স্বাস্থ্য

জুলাই ৯, ২০১৫, ৯:১১ অপরাহ্ন

যে খাবারে স্মৃতিশক্তি বাড়ে

নিউজপেজ ডেস্ক

প্রাণী দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ক হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভেজালের এই বাজারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কথা বলা, চলাফেরা থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজের নির্দেশ আসে এখান থেকে।

মস্তিষ্ক ভালো থাকলে সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলে। এজন্য মস্তিষ্কের কর্ম দক্ষতা বাড়াতে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাদ্যের তালিকাও প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমনই কিছু খাবারের তালিকা দেয়া হল-

জাম: প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন জাম,লিচু,স্ট্রবেরি,কালোজাম বা আঙ্গুরের মত ফল। ফলগুলোতে রয়েছে এন্টি-অক্সিডেন্ট যা ব্রেইনের কোষের অক্সিডেশন এবং ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়া রোধ করে। অর্থাৎ ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ব্লু বেরীকে ব্রেইনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর খাবার বলে ধরা হয়, কেননা তা আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে সহযোগিতা করে ও শেখার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

পাতা কপি ও পালং শাক: পালং শাক ও পাতা কপিতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন কে এবং বিটা ক্যারোটিন থাকে। যা পেশী শক্তি ও স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়োমিত পাতা কপি বা পালং শাক খান তাদের স্মৃতি শক্তি যারা খায় না তাদের চেয়ে অনেক বেশি।

সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কে থাকা ফ্যাটি এসিডের ৪০% হচ্ছে ডি এইচ এ, যা সামুদ্রিক মাছের তেলে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হিসেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ব্রেনের বিভিন্ন কোষের মধ্যে সংবেদন আদান-প্রদান বাড়িয়ে দেয়।


বাদাম এবং বীজ দানা: বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়, কোলেস্টোরলের মাত্রা কমায় ও হার্টকে সুস্থ রাখে।

এবং বীজ দানার এ উপাদান সমূহ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া আমন্ড বাদামও ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

কফি: প্রতিদিন সকালে এক কফি পান করুণ। কারণ দীর্ঘদিন কফি পান করেন এমন ১৪০০ লোকের উপর চালানো গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা দিনে তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করেন তাঁদের স্মৃতি ভ্রংশের রোগ অনেকটাই কম হয়। এদের তুলনায় যারা দিনে দুই কাপ কফি পান করেন তাদের ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেশি। ধারণা করা হয়,কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট ব্রেইনের কোষগুলোকে সুরক্ষিত করে।

ডার্ক চকোলেট: প্রতিদিন এক টুকরো ডার্ক চকোলেট খেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অল্প পরিমাণে ডার্ক চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আখরোট : মস্তিষ্কের জন্য আখরোট খুবই উপকারী। এতে বাদামের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এটি মস্তিষ্ককে যে কোনো রোগ থেকে রক্ষা করে।

টমেটো : আমাদের দেশে একটি সহজলভ্য সবজি টমেটো। এই সবজি এখন বাংলাদেশে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। এটি মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এই উপাদানটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায়। এছাড়া স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে টমেটো।

গ্রিন টি : গ্রিন টি এখন বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। গবেষকরা বলছেন, গ্রিন টি মস্তিষ্কের সংযোগ ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া এটি পারকিনসনস ও স্মৃতিভ্রংশের হাত থেকে রক্ষা করে। চিনি ছাড়া দিনে তিন কাপ সবুজ চা মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী।

ব্লু বেরি : বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বাড়াতে ব্লু বেরির জুড়ি নেই। এতে আছে ফ্ল্যাভোনয়েডস। এছাড়া এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে এটি। পারকিনসনস বা আলজইমার থেকেও রক্ষা করে ব্ল– বেরি।

এছাড়াও আখরোট, গম, আভোকাডো, আমলকি, পিঁয়াজ, কালোজিরা, লাল আপেল, কুমড়োর বীজ, মধু, খেঁজুর ও বীট স্মৃতি বাড়াতে অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখে।

নিউজ পেজ২৪/আরএস