সম্পাদকীয়

অক্টোবর ৬, ২০১৫, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

বিদেশী নাগরিক খুন; প্রকৃত রহস্য উদঘাটন জরুরী

এই মুহূর্তে দেশে বড় আলোচনার বিষয় হলো বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ড। হঠাৎ করেই বাংলাদেশে দুজন বিদেশি নাগরিক আততায়ীর গুলিতে খুন হলেন। ঢাকার গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার খুন হওয়ার পর সপ্তাহ না গড়াতেই শনিবার জাপানি নাগরিক হোসে কোমিও খুন হলেন রংপুরের রাস্তায়। আবার দুটি খুনেরই দায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস স্বীকার করেছে বলে বিবৃতি প্রচার, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টিকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে। লক্ষণীয় বিষয় যে, বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর পরই ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক খুন হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কর্তৃক তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাফেরায় সতর্কতা জারি করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরও স্থগিত করা হয়। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ 'নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ' দেশ এরকম একটি বার্তাও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচারের চেষ্টার মধ্যে খুন হন জাপানি নাগরিক।

যদিও বাস্তব অবস্থা এরকমটি নয় বলেই আমরা বিশ্বাস করি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ড দেশের ইমেজ সংকটের পাশাপাশি প্রশাসন তথা সরকারকেও একটা চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা উদ্বেগের।

জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগে সরকারকে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে বিদেশি হত্যাকান্ডের নেপথ্য উদ্দেশ্য, এরকম একটা ধারণাও করছেন পর্যবেক্ষক মহল যা অমূলক নয়। তবে আমরা মনে করি, যথাযথ তদন্তই পারে বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী 'ইসলামিক স্টেট' (আইএস) বাংলাদেশে তাদের আস্তানা গড়ে তুলবে এমন হুমকি শোনা গিয়েছিল। আরেক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাও বাংলাদেশে ঘাঁটি তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। আর এসব জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব আছে কি নেই, কারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তা নিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীন রাজনীতিও রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি তৎপরতা বাংলাদেশ সেই অর্থে দেখা যায়নি। শুধু ঘটনার পরই টুইট বার্তা বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিগোষ্ঠী দায় স্বীকার করেছে। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্য এটি অপপ্রচার বলেই প্রতীয়মান হয়। আমরা বলতে চাই, বিচ্ছিন্ন কিছু সন্ত্রাসী ঘটনার কারণে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এমনটি মনে করার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণও নেই।

সর্বোপরি সরকারকে বলতে চাই, যে কোনো ধরনের হত্যাকান্ড নিঃসন্দেহে গর্হিত ও অপরাধ। যা সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নির্দেশক। ফলে বিদেশি নাগরিক হত্যা, এরপর আইএসের দায় স্বীকারের প্রচারণাসহ বিদেশি নাগরিকদের চলাচলে সর্তকতা বিশ্বে যে বার্তা তৈরি করছে তা দেশের ভাবমূর্তির জন্য মোটেই সুখকর নয়। এর নেতিবাচক প্রভাব আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। যদিও সরকার দাবি করছে এ দুটি হত্যা জঙ্গি তৎপরতা নয়, দেশে বিদেশিদের নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। এটি শুধু মুখে বললেই হবে না, দ্রুত হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের মধ্যদিয়ে তা প্রমাণও করতে হবে।

নিউজপেজ২৪/একস