সম্পাদকীয়

নভেম্বর ৬, ২০১৫, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

জনমনে স্বস্তি না এলে উন্নয়নের গতি থমকে দাঁড়াবে

দুই বিদেশী হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন হতে না হতেই ব্লগার ও প্রকাশকের ওপর হামলা। নৃশংস এই হামলায় করুন মৃত্যু হয় জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনের। গুরুতর আহত হন অন্য আরেকটি প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের মালিক আহমেদুর রশিদ টুটুলসহ আরো দুজন।

আর এসব হত্যাকান্ডের ফলে শুধু বিদেশী দূতাবাসগুলোই নয় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা আর অস্বস্তির মাত্রায় নতুন বেগ পেয়েছে।

কিন্তু আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার মাত্রা ঠিক উল্টো দিকে গড়াচ্ছে। দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক তো বলেই ফেললেন, বিচার চাননা তিনি। একই মত জানিয়েছেন দীপনের স্ত্রীসহ স্বজনহারা অনেকে। তার মানে এই নয় যে এসব হত্যাকান্ডের মোটেই বিচার হচ্ছেনা। কোন হত্যাকান্ডেরেই রহস্যের জট একেবারে না খুললেও হত্যাকারীদের শনাক্ত কিংবা আটকের সফলতা কোন কোন ক্ষেত্রেতো রয়েছেই।

তবে আবুল কাসেম ফজলুল হকের ইঙ্গিত অন্যদিকে---

তিনি সবার শুভবুদ্ধির উদয় চেয়েছেন। তার মতে শুধু বিচার কিংবা ফাঁসি হলেই এসব বন্ধ হবেনা। ধর্ম নিরপেক্ষতা আর ধর্মের পক্ষ নিয়ে যে বাড়াবাড়ি চলছে তার অবসান হতে হবে। আর এজন্য রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে জাতীয় ঐক্য।

সড়কের পাশে সরকারের বিলবোর্ডে প্রায় দেখা যায় অপ্রতিরোধ্যে গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যোগাযোগসহ অনেকক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু গ্রামে- গঞ্জে-নগরে মানুষের জীবন জীবিকা পর্যালোচনা করলেই বুঝা যায় সামগ্রিকভাবে কতটুকু এগুচ্ছে দেশ!

একটি দেশের উন্নয়নের মূল পূর্বশর্তই হল স্থিতিশীলতা। যদিও অস্থিতিশীল হ্ওয়ার মত রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশে নেই। কিন্তু একের পর এক খুন- হত্যা আর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠিকে নাজেহাল করার ঘটনায় একটা গুমোট অস্বস্তি আছে। নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশীদের আছে বাড়তি টেনশন। আর এসব টেনশন-অস্বস্তি না কমলে থমকে যাবে উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতি।

নিউজ পেজ২৪/একস