খোলা কলাম

মার্চ ১৬, ২০১৫, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং চলমান বাংলাদেশ

ইমরান হোসেন মাসুদ

সাবাশ বাংলাদেশ! বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেটাররা প্রথম পর্বের এক খেলা বাকি থাকতেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। পুরো দেশ আনন্দে উদ্বেলিত! দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়েছে। অ-নে-ক দিন পর বাংলার মানুষ মন খুলে উল্লাস করার উপলক্ষ্য পেয়েছে। ইদানিং মন খুলে হাসার মতো ঘটনাও কমে গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লদের একজনকে মাঠের খেলায় হারিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আমাদের ছেলেরা। এই মোড়লদের কেউ কেউ নিকট অতীতে আমাদের সাথে সিরিজ খেলতে অনিহা প্রকাশ করেছে। সময় এসেছে মোড়লদের সময়োচিত জবাব দেয়ার। এ জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চের চেয়ে উপযুক্ত আর কী হতে পারে?


অধিনায়ক মাশরাফি এই জয় মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসর্গ করেছেন। খেলা শেষে কথা বলার সময় মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে অধিনায়ক আমাদের মনে করিয়ে দিলেন যে, এখন মার্চ চলছে। বাংলাদেশের জাতীয় শত্রুদের অপকর্মের প্রতিউত্তর দেয়ার উপযুক্ত সময় মার্চ। এদের কারো সাথে এই বিশ্বকাপেই মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা আছে। আমি বিশ্বাস করি, ছেলেদের মাথায়ও এটা আছে। অধিনায়কের কথা শুনে এ ব্যাপারে আমার অন্তত আর কোনো দ্বিধা নেই। সত্যিকার অর্থেই দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হলেই কেবল এ ধরনের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া সম্ভব। আর দেশপ্রেম কোথাও কিনতে পাওয়া যায় না। এটা মজ্জাগত। এর সাথে পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও বোধ হয় কিছুটা দরকার হয়।


এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দল মানসিকভাবে যে অবস্থানে রয়েছে তাতে নির্দিষ্ট দিনে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। অতীতে কে কী করেছে একদিনের ম্যাচে সেসব হিসাব এখন আর তেমন কাজে আসে না। ম্যাচের দিন কে কতটা পারফর্ম করতে পারলো, সেটাই আসল। খেলার শুরুতে আমাদের জাতীয় সংগীতের সাথে পতপত করে উড়তে থাকা জাতীয় পতাকা দেখেই মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। দারুণ জয়ে সবাই আবেগাপ্লুত। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ক্রিকেটারদের। এটা তাদের প্রাপ্যও। তবে আমাদের সাপোর্টারদেরকেও আপনি অবহেলা করতে পারবেন না। এমন ডাই হার্ট সাপোর্টার সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
খেলা শেষে আমার এক বন্ধুকে ফোন করে বললাম- কনগ্রাচুলেশন! বাংলাদেশ তো জিতে গেল।
বন্ধুটির জবাব ছিলো- ভাই অনেক কষ্ট কইরা খেইল্যা জিতলাম কিন্তু। ঘাম ছুইট্যা গেছিলো।
কথাটি এমনভাবে বললো, আমার মন ছুঁয়ে গেলো। আমি মনে করি এটাই তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন প্রকৃত সাপোর্টারের প্রতিকৃতি। জান-প্রাণ দিয়ে সাপোর্ট বলতে যা বোঝায়।


অন্য যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকে, সেদিন এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের সবার জীবনে। এবারো হয়েছে। চলমান রাজনীতিও বাদ যায়নি। অ-নে-ক দিন পর ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয়ের শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ বিএনপি নেত্রী ১২ ঘণ্টার জন্য হরতাল শিথিল করেছেন। তবে হাতের পাঁচ রেখে দিয়েছেন। একবারে উঠিয়ে নেননি। অর্থাৎ ভাবটা এমন- হ্যাঁ খুশি হয়েছি কিন্তু অতটা না। মনে হয়, আরো দু’একটা ঐতিহাসিক জয় দেখাতে পারলে হরতাল- অবরোধ পুরোপুরিই উঠিয়ে নেবেন তিনি। অতীতে বেশ কয়েকবার ক্রিকেট- কেবলমাত্র ক্রিকেটের জন্যই সবকিছু ভুলে বাংলার মানুষ এক হয়েছে। আমি ক্রিকেটারদের বলি- বয়েজ, জাস্ট ডু ইট ফর বাংলাদেশ।


এই যে, ক্রিকেট খেলায় জয়ের খুশিতে বিএনপি নেত্রী ১২ ঘণ্টার জন্য হরতাল শিথিল করেছেন। তাতে সবাই খুশি হয়েছে। আমার তো মনে হয়, এতে তার রাজনৈতিক ক্ষতি হয়নি, লাভই হয়েছে। তবে খেলার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ব্যবস্থার কথা ভেবে পরীক্ষার দিনগুলোতেও তিনি এভাবে ৬ ঘণ্টার জন্য হরতাল শিথিল করতে পারতেন। এতে তাদের লাভই হয়তো হতো। কী জানি, তাদের হয়তো ভিন্ন ম্যাথামেটিক্স থাকতে পারে। আমার মতো সাধারণের এন্টেনায় এগুলো ধরতে পারার কথা নয়। সাধারণের হয়ে রাজনীতিকদের কাছে আমার শুধু একটাই চাওয়া- আপনারা যা খুশি করুন, দয়া করে আমাদের শান্তি নষ্ট করবেন না। আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণ হিসেবে এটা খুব বেশি চাওয়া নয়। আর ক্রিকেটারদের কাছে একটাই চাওয়া- বয়েজ, মাঠে যে কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সামর্থের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে জয়টাকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করো। আহ্! আরেকটা জয়, অনন্য আরেকটি অর্জনের সামনে বাংলাদেশ। শুভকামনা টাইগার্স!
নিউজ পেজ২৪/ইএইচএম