সম্পাদকীয়

জানুয়ারী ১, ১৯৭০, ৬:০০ পূর্বাহ্ন

তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়

নিউজ পেজ ডেস্ক

কয়েকদিন আগে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। নিজ বাসায় খুন হলেন পুলিশের এক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী। পুলিশের কাজ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর সেই পুলিশের কর্মকর্তাদের যখন এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন তখন জনমনে আতঙ্ক বাড়ে বৈকি!

দুঃখজনক সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শোনা গেল এর নেপথ্যে আরো মর্মান্তিক ও ভয়াবহ কাহিনী। পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আর তার স্ত্রীকে খুন করেছে তাদেরই বড় মেয়ে ঐশী ও তার বন্ধুরা।

খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে ঐশী মাদকাসক্ত ছিল। সে ইয়াবা সেবন করতো। তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে জানা গেছে যেকোনো জিনিস চাওয়ার সাথে সাথেই এনে দিতে হবে এমন অভ্যাস ছিল ঐশীর। বাবা মা হয়তো সব সময় সব আবদার পূরণ করতেন না, তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে। ইতিমধ্যে সে তার অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।

ঘটনা শুনে সবাই হতবাক। শুধু বাবা মার প্রতি অভিমান করে কি সন্তান তাদের খুনের পরিকল্পনা করতে পারে। একি আদৌ সম্ভব। ঘটনা যতই অবিশ্বাস্য হোক বাস্তবতা হচ্ছে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে।

এক সময় যে তরুণদের কাছে অ্যাডভেঞ্চার মানে ছিল বন্ধুদের সাথে লুকিয়ে, বাসায় না জানিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সেই তরুণরাই আজ বন্ধুদের সাথে মিলে কী অবলীলায় বাবা মাকে খুনের পরিকল্পনা করে ফেলে।

এর পেছনে কী কারণ আছে তা হয়তো সমাজ বিজ্ঞানী আর মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আমাদের জানাতে পারবেন। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ একটু চিন্তা করলে এর পেছনে কিছু কারণ আবিস্কার করতে পারবো। আমরা কি আমাদের ছেলে মেয়েদের আজকাল অনেক বেশি ভোগবাদী সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছি না? জীবন মানেই ভোগ, জীবন মানেই প্রাচুর্য এই চিন্তাতো আমরাই আমাদের সন্তানদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছি।

ছোট বেলা থেকেই সন্তাদের বাবা মা প্রতিনিয়ত উৎসাহ দেন ভালো করে পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। নিদেন পক্ষে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করতে না পারলে জীবন ব্যর্থ! কিন্তু শিক্ষার মানে যে মানবিকতার বিকাশ, নৈতিকতার চর্চা সেটা আমরা আমাদের সন্তাদের শেখাতে ভুলে গেছি। ফলে শিক্ষার উদ্দেশ্য হয় শুধু টাকা কামানো আর প্রাচুর্য পূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা।

ঐশী অতি বিলাসিতায় জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এ ধরনের ছেলেমেয়েরা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। জীবনে লক্ষ্যহীন এইসব তরুণ-তরুণীরা এখন এক ধরনের হতাশা থেকে ঝুকছে মাদকের দিকে। ফলে এখন সমাজের চিরায়ত সম্পর্কগুলো ভেঙে যাচ্ছে। মা বাবারাও বিলাসিতার পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়ালে সন্তনরা তাদের শত্রু মনে করছে।

তরুণ সমাজই একটা সমাজের মূল শক্তি। তরুণদের এই ধরনের নৈতিক অবক্ষয় আমাদের জন্য অশনি সংকেত। এখনই সচেতন হওয়া না গেলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরো বিপর্য় অপেক্ষা করছে।