সাক্ষাৎকার

অগাস্ট ৮, ২০১৫, ৫:৩৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে সুশাসনের সমস্যা: বার্নিকাট

নিউজপেজ ডেস্ক

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন,বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি তা হচ্ছে সুশাসনের সমস্যা। একটি পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে এটিই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রশ্ন: গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব সংলাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ককে আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন?

মার্শা বার্নিকাট : গত অক্টোবরের তুলনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আপনি যদি বিভিন্ন কার্যক্রমের দিকে তাকান তাহলে আপনি দেখবেন সকল পর্যায়ে অনেকগুলো সফর সম্পন্ন হয়েছে। এ সময়ে আমরা পাঁচজন সহকারী মন্ত্রীর সফর দেখেছি, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রায় নজিরবিহীন। আমরা পদস্থ সামরিক কর্তাদেরও সফর করতে দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর উপ-অধিনায়ক জেনারেল বিলটন গত সপ্তাহেই ঢাকা ঘুরে গেছেন। এগুলো কয়েকটি দৃষ্টান্ত মাত্র।

আমাদের মধ্যে কয়েকটি সফর বিনিময়ও হয়েছে। আমার মনে হয় গত অক্টোবরের পর থেকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং গভীর হয়েছে।

প্রশ্ন : কিন্তু একটা ধারণা চালু আছে যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে একটা যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল, গত অক্টোবরের দ্বিপক্ষীয় সংলাপের পর তা চাপা দেওয়া হয়েছে। আপনি এসব সফরের কারণে সম্পর্ক অনেক জোরদার হওয়ার কথা

বলেছেন। তাহলে কি পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা চলছে , নাকি তা উভয় পক্ষই পুরোপুরি ভুলে গেছে?

মার্শা বার্নিকাট : নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং তা জানিয়েছি। এখন আমি যে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে চাই তা হচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে। ভবিষ্যৎ​ নিয়ে সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রশ্ন : বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামোর চুক্তি, টিকফা সম্পর্কে এ দেশে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে চুক্তিটি হলে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বিষয়টি যে এ দেশে বড় হতাশার কারণ হয়েছে, সেটা কি ওয়াশিংটন অনুভব করে?

মার্শা বার্নিকাট : জিএসপি নিয়ে হতাশা এবং ক্ষোভ তা ওয়াশিংটনের ভুলের কারণে নয়। টিকফা এবং জিএসপি একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। জিএসপি স্থগিতের বিষয়টি ছিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণে।

অবশ্য, গত দুই বছরে বাংলাদেশের সরকার এবং শিল্প খাত এ ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি অবশ্য এটা বলতে পছন্দ করি যে বিশ্বের আর কোথাও এমন নজির নেই যেখানে স্বাগতিক সরকার ও তার অংশীদারেরা—শিল্পমালিক, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ক্রেতারা একজোট হয়েছেন। রানা প্লাজা ধসের ঘটনা যে কারণে হয়েছিল তেমনটি যাতে আর না হয়, সে জন্য সমস্যাটি মোকাবিলায় এরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করছে। জিএসপি পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি আসলে এসব উদ্বেগ নিরসনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আর, টিকফা হচ্ছে আরও বৃহত্তর পরিসর—বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনার জায়গা। কীভাবে বাণিজ্য বাড়ানো যায়, কীভাবে বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করা যায়, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া। বিনিয়োগও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিএসপি পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি নির্দিষ্ট খাতে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তার ওপর নির্ভরশীল।

অর্জিত অগ্রগতিতে আমরা আনন্দিত, কিন্তু শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে কিছু ইস্যুতে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া বাকি। ইউনিয়নকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া, একটি ভালো স্বচ্ছ ওয়েবসাইট, শ্রম মন্ত্রণালয়ে শ্রম অধিকারের বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত কাঠামো তৈরি এবং বিরোধ নিষ্পত্তি—বিশেষ করে মধ্যস্থতার ব্যবস্থা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোন অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি আপনি শুনেছেন?

মার্শা বার্নিকাট : আমি ৩৪ বছর ধরে চাকরি করছি, কিন্তু এর আগে এমন কোনো দেশে আমি কাজ করিনি, যেখানে এতটা প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। আমি ভারতে কাজ করেছি, যখন মনমোহন সিং অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংস্কারের প্রক্রিয়া কেবল শুরু করেছেন, যেগুলো না হলে সেখানকার পরিস্থিতি অন্য রকম থাকত। আমি বিনিয়োগকারী অনেকগুলো কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দফা কথা বলেছি।

আমি জানতে চেয়েছি যে বাংলাদেশের পরিবেশ সবচেয়ে প্রতিকূল কারও মনে হয়েছে কি না? কেউ হাত তোলেনি। এটা আমার কাছে খুবই উৎসাহজনক মনে হয়েছে। তবে, তারা পরপরই বলেছে যে বাংলাদেশে তারা যে সমস্যার মুখোমুখি হয় তা হচ্ছে সুশাসনের সমস্যা।

এগুলো হচ্ছে আইনকানুনের সমস্যা, বিরোধ মীমাংসার সুযোগ পাওয়ার সমস্যা। পুরো স্বচ্ছতার প্রশ্ন। বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রশ্ন —বিশেষ করে জ্বালানি এবং পরিবহনব্যবস্থায়। সরকার এগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে আমার ধারণা, সব দেশেই এসব সমস্যা কোনো না কোনো মাত্রায় আছে। গত মাসেই আমি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ করতে শুনেছি যে তাদের সে দেশেও আমলাতন্ত্র এবং আইনের বাধাগুলো অতিক্রম করতে হয়।

প্রশ্ন: অনেক পর্যবেক্ষকই বলে থাকেন যে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা যতটা গভীর অন্যান্য বিষয়ে ততটা নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এটা কি যথাযথ বর্ণনা?

মার্শা বার্নিকাট : মোটেও না। এ কথা ঠিক যে আমাদের নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা খুবই সচল এবং দৃশ্যমান। আমাদের মহড়া হয়, প্রশিক্ষণ চলছে—যেগুলো দৃশ্যমান। কিন্তু আমি এমন কোনো ক্ষেত্রের কথা ভেবে পাচ্ছি না, যেখানে আমরা কাজ করছি না। হয়তোবা মহাকাশ গবেষণা ছাড়া।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রও (নাসা) বাংলাদেশকে বনাঞ্চল এবং বন উজাড়ীকরণের নির্ভুল মানচিত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। আমি যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা বলি, তখন আমি সেটিকে অংশীদারত্ব বলতে পছন্দ করি, সেটা হোক সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা, ইউএসএআইডির সঙ্গে আলোচনা কিংবা বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা।

অবশ্যই এসব ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা শুধু যে একটু ভালো জায়গায় কাজ করছেন, সে কথাই বলেন তা নয়, তাঁরা সহযোগিতার মান এবং একে অন্যের সঙ্গে মিলে কাজ করায় আনন্দের কথা বলেন। এই সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে কী পেয়েছে, সেটি নিয়েও যে তাঁরা কতটা আলোচনা করেন, তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। একটা পুরোনো উদাহরণ হচ্ছে, খাওয়ার স্যালাইন যেটি একজন বাংলাদেশি উদ্ভাবন করেছেন ইউএসএআইডির একটি প্রকল্পে এবং যেটি সারা বিশ্বে জীবন রক্ষা করছে।

এটি বাংলাদেশ বিশ্বকে দিয়েছে এবং তা সম্ভব হয়েছে সহযোগিতার কারণে। সাম্প্রতিক আরেকটি উদাহরণ হলো ওরেগনের পোর্টল্যান্ড শহরের পুলিশ। ওরেগনের ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে সহযোগিতার আওতায় সেখানকার পুলিশ সদস্যরা বাংলাদেশে এসে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু সে সময়ে তারা এখান থেকে ইসলাম এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় অনেক কিছু জানতে পেরেছে, যেটা তাদের রাজ্যে কাজে লাগছে।

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‌র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্যাতনের অভিযোগের কারণে বাহিনীটিকে সরকারি সহায়তা বন্ধ রেখেছে। অথচ বাহিনীটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে পাশ্চাত্যের সরকারগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে। সম্ভবত তাদের নির্দেশনায় ভুল ছিল।

মার্শা বার্নিকাট : দেখুন, আমি আপনাকে দুটো কথা বলতে চাই। প্রথমত, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ধারণাটিই হচ্ছে একটি বিশেষ ধারণা— সন্ত্রাসবাদ ও আন্তদেশীয় অপরাধ, যেগুলো খুব জঘন্য প্রকৃতির এবং সার্বভৌম সরকারের জন্য মোকাবিলা করা কঠিন, সেগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠিত। আমরা এখনো র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করছি, তবে খুব সুনির্দিষ্টভাবে। আমরা র‌্যাবের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল গঠনে সাহায্য করছে। যেকোনো সরকারি সংস্থা যদি নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে, তাহলে তা শেষ পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলেই গণ্য হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলি যে আমরা যদি একই দেশের নাগরিক হয়ে সব সময় ভয়ে থাকি যে কখন না জানি পুলিশ আমার দরজায় হাজির হয়, শঙ্কিত হই যে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে কিংবা রাতের বেলায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে, আমার ওপর চেতনানাশক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বা আমাকে হত্যা করা হবে, তাহলে ওই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ বলে গণ্য হবে। র‌্যাবের জন্যও এটা প্রযোজ্য। র‌্যাব কী করছে, কীভাবে করছে এবং তার কোনো সদস্য যদি ভুল করে তাহলে তার প্রতিকার কী? যুক্তরাষ্ট্রে যখনই কোনো পুলিশ অফিসার কিংবা আইন প্রয়োগকারী অথবা এফবিআই শক্তি প্রয়োগ করে, তখন তাদের জন্য শক্তি প্রয়োগের আইন আছে।

তারা সেটা প্রয়োগ করলে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তা করা হলো। এরপর তা তদন্ত করা হয় এবং যদি মনে হয় যে শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি তাহলে তার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা সেটিই আলোচনা করছি। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় যে তদন্ত হচ্ছে, সেই খবরকে আমরা স্বাগত জানাই।

প্রশ্ন: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এ রকম একটি অস্বস্তিকর বিষয়ের কথা যদি জানতে চাই তাহলে কী বলবেন?

মার্শা বার্নিকাট : এটা একটা চতুর প্রশ্ন। কোনো অস্বস্তিকর বিষয় কি আছে? অবশ্যই আছে। তবে, এমন নয় যে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমাদের সম্পর্ক যে কত সুদৃঢ় এটা তার একটি লক্ষণ। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তিটা অনেক দৃঢ়। আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। গণতন্ত্র যেমন বাংলাদেশের ডিএনএতে রয়েছে, তেমনি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিএনএতে।

মানুষ যখন কোনো একটা কিছু পছন্দ করে না তখন প্রতিবাদ করে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের যেখানে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটা হলো মানবাধিকার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত খুনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে শক্ত আলোচনা। তবে বাংলাদেশ কখনো বলে না যে আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলব না, কাজ করব না। এ ধরনের আলোচনা আমরা আমাদের অন্য বন্ধুদের সঙ্গেও করে থাকি। এটিকে বিঘ্নসৃষ্টিকারী বা উত্তেজক বিষয় তখনই বলা যেত, যখন আলোচনা বন্ধ হয়ে যেত।

প্রশ্ন: ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা শুনেছিলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি ঢাকা সফরে আসবেন। সফরটি কি হচ্ছে?

মার্শা বার্নিকাট : আমি যতদূর জানি, এখনই নয়। আপনি যদি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে খেয়াল করে থাকেন তাহলে দেখে থাকবেন তিনি খুবই সক্রিয় কূটনীতিক। তিনি অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছেন—মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু আমি যতদূর জানি তাঁর ঠাসা সফরসূচি রয়েছে।

প্রশ্ন: বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আপনি এবং আরও কয়েকজন কূটনীতিক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরপর উত্তেজনা কিছুটা কমল এবং সিটি নির্বাচন ঘোষিত হওয়ায় সবাই তাতে অংশ নিচ্ছে। অনেকের বিশ্বাস, এর পেছনে কোনো ধরনের সংলাপ হয়েছে।

মার্শা বার্নিকাট : না, আমি কোনো সংলাপের কথা জানি না। আমরা উদারমনা কয়েকজন বাংলাদেশের বন্ধু সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ছিলাম এবং সে কারণে উভয় নেত্রীর কাছে গিয়েছি এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছি। উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর হার বাড়তে থাকা প্রতিটি নাগরিক এবং বাংলাদেশের জন্য ছিল একটা গুরুতর বিষয়।

আপনি এ ধরনের অস্থিরতার বিপদ সম্পর্কে জানেন। আমরা উভয়ের কাছে আমাদের উদ্বেগ তুলে ধরে উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে দূর করা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় রাখার উপায় সন্ধানের জন্য তাঁদের বলেছি। উভয় পক্ষের কাছে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরার কাজটিই আমরা করেছি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

আমরা ওই সব আলোচনা করতে পারার জন্য আনন্দিত এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমরা উৎসাহবোধ করছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।

প্রশ্ন: আপনি যখন আপনার মেয়াদ শেষ করবেন, তখন এই দুই দেশের সম্পর্ককে কোথায় দেখতে চান?

মার্শা বার্নিকাট : আমি এর উত্তরে যেটা বলতে চাই, প্রথমত, অংশীদার এবং সমর্থনকারী হিসেবে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা যাতে অর্জন করতে পারে, সে জন্য আমাদের একটা জোরালো ভূমিকা। এবং বাংলাদেশ জানে যে এটি সাহায্যের মাধ্যমে হবে না, যদিও সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ। এটা হবে বাণিজ্য ও শিল্পের মাধ্যমে। বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে, সেটা বলতে পারলে আমি খুশি হব।

যদিও আমি কোনো সংখ্যা এখন বলব না। দুই দিকেই বিনিয়োগ বাড়বে। আমরা এখনই বাংলাদেশের রপ্তানির এক নম্বর ভোক্তা এবং তার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। তবে, আমি বলতে চাই যে রপ্তানি দুই দিকেই আরও বাড়বে। আমি আমার মেয়াদ শেষে বলতে চাই যে বাংলাদেশেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বেড়েছে। আমরা অন্যান্য ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়িয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ব শিক্ষা নিচ্ছে। আমি বাংলাদেশের নারীদের অবস্থার অব্যাহত উন্নয়নও দেখতে চাই। সূত্র: প্রথম আলো

নিউজ পেজ২৪/আরএস