শিল্প সাহিত্য

মার্চ ১৭, ২০১৫, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

জাতীয় শিশু দিবসের কথা

নিউজপেজ ডেস্ক

‘শিশুদের হাতেই আগামীর পৃথিবীর ভার’ ‘শিশুরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের কর্ণধার’, এসব স্লোগান শুনতে শুনতে তোমাদের কান হয়তো ঝালাপালা হয়ে গেছে। কান ঝালাপালা হোক আর যাই হোক কথাগুলো কিন্তু একেবারে মিথ্যে নয়। আর তাইতো তোমাদের কথা ভেবেই বড়রা একটি দিনকে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর মার্চ ১৭ এটি পালিত হয়। ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিন সরকারি ছুটি থাকে। আর ইরানে পালন করা হয় অক্টোবর মাসের ৮ তারিখে। তোমরা হয়তো ভাবছো।

কেবল একটি দিনই যে তোমাদের জন্য তা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে শিশু অধিকার সপ্তাহ, ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’, ‘কন্যা শিশু দিবস’ এসবও পালন করা হয় । অবশ্য একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে তোমরা দেখতে পাবে যে বছরের প্রতিটি দিনই তোমাদের দিন, প্রতিটি দিনই শিশু দিবস। কারণ শিশুদের আদর্শ মানুষ হিসেবে, শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে এবং জাতির কর্ণধার হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বাবা-মা প্রতিটি দিনই চেষ্টা করে থাকেন। বাবা-মা ও অভিভাবকের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও শিশুদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে । তাদের এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই প্রতি বছরের একটি দিনকে বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। এই শিশুরাই বিশ্বের ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করে। শিশুদের সংরক্ষণ, কল্যাণ ও শিক্ষার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্যে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তারপরও ফুলের মতো শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সংখ্যা-ক্ষতিগ্রস্ত সৈনিকদের চেয়েও বেশি। কেবল যুদ্ধই যে শিশুদের ভালভাবে বেড়ে উঠার পথে বাধার সৃষ্টি করছে তাই নয়, দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা ও প্রাণঘাতী রোগ শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করছে।

জাতিসংঘের প্রকাশিত এক তথ্য থেকে দেখা গেছে, উন্নয়নমুখী দেশগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার শিশু অনাহারে মারা যাচ্ছে। তাছাড়া এইডস রোগের কারণেও অসংখ্য শিশুর ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর এইডস রোগে আক্রান্ত ৪ কোটি ৩ লাখ লোকের মধ্যে ২৩ লাখ হচ্ছে ১৫ বছরের কম বয়সের শিশু।

বাংলাদেশের শিশুরা ভালো অবস্থায় নেই। ২০০৬ সালের হিসাব অনুযায়ী ৪৯ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে বাংলাদেশে। অভাবের তাড়নায় তারা রাস্তায় পাথর ভাঙে, গার্মেন্টসে কাজ করে, ঠেলাগাড়ি চালায়, কাগজ কুড়ায়, পার্কে ফুলের মালা বিক্রি করে এমনকি এ বয়সেই চুরি করছে ও পকেট মারার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তারা ভালোভাবে বেড়ে উঠার কোনো স্বপ্ন দেখে না। কোনোমতে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারলেই তারা খুশি হয়। কিন্তু অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ সব ধরনের মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত থাকায় তারা দুর্বিসহ জীবন যাপন করে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের শিশুদের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগই শিশু। বর্তমানে সেদেশে প্রায় ৩৮ কোটি শিশু রয়েছে। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিশু শ্রমিক রয়েছে ভারতে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ৫০ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। এছাড়া দেশটির ৬৫ ভাগ শিশুই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার। ভারতের স্কুলগুলোতে লিঙ্গ বৈষম্যও করা হচ্ছে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কন্যা শিশুর ভ্রুণ হত্যা দেশটিতে মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে।

আমরা আশা করি, শিশুদের সব অধিকার বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বের সকল দেশের সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এগিয়ে আসবে। আর এজন্য আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। ‘শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন, শিশু পাচার বন্ধ করো’ কেবল এসব স্লোগান দিলেই হবে না। এ ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশুদের শিক্ষা যাতে নিশ্চিত করা যায় সেজন্য সরকারকে আরো বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এই শিশুরা যাতে অকালে শেষ হয়ে না যায় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। তারা যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে পারে এই জন্যই ওদের মা-বাবাকে বুঝাতে হবে ওদেরকে যেন স্কুলে পাঠায় যাতে করে কমপক্ষে প্রাইমারি শিক্ষাটা অর্জন করতে পারে।

স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা হিসাব-নিকাশের জন্য কারো কাছে যেতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। অন্ধ মানুষরা যেমন একজনকে ছাড়া চলতে পারে না ঠিক অশিক্ষিত মানুষও কোনোকিছু না বুঝে অন্ধের মতো থাকে। কিছু লিখতে হবে বা পড়তে হলে অন্যকে ছাড়া চলে না। তাই আমাদের উচিত ওই সমস্যার শিশুকে শিক্ষাদান করা যাতে ওদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর ও সফল হয়। আমরা সবাই মিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিশুশ্রম প্রতিরোধ সম্ভব।

নেট থেকে সংগৃহিত।

নিউজ পেজ২৪/আরএস