লাইফ স্টাইল

নভেম্বর ১৭, ২০১৫, ৯:৫২ অপরাহ্ন

বন্ধু নির্বাচনে মনে রাখুন ৬টি বিষয়

নিউজপেজ ডেস্ক

খাঁটি অলংকারের চেয়ে খাঁটি বন্ধুর মূল্য অনেক বেশি। কারণ অলংকারের বাস শরীরে, মনের মধ্যে নয়। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু বাস করে মনের মধ্যে, চেতনার গহীনে।

আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না যে, বন্ধু দ্বারা আপনি প্রতিনিয়ত প্রভাবিত হচ্ছেন। বন্ধুর ভালোবাসা, আশ্বাসের বাণী, শক্তভাবে পাশে দাঁড়ানো সবই জীবনে চলার পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাই বন্ধু নির্বাচনে ভুল হলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। চলুন বন্ধু নির্বাচনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিই:

১. বিশ্বস্ত বন্ধু খুঁজে বের করুন

ভালো বন্ধুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে বিশ্বস্ত হবে। কারণ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পারস্পারিক আস্থা এবং ত্যাগের উপর। ভালো বন্ধু অবশ্যই আপনার সাথে সবকিছু শেয়ার করবে এবং আপনার মনের কথাগুলো সযত্নে নিজের মনের মধ্যে লালন করবে। আপনি বিশ্বস্ত বন্ধুর কাছ থেকে পাবেন অসীম ভালোবাসা যা আপনাকে সামনে এগোতে অনেক সাহায্য করবে।

২. বন্ধুর সমর্থন খুব প্রয়োজন

কাউকে বন্ধু হিসাবে মনে স্থান দেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন সে সব পরিস্থিতিতে আপনার পাশে থাকবে কি না। কারণ মানুষের জীবনে ভালো সময় যেমন আসে, তেমনি খারাপ সময়ও আসে।

খারাপ সময়ে বন্ধু যদি আপনার কাঁধে একটু হাত রাখে বা ভালো পরামর্শ দেয় তবে বিপদ কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ হয়ে যায়। বন্ধু যদি আপনার বিপদে সাহায্য না করে, তবে মনে রাখবেন সে আদৌ আপনার বন্ধু ছিল না।

যে বন্ধু আপনাকে বিপদে সাহায্য করে না, আজই মোবাইল থেকে তার নাম্বার এবং মন থেকে তার নাম মুছে ফেলুন।

৩. অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারকারী বন্ধুকে না বলুন

আপনার বন্ধু যদি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবে এবং সবকিছু আপনার উপর চাপিয়ে দেয় তবে সেটি আপনাদের বন্ধুত্বের জন্য ভয়ংকর ফল বয়ে আনতে পারে। কারণ বন্ধুত্ব এমন একটি বিষয় যে এখানে কেউ শ্রেষ্ঠ নয়।

যখন সকল বন্ধুরা মিলেমিশে একটা সিদ্ধান্ত নেয় তখনই কাঙ্ক্ষিত ফলাফলটা বের হয়ে আসে। গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, বন্ধু যদি আপনার মতামত বা সিদ্ধান্তের কোন মূল্য না দেয় তবে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।

৪. গালগপ্পে পারদর্শীদের থেকে দূরে থাকুন

কিছু বন্ধুকে দেখবেন কাজের থেকে কথা বেশি বলে। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কৌশলে আপনাকে ভুল পথে নিয়ে যাবে। এরা বিভিন্ন সুন্দর কথায় নিজেদের কার্যোদ্ধার করে নেবে, এরপর আপনাকে নোংরা আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলবে।

মনে রাখবেন, যে কোন মুহূর্তেই তারা স্বার্থপরতার চরম রূপ দেখাতে পারে। তাই যেসব বন্ধু অতিরিক্ত গালগপ্প করে এবং নিজের স্বার্থ ছাড়া এক পা ফেলে না তাদের সাথে আজই সম্পর্ক ছেদ করুন।

৫. প্রতারক বন্ধুকে চিনে রাখুন

ভালো বন্ধুরা সবসময় গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং কখনই আপনার সাথে মিথ্যা বলবে না। বন্ধুত্বে ঈর্ষার কোনো স্থান নেই। কিন্তু অনেক মানুষই বন্ধুর ভালো সহ্য করতে পারে না। তারা সুযোগ খোঁজে কীভাবে বন্ধুর ক্ষতি করা যায়। তারা প্রথম যে কাজটি করে তা হলো- একটুখানি সত্যের সাথে অনেকখানি মিথ্যা জড়িয়ে প্রচার করে।

এতে তার বন্ধুর সুনামের দারুণ ক্ষতি হতে পারে। তাই কারো সাথে বন্ধুত্বের আগে বোঝার চেষ্টা করুন সে প্রতারক কি না। মনে রাখবেন কিছু বন্ধু হাসিমুখে আপনার পিঠে ছুরি চালাতে পারে।

৬. অন্যকে উত্যক্তকারী আপনার বন্ধু নয়

যে অন্যকে উত্যক্ত করে মজা পায় তার নামটা আপনার বন্ধুতালিকা থেকে মুছে ফেলুন। অনেক মানুষ আছে যারা সহপাঠী এবং অন্যদেরকে শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ পায়।

এই নির্যাতন ইংরেজিতে বুলিং নামে পরিচিত। নির্যাতনকারীরা নারী-পুরুষ কাউকেই সম্মান দিতে জানে না। তাই যে অমানুষগুলো বিনা কারণে অন্যকে কথার বাণে বিদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ান।

ভিকটিমের পাশে থাকার চেষ্টা করুন। উত্যক্তকারী আপনার বন্ধু হলে আজই সম্পর্ক ছিন্ন করুন এবং আর তার মুখের উপর উচিত কথা বলতেও পিছপা হবেন না।
তথ্যসুত্র: উইকিহাউ ডট কম

নিউজ পেজ২৪/আরএস