সম্পাদকীয়

অগাস্ট ১২, ২০১৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

নতুন ঘটনা নয়, বিচার চাই!

এম এ হক

রাজনের ওপর নিষ্ঠুর, নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকান্ডে সারা দেশের মানুষ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখে অনেকে অসুস্থ বোধ করেছে, সহ্য করতে পারেনি। দেখা গেল রাজন একা নয়। একই সময়ে আরও অনেক শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, মাত্রায় কমবেশি হলেও একটি শিশুও বাঁচেনি। এসব শিশুর আর্তনাদ সবার কানে পৌঁছেনি। কিন্তু তারা মরেছে নির্মমভাবে। সবশেষ খুলনার রাকিব নির্যাতন ও হত্যা আবার উত্তাল করে তোলে দেশের মানুষকে। রাকিবের চেহারার মধ্যে যেন কেমন একটা ভাষা আছে। তার বড় বড় চশমায় যেন সবাই তাদের নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছে। রাজনের চোখেও ছিল কেমন এক ভাষা। সে চোখ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা ভুলতে পারছি না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য এক রাজনের শোক ভুলতে না ভুলতেই রাকিব এসে হাজির হয়, আর তারপর ঘটে অন্যসব ঘটনা।

শিশু হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নিলয় চক্রবর্তী নীল নামে এক ব্লগারকে দিনদুপুরে বাসায় ঢুকে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ প্রকাশ্যে রাস্তায় খুন হওয়ার তিন মাস না পেরোতেই ঢাকায় ফের আরেক ব্লগারকে বাসায় ঢুকে হত্যা করা হলো। এর আগে চলতি বছরে ঢাকায় আরো দুই ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় হত্যার রহস্য ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ধারাবাহিক ব্লগার হত্যাকাণ্ডে মূলহোতারা ধরা না পড়ায় পুলিশের গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলছেন নিহতদের স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীরা। কারণ হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রত্যেক ব্লগারই কিছু দিন আগেই হত্যার হুমকি পেয়েছেন। এমনকি নিলয়ের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেও জানা যাচ্ছে তিনি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ নেয়নি।

ব্লগার হত্যা নিয়ে চলছে রাজনীতি্ও। এসব হত্যাকান্ডের পর ভিন্ন ভিন্ন নামে কোন অদৃশ্য সংগঠন এর দায়ও স্বীকার করছে। গণজাগরণমঞ্চের কর্মী এবং সরকার সমর্থকদের অভিযোগের আঙ্গুল্ও ধর্মীয় উগ্রবাদীদেরর দিকে। একইসাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব হত্যাকান্ডের পেছনে নানা রহস্য বের হচ্ছে।

কিন্তু সব রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। তারা এখনো একটি ঘটনারও রহস্য উম্মোচন করতে পারেনি। আর এভাবে বিচারহীনতা চলতে থাকলে হত্যাকান্ডের ঘটনা কমবেনা বাড়বে বৈকি।

তাই বলছি, নতুন ঘটনা নয়, চাই বিচার।

নিউজপেজ২৪েএকস