসরণের কি কোনো যুক্তি থাকতে পারে? হ্যাঁ পারে। স্বৈরাচারী এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করেছে। এখন এই দলকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেয়া হয়েছে। তার অর্থ কি এই যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে এক পাল্লায় মাপতে হবে? আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি যেমন এক নয়, বিএনপি ও জামায়াতও এক নয়। এমনকি দু’টি দলই বুর্জোয়া দল হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিও এক নয়। দু’টিকে এক পাল্লায় মাপা যায় না।

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন যে, হার্ড লাইন নিতে হলে তা তো সবচেয়ে আগে বিএনপির বিরুদ্ধে নেয়া উচিত। কারণ সেটিই হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের প্রধান ক্ষমতা-প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াত আদর্শগত ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও যেহেতু তার কাছ থেকে এখনই ক্ষমতার প্রশ্নে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, তাই তার বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বর্তমানে প্রধান গুরুত্ব না দিলেও চলবে। বিএনপির আশ্রয়ে জামায়াত শক্তি পাচ্ছে। তাই বিএনপিকে কুপোকাত করতে পারলে জামায়াত আপনা আপনি, অথবা অল্প চেষ্টাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই বিএনপিকে কুপোকাত করার জন্য জামায়াতের ক্ষেত্রে সরাসরি ‘হার্ড লাইন’ অনুসরণের বদলে তার সাথে ‘ম্যানুভার’ করার কৌশল গ্রহণ যুক্তিযুক্ত। অনুরূপভাবে যুক্তি দেয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে যে, বিএনপি আওয়ামী লীগকে মূল টার্গেট করে জামায়াতকে সাথে নিয়ে চলার যে কৌশল অনুসরণ করছে সেটিই যথাযথ ও সঠিক। এসব যুক্তি কি গ্রহণযোগ্য? মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরঞ্চ তা আত্মঘাতীমূলক। অথচ কয়েক দশক ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে জামায়াতই বরঞ্চ এর সুযোগে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পেরেছে। সমাজে সাম্প্রদায়িক বিপদ বেড়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের অবস্থানই আরো দক্ষিণপন্থি হয়ে উঠছে। দেশ আরো প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলকেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘হার্ড লাইন’ গ্রহণ করতে হবে। পক্ষান্তরে দু’টি দলকেই পরস্পরের প্রতি ‘হার্ড লাইনের’ বদলে ‘গণতান্ত্রিক নমনীয়তার’ পথ অনুসরণ করতে হবে। এটিই জনগণের কাম্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কি সেরূপ কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দিতে সক্ষম হবে? এ বিষয়ে জনগণের মনে সন্দেহ বাড়ছে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)