খোলা কলাম

অগাস্ট ৮, ২০১৫, ৫:৫০ অপরাহ্ন

রাজনীতি সম্পর্কে দু-একটি মূল কথা

আবুল কাসেম ফজলুল হক

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় রকমের পরিবর্তন ঘটে গেছে। সরকারের দমননীতি কঠোরতর হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে অনেক বেশি সক্রিয় করা হয়েছে। সরকারি লোকদের বিএনপিকে আক্রমণ করার ভাষা কি কিছুটা নমনীয় হয়েছে? বিএনপি-জামায়াত যে সহিংস কর্মধারা চালিয়ে আসছিল তা চালিয়ে নেওয়ার শক্তি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনের পর তাদের অল্পই অবশিষ্ট আছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাচন ও তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দল হিসেবে বিএনপি আরও শক্তি হারিয়েছে। ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনে সরকার জাতীয় পার্টিকে যেভাবে ব্যবহার করেছে তাতে জাতীয় পার্টিও শেষ হয়ে গেছে। এ দলের নেতারা মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্যপদ লাভের জন্য সম্পূর্ণ দলঘাতী পথে এগিয়ে গেছেন। বামপন্থি গ্রুপগুলো যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায়ই আছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে এগোবার কিংবা দলীয়ভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাই খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ১৯৭৬ সালের পর থেকে এ মহল থেকে হোমরাচোমরাদের কেউ কেউ দলছুট হয়ে মন্ত্রী-টন্ত্রী হয়েছেন। বামপন্থি গ্রুপগুলো অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদে মেতে থাকে। তবে তাদের শক্তি মনে হয় বাড়েনি, কমেও থাকতে পারে। রাজনীতিতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (CSO) ও এনজিও-কর্তাদের কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারত-বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় হওয়ার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ মুঠোর মধ্যে নেই। চলমান রাজনীতিতে বছর দশেক ধরে আওয়ামী লীগের সাফল্য অত্যন্ত অসাধারণ। সম্প্রতি ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন নির্বিবাদে সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে জনগণের ধারণা দৃঢ়তর হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আমলা, বিচারক, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নিয়ে গঠিত সরকার গত ৪৫ বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে সংহত ও শক্তিশালী। জনমনেও রাজনৈতিক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে না। সমাজের ভিতরে সব সমস্যা জনগণ প্রায় নীরবে মেনে নিচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিজয়ের তিন দিন পরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা যেসব কথা বলেছিলেন, সেগুলো স্মরণ রাখার মতো। তিনি বলেছিলেন, বিএনপি ভুল রাজনীতি করতে করতে প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, এখন তাকে ফরমালিন দিয়ে রক্ষা করা হচ্ছে। বামপন্থিদের সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, 'ওইগুলো পচে গেছে। যে দু-চারটা ভালো ছিল আমি নিয়ে নিয়েছি। বাকিগুলো ডাস্টবিনে চলে গেছে।'

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে হয় নিজেদের এই শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতন নন। সে জন্যই তারা খালেদা জিয়া ও বিএনপির উদ্দেশে আগের ভাষা ব্যবহার করে কথা বলেন। সাধারণত দেখা যায়, পরাজিত, দুর্বল, ক্ষয়িষ্ণু শক্তির প্রতি শক্তিমানেরা ও ক্ষমতাশালীরা নমনীয় কর্মনীতি অবলম্বন করেন। যে রাজনীতি নিয়ে বিএনপি চলছে, তা নিয়ে দলটি কস্মিনকালেও পতিত দশা থেকে উঠতে পারবে না। যখন বিএনপি জনপ্রিয় ছিল তখনই বা বিএনপির রাজনীতি কী ছিল? আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ, ভারতের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক নীতি, দলীয় স্বার্থে রাজনীতিতে ইসলামের ব্যবহার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে আরও নির্ভরশীলতা- এই তো ছিল সূচনাকাল থেকে বিএনপির রাজনীতি। জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপির বক্তব্য মোটেই ইতিহাসসম্মত ছিল না। আওয়ামী লীগের দুর্বলতা ও অন্যায়ের কারণেই দলছুট নেতাদের নিয়ে বিএনপির উত্থান এবং সে কারণেই ক্ষমতার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ পারত না, বিএনপি জয়ী হতো। অন্যায়-অবিচার থেকে বাঁচার জন্য লোকে বিকল্প খুঁজত। সেই রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ সুবিধাবাদী নীতি নিয়ে বিএনপির উত্থান। আজ যে অবস্থা দেখা দিয়েছে তাতে রাষ্ট্রব্যবস্থায়, বিচারব্যবস্থায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সমাজের স্তরে স্তরে জুলুম-জবরদস্তি কমানো হলে লোকে কোনো রাজনৈতিক বিকল্প খোঁজই করবে না। নিঃরাজনীতিকরণের অদৃশ্য কার্যক্রম সাড়ে তিন দশক ধরে এমনভাবে চালানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে জনমনে আজ আর কোনো জাতীয় রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাই নেই। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যেও কি ক্ষমতা ও সম্পত্তি অর্জনের অপূরণীয় আকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা আছে?

জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থের দিক দিয়ে দেখলে দেখা যায়, ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকার একটি সম্পূর্ণ ভুল ও ক্ষতিকর নীতি নিয়ে চলছে। দুই সরকারই সন্ত্রাসবাদবিরোধী জঙ্গিবাদবিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে একাত্দ হয়ে, চুক্তিবদ্ধ হয়ে চলছে। বিবিসি রেডিও প্রচারকার্যের দ্বারা যে মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন ও নারীবাদী আন্দোলন পরিচালনা করেছে তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রী ও গণতন্ত্রীরা (রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী) যেভাবে তৎপর হয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় পুরনো পরাজিত সব সংস্কার বিশ্বাসের, ধর্মীয় শক্তিগুলোর পুনরুত্থান ঘটেছে। তখন ভয়েস অব আমেরিকা মন্দির-মসজিদ বিরোধ ও সাম্প্রদায়িক সমস্যার কথা যে রকম কাব্যময় ভাষায় প্রচার করেছে তা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ও বিজেপির উত্থানের খুব সহায়ক হয়েছে। বিজেপি এখন ক্ষমতায় এসে গেছে। এখন তো বিজেপিকে এবং ভারত সরকারকে সংকীর্ণতা ত্যাগ করে স্বরাষ্ট্রের স্বার্থে, স্বজাতির স্বার্থে, স্বদেশের জনগণের স্বার্থে চিন্তা ও কাজ করা উচিত। এখনো বিজেপির অন্তরে যদি বাবরি মসজিদ ভাঙার ও গুজরাটের দাঙ্গার স্পিরিট কাজ করে তাহলে বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তান- সবার জন্যই তা মারাত্দক ক্ষতির কারণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিজেপির উত্থানে সহায়ক হয়েছে, তার জন্য বিজেপি কি আফগানিস্তানে, ইরাকে, লিবিয়ায়, সিরিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ভূমিকার পক্ষে কথা বলবে? আজকের পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া, চীন ও ভারতই তো বড় শক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুসরণ করে চলতে গিয়ে শক্তিশালী হতে পারেনি- মনে হয় এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত যদি কোনো ন্যায়নিষ্ঠ প্রগতিশীল বিশ্বনীতি অবলম্বন করে এবং বিশ্বায়ন পরিহার করে চলে তাহলে তা হবে বর্তমান ঐতিহাসিক বাস্তবতায় মানব জাতির জন্য সবচেয়ে মহান কাজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৌলবাদবিরোধী ও নারীবাদী আন্দোলন এবং জঙ্গিবাদবিরোধী ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি বাংলাদেশে কী ঘটিয়েছে? এসবের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে পুরনো পরাজিত সংস্কার, বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। দাড়ি, টুপি, বোরকা, হিজাব ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে, মাদ্রাসা, মসজিদ, দরগা, খানকা ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে, যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী পতাকা হাতে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হয়েছে, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ধারায় সমাজে আস্তিক-নাস্তিক বিরোধ দেখা দিয়েছে- বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ প্রধানমন্ত্রীকেও রাজনৈতিকভাবে ধার্মিক বলে আত্দপরিচয় দিতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা যতদিন মানবতাবিরোধী, সভ্যতাবিরোধী, সংস্কৃতিবিরোধী অপরাধে ও লুটতরাজে লিপ্ত থাকবে ততদিন তো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটবে না। নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার বিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই; প্রশ্ন হলো দুই রাষ্ট্রের এ দুই বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ নেতা কী করে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন? যুক্তরাষ্ট্রই তো তার স্বার্থে এসবের উত্থান ঘটিয়েছে এবং এসবকে লালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী পৃথিবী থেকে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর হবে? তারা এখন মহাত্দা গান্ধীর অহিংসার বাণী প্রচার করে। আজ দরকার সাম্রাজ্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ- এ তিনটির বিরুদ্ধেই সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে দূরদর্শিতার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। বিষয়গুলোকে কেবল রাজনৈতিক দিক দিয়ে দেখলে ভুল হবে; দেখতে হবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমগ্রতার দিক দিয়ে। ঐতিহাসিক বিকাশের বিবেচনাকেও বাদ দেওয়া যাবে না।

জামায়াতকে আওয়ামী লীগ নিজের স্বার্থে বৈধ দল হিসেবে রক্ষা করতে চায়- যুদ্ধাপরাধী দল বলে নিষিদ্ধ করতে চায় না। তবে জামায়াতের প্রতি সরকারের দমননীতি নমনীয় নয়। জামায়াত সামনে থাকলে জামায়াতকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা সহজ হয়। জামায়াতের উঠতে পারার সম্ভাবনা দেখা যায় না। তবে '৭১-এর যুদ্ধকালের জামায়াত নেতারা না থাকলে জামায়াতের ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতেও পারে। রাজনৈতিক বাস্তবতার আরেক দিক হলো এনজিওপতিদের ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর বিশিষ্ট নাগরিকদের তৎপরতা। ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তারা নাগরিক কমিটি নামে দল গঠন করে জেনারেল (অব.) ওসমানীকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। তাতে রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি সাত্তারের বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল। বার্ধক্যজর্জর সাত্তার টিকতে পারেননি। সেনাপতি এরশাদ ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিলেন। তখন এনজিওপতিরা ও সিএসওর বিশিষ্ট নাগরিকরা গঠন করেন আরেক নাগরিক কমিটি। তখন থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিএসওর বিশিষ্ট নাগরিকরা আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করে আসছেন। এরশাদ সরকারের উৎখাত সাধনে তাদের তৎপরতা ছিল অন্তহীন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও বামপন্থিদের সমঝোতা ঘটিয়ে যুগপৎ আন্দোলন পরিচালনায় ও সরকার উৎখাতে এ নাগরিক কমিটি অত্যন্ত অসাধারণ ভূমিকা পালন করছিল। বিশিষ্ট নাগরিকদের ভূমিকার ফলে ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। বিশিষ্ট নাগরিকরা খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনায় তৎপর থাকেন এবং রাজনীতিকে তারা করে তোলেন বৃহৎ শক্তিবর্গের স্থানীয় দূতাবাসগুলোর অভিমুখী। তখন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি দূতাবাসমুখী হয়ে পড়ে। যে দল ক্ষমতার বাইরে থাকে সে দলই দেশের জনগণের প্রতি অনাস্থাবশত বিদেশি দূতাবাসের দিকে ছোটাছুটি করে। তাদের অদৃশ্য প্ররোচনাতেই অরাজনৈতিক নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। তারপর অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। নাগরিক কমিটি ২০০৬ সালে পরিচালনা করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল 'যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন'। ২০০৭ সালের শুরুতে দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থার সরকার। দুই বছর পরে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। সিএসওর বিশিষ্ট নাগরিকরা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়। তাদের একাংশের পেছনে আছে মার্কিন মহল, অপরাংশের পেছনে ভারত।

যে রাজনৈতিক বাস্তবতা এর মধ্যে তৈরি হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল এখন শক্তি অর্জন করতে পারবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগ ও সিএসওর বিশিষ্ট নাগরিকরা খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া এবং বিএনপির নেতৃত্বকে কোনো না কোনোভাবে রক্ষা করতে চায়। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিচ্ছেদ যারা ঘটাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হবে বলে মনে হয় না। বিএনপিকে রক্ষা করার চেষ্টার মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের বিভিন্ন রকম স্বার্থচিন্তা আছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে তা যেভাবেই অনুষ্ঠিত হোক, তাতে আওয়ামী লীগই জয়ী হবে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বই সফল হবে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের যথার্থ ভালো কিছু করার বিস্তর সুযোগ আছে। দেশবাসী ভালো কিছুর জন্য আশা করে আছে। বাংলাদেশে রাজনীতির মৌলিক সংস্কার ও নতুন রাজনীতি দরকার। সেদিকে কারও কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। সবাই চলমান রাজনীতিকেই রক্ষা করতে সচেষ্ট। মনে হয় প্রচলিত রাজনীতির ধারায় আপাতত কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ পেজ২৪/আরএস