জুন ২০, ২০১৫, ৬:১০ অপরাহ্ন

নবজাতককে বাঁচাতে ‘কলিজার টুকরা’ দান করলেন বাবা

নিউজপেজ ডেস্ক

‘বিশ্ব বাবা দিবস’ সবচেয়ে অর্থবহ হয়ে উঠেছে ব্রায়ান মুন-এর কাছে। বেশ কিছু দিন আগেই ৯ মাস বয়সী শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এই বাবা সত্যিকার অর্থেই তার কলিজার একটি টুকরা দান করেছেন। প্রত্যঙ্গ দিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচাতে পেরেছেন তিনি। বাবা দিবসের সকল মহিমাকে আবারো পিতৃত্বের আলোয় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ব্রায়ানের সন্তান ক্যালেব জন্ম নেয় বিলিয়ারি আটরেসিয়া (বিএ) সমস্যা নিয়ে। এটা লিভারের এক ধরনের প্রদাহ যা এর কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে। জন্মের তিন মাস পরও একই সমস্যা থেকে যায় ক্যালেবের দেহে। সাধারণ সুস্থ নবজাতকের এ সমস্যা থাকলেও তা কয়েক সপ্তাহ পর চলে যায়। শিশুটিকে নেওয়া হলো নিউ ইয়র্কের মন্টিফিয়োরি মেডিক্যাল সেন্টারে। সেখানে ক্যালেবের লিভারে বড় ধরনের সমস্যা ধরা পড়লো।

বিএ শিশুদের বিরল এক অসুখ। পেডিয়াট্রিক লিভার ডিজিজের হিসেবে শিশুর দেহে দেখা দেয় এটি। মন্টিফিয়োরি আইনস্টাইন সেন্টার ফর ট্রান্সপ্লান্টেশন এর গবেষক ড. মিলান কিনখাবওয়ালা এ তথ্য জানান।

ক্যালেবের লিভার থেকে অন্ত্রের সংযোগকারী নালীটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সার্জারির মাধ্যমে তার এই নালী বদলে দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশনটি ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন পড়ে তার। চিকিৎসক বললেন, একটি সুস্থ লিভার শিশুটির জীবন বাঁচাতে পারে।

এখন লিভার দরকার। ক্যালেবের রক্তের সঙ্গেও দাতার রক্ত মিলতে হবে। মা ব্রিটানি কাজটি করতে পারছেন না। কারণ শিশু জন্মের ছয় মাসের মধ্যে মা রক্ত দিতে পারেন না। আবার বাবার রক্তও সন্তানের সঙ্গে মেলে না। হঠাৎ সমাধান দিলেন ডক্টর। বললেন, এক বছরের কম বয়সী শিশুর দেহে প্রত্যঙ্গ স্থাপনের জন্যে দাতার রক্তের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপ মেলার প্রয়োজন নেই। এ তথ্য পাওয়ামাত্রই নিজের কলিজা দিতে প্রস্তুত হলেন বাবা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চার দিন পর জানা গেলো, বাবার প্রত্যঙ্গ সন্তানের দেহে স্থাপন করা যাবে।

২০ মার্চ তারিখে বাবা এবং নবজাতকের সার্জারি হলো। বাবা তার লিভারের একটি অংশ দিলেন সন্তানকে। খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলেন ব্রায়ান। তবে ক্যালেবের দেহে আরো একটি প্রয়োজনীয় অপারেশন হলো। দুটো দিন পর আবারো দেখা গেলো, শিশুটির পেট শক্ত হয়ে যাচ্ছে। আবারো সমস্যা ধরা পড়লো, আবারো সার্জারি হলো এবং ক্যালেব অবশেষে সুস্থ হতে লাগলো।

এপ্রিলে ১৩ তারিখে অবশেষে বাড়ি ফিরলো ক্যালেব। ব্রায়ান এবং ব্রিটানির ঘরে আরো দুটো সন্তান রয়েছে। তারা নোয়া (৪) এবং এলিস (২)। বাবা দিবসে তাদের শ্রেষ্ঠ বাবাকে কি ভালোবাসা জানাবে, তা জানা যায়নি। তবে বাবা এবং সন্তান- দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এটাই তাদের বাবা দিবসের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
সূত্র : ফক্স নিউজ

নিউজ পেজ২৪/আরএস