শিল্প সাহিত্য

এপ্রিল ১০, ২০১৫, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

বৈশাখী সাজে চারুকলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকৃতিতে কাল বৈশাখীর হানা। বসন্তের বিদায় নেওয়ার পালা। হাতছানি দিয়ে ডাকছে বাঙলা নববর্ষ ১৪২২। বাঙালি জাতিকে উৎসবের রঙে রাঙাতে তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।

মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনে নিরলস পরিশ্রম করছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’। মঙ্গলের আহ্বানে নতুন বছর শুরু হবে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

চারুকলার শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দিন-রাত কাজ করছেন। বৈশাখের এই সমগ্র আয়োজনের দেখাশুনায় আছেন মৃৎশিল্প বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করবে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন। আর সার্বিক তদারকের দায়িত্বে থাকেন স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা থাকেন পরামর্শকের ভূমিকায়। বরাবরের মতো এবারও অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনকে প্রধান করে বর্ষবরণ উদযাপন কমিটি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অনেক নামি শিল্পী ও শিক্ষকদের কাজের আলাদা পরিবেশের তাগিদে অন্যবারের চেয়ে ব্যতিক্রম আয়োজন হিসেবে রয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ২ নম্বর জয়নুল গ্যালারিতে চলমান এই ক্যাম্পে এরই মাঝে কাজ করে গেছেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, তরুণ শিক্ষক বিশ্বজিৎ গোস্বামী, অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারুকলার প্রবেশমুখে চারপাশে টেবিল সাজানো আর তাতে মগ্ন হয়ে কাজ করছেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী। কেউ সরাতে বিভিন্ন চিত্রপট আঁকছেন, কেউ বা মাটির ট্যারাকোটা বানাচ্ছেন, কেউবা আঁকছেন জলরঙের ছবি। এর সঙ্গে আছে চারুকলার শিক্ষকদের আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম।

আরও আছে নানা ধরনের কাগজের তৈরি পাখি ও মুখোশ। ছবি, সরা, পাখি, মুখোশ এসব বিক্রিও হচ্ছে। শৌখিন ক্রেতারাও আসছেন চারুকলার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এসব শিল্পকর্ম কেনার জন্য। আর বিক্রির টাকা দিয়েই আয়োজন করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রার। চারুকলার ভেতরের মাঠে চলছে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরি কাজ।


শিক্ষার্থী জুয়েল বলেন, এবার মূলত বাঙালির গর্বের বিষয় নিয়েই আমরা কাজ করছি। ২৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, কয়েকজন উদ্যমী তরুণ আর শিক্ষকের হাত ধরে। সেই শোভাযাত্রাই আজ দেশের আনাচে-কানাচে মানুষের প্রধানতম উৎসবে পরিণত হয়েছে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের গানের আসরেই শেষ নয়, সেখানে আরো বড় কিছুই যোগ করেছে চারুকলা অনুষদের এই উদ্যোগ।

বাংলা বছরের প্রথম দিনে ঢাবি তথা পুরো ঢাকা সাজবে ভিন্ন সাজে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর জনসাধারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অনুষ্ঠান হবে তিন দিন। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় চৈত্র সংক্রান্তি উৎসবে থাকবে লোকগান। ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের মূল আয়োজন শুরু হবে সকাল সাড়ে ছয়টা বুকুলতলায় বৈশাখী গান আর নাচের মধ্য দিয়ে।

সকাল ৯টায় চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভা বের হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা রূপসী বাংলা হোটেল, মৎস্য ভবন, দোয়েল চত্বর ঘুরে আসবে। এরপর অনুষদের পশ্চিম পাশে সারা দিন ধরে চলবে পুতুলনাচ ও চড়ক। পরদিন সন্ধ্যায় বকুলতলায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা 'রক্তাক্ত প্রান্তর'।

১৯৮৯ সাল থেকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। প্রতিবারের মতো পহেলা বৈশাখের এই আয়োজনে ব্যত্যয় ঘটছেনা এবারও। এটি মঙ্গল শোভাযাত্রার ২৭তম আয়োজন।

নিউজ পেজ২৪/আরএস