স্বাস্থ্য

অগাস্ট ১, ২০১৫, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

ইবোলার টিকা আবিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে একটি টিকা আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক ফলাফলে, এ টিকা ইবোলা প্রতিরোধে শতভাগ সফল বলেও প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ইবোলা নিয়ন্ত্রণে এটা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারবে।

২০১৩ সাল থেকে আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার পর এই প্রথম কার্যকরী এ প্রতিষেধক (টিকা) আবিষ্কৃত হলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মেডিক্যাল জার্নাল লানসেটে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটা ‘গ্যাম চেঞ্জার’ (ব্যাপক পরিবর্তনকারী) হতে পারে। এটা ১০০ ভাগ কার্যকরী। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো কিছু তথ্য প্রয়োজন রয়েছে।

ইবোলা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাওয়া ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিতে। তাই এ দেশেই পরীক্ষা চালানো হয় কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির গবেষণাকৃত ‘ভিএসভি-জেডইবিওভি’ নামের ওই টিকা। টিকাটি তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিটিউক্যালস প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোং।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গিনিতে ইবোলা আক্রান্তদের ৪ হাজার ১২৩ স্বজনকে প্রতিষেধকটি দেওয়া হয়। পরে তাদের কেউই ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এছাড়া ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে এমন ৩ হাজার ৫২৮ জনকেও প্রতিষেধক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন পরবর্তীতে ইবোলা আক্রান্ত বলে ধরা পড়ে। বাকিরা ঝুঁকিমুক্ত বলে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র প্রধান মার্গারেট চ্যান বলেছেন, মানবতার প্রয়োজনে এটা সত্যিকার অর্থেই দারুণ অগ্রগতি। এমন একটি কার্যকর প্রতিষেধক। বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইবোলা মহামারী প্রতিহত করতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখবে।

ডব্লিউএইচও’র হিসাবে, গিনি, সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মানুষ ইবোলা আক্রান্ত হয়েছে ইবোলা মহামারীতে। এদের মধ্যে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রতিকারের ওষুধ আবিষ্কার না হওয়া ইবোলা মোকাবিলায় ‘ভিএসভি-জেডইবিওভ’-ই প্রথম নিবন্ধিত প্রতিষেধক হতে চলেছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি।
নিউজ পেজ২৪/ইএইচএম