স্বাস্থ্য

মে ৮, ২০১৫, ৮:৪৯ অপরাহ্ন

কথায় কথায় লো ব্লাড প্রেসার

অধ্যাপক ডা. একেএম মোস্তফা হোসেন

আমরা অনেকেই আছি যারা কথায় কথায় লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ বলে থাকি। শরীরটা দুর্বল বা মাথা ঘুরালেই এ শব্দটা বেশি উচ্চারিত হয়। আসলে জেনে বা না জেনে অনেকেই লো ব্লাড প্রেসারকে দায়ী করে থাকে। আসলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। আমরা জানি যে, সাধারণত ডায়াস্টলিক রক্তচাপ যদি ৬০ বা ৫৫ নিচে থাকে তাহলে তাকে আমরা নিম্ন রক্তচাপ বলি। আবার যদি সিস্টলিক রক্তচাপ ৯০ বা ৮০ এর নিচে থাকে তাহলে তাকেও আমরা নিম্ন রক্তচাপ বলে থাকি। আমাদের দেহে খুব নিম্ন রক্তচাপের কারণে প্রত্যেকটা শিরা ও কোষগুলোতে পুষ্টি এবং অক্সিজেন পরিমাণ মতে সরবরাহ না হওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবে মস্তিষ্ক রেচনতন্ত্র বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীর যদি বেশি হালকা বা বেশি মোটা হয় তাহলেও নিম্ন রক্তচাপে আক্রান্ত হয়।

নিম্ন রক্তচাপের কারণ : সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া না গেলেও সাধারণত যেসব কারণে নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : যেমন খুব মারাত্দক রক্তশূন্যতা * পুষ্টির অভাব হলে * কোনো কোনো ওষুধ ব্যবহারের ফলে * অনেক দিন ধরে কোন কঠিন রোগে ভোগার জন্য। * অনেক দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ডায়াবেটিস রোগ থাকলে। দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতা বা মানসিক রোগ থাকলে। * বেশি বা কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করা বা বিশ্রাম ছাড়া জীবনযাপন।

নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ : নিম্ন রক্তচাপ হলে রোগীর মধ্যে যেসব লক্ষণগুলো দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : * রোগীর প্রচণ্ড মাথাব্যথা করে এবং স্মরণশক্তি লোপ পায়। কোন কাজ করতে গেলে ভালো লাগে না এবং অল্প কাজ করলেই হাঁপিয়ে পড়ে। * শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায় এবং মাথা ঘোরা থাকে। এক জায়গা অনেক সময় বসে থাকলে বা এক কাজ অনেক সময় ধরে করার পর যদি হঠাৎ করে উঠে দাঁড়ায় তাহলে চোখে অন্ধকার দেখতে পায় এবং চোখ মুখ উল্টে ফেলতে পারে। * রোগীর হজম শক্তি কমে যায়, খাবার ভালো লাগে না এবং অনেক সময় জ্বর এবং সর্দি কাশি লেগে থাকে * রক্তচাপ মাপা হলে দেখা যাবে যে সিস্টোল ৯০ এর নিচে এবং ডায়াস্টল ৫৫ এর নিচে নেমে যায়। * আবার অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কে যদি অক্সিজেনের সরবরাহ কম হয় তাহলে সেই রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং শরীর ঘামতে থাকে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পথ্য : লো ব্লাড প্রেসার হলে রোগীকে যেসব পথ্য বেশি বেশি খাওয়াতে হয় তা হলো :

* শাকসবজি, মাছ, ডিম, দুধ, মাংস সব কিছুই খাওয়া যায়। * শিং মাছ, মাগুর মাছ, কচি মুরগির গোশত, ঘি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। * প্রচুর পরিমাণ কলিজা এবং নিহারী খাওয়ালে ভালো হয়। * কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার আগে চিকিৎসা করতে হয়।

সুতরাং নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে কোনো অবহেলা নয়।

লেখক : বক্ষ্যব্যাধি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকা।


নিউজ পেজ২৪/আরএস