খোলা কলাম

নভেম্বর ২৭, ২০১৫, ৮:১৭ অপরাহ্ন

ঢাকার জলাবদ্ধতা : বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশিক জলবায়ু প্রভাব নিয়ে সারা বিশ্বই এখন সোচ্চার। বর্তমানে যে হারে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হচ্ছে, তাতে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনে চরম হুমকির মুখে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত বিশ্ব দায়ী। তবে তাদের পাশাপাশি আমাদের দেশও ঝুঁকিতে রয়েছে।



ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মকাঠামো সনদের ২১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে যে পরিমাণে গ্যাস নির্গমন করা হচ্ছে, তাতে ২০২১ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৭ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শুধুমাত্র জলাবদ্ধতার কারণে ১১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।



জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব নির্ণয় বিষয়ক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি ২০১৪ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়ে এ ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছে।



বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘আরবান ফ্লাডিং অব গ্রেটার ঢাকা ইন ও ক্লাইমেট চেঞ্জ : বিল্ডিং লোকাল রেসিলেন্স টু ডিজাসটার রিস্ক’ এবং এ বিষয়ক ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাসটার রেজিলেন্স অব গ্রেটার ঢাকা এরিয়া : এ মাইক্রো লেভেল এনালাইসিস’ শীর্ষক নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২৩ নভেম্বর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে ঢাকায় ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি লাঘবের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রভাব মোকাবিলার জন্য আরো বেশি মাত্রায় অর্থায়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের ২১তম বৈশ্বিক সম্মেলন (কপ ২১) সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গ্রন্থ এবং উল্লিখিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ফ্রান্সের লে বুর্গে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


বিশ্বব্যাংকের নতুন এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ঢাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়মিতভাবে নগরবাসীর জীবন ও জীবিকার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এর সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বস্তি ও নিম্ন আয়ের জনবসতিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঘন এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ঢাকায় আগামী দশকে আরো বড় আকারের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখনই বিবেচনা না নেওয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় ২০১৪ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়ে অর্থনৈতিকভাবে যে ক্ষতি হবে, তার পরিমাণ হবে প্রায় ১১০ বিলিয়ন বা ১১ হাজার কোটি টাকা।

সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্রদের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসংক্রান্ত যেকোনো নীতিতে দারিদ্র্য নিরসনের পদক্ষেপ থাকতে হবে। উন্নত দেশগুলো যদি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় এবং দরিদ্র দেশগুলোকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে অতিরিক্ত আরো ১০ কোটি মানুষ বেকারত্বের কবলে পড়বে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি ঢাকার পূর্বাংশের বিভিন্ন এলাকা, গোড়ান, কল্যাণপুর, পুরনো ঢাকা, ঢাকার মধ্য অংশের বিভিন্ন এলাকা, ডিএনডি ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জরিপ করে তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ), একটি মাল্টিডোনার ট্রাস্ট ফান্ড এবং বিশ্বব্যাংক।

আমরা যারা রাজধানীতে বাস করি তারা জানি সামান্য বৃষ্টিতেই সঞ্চালনশীল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারা দেশের জনজীবন। জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। ঢাকার অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। রাজধানীর সচিবালয়, বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল কিংবা অভিজাত এলাকা গুলশান-ধানমন্ডিও রক্ষা পায় না এই জলাবদ্ধতার হাত থেকে। হাঁটু বা কোমর পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা। অসংখ্য যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। বিশেষ করে অফিসমুখী এবং ঘরমুখী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা হয় আরো মারাত্মক। বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শাক-সবজির সরবরাহে ঘাটতি পড়ে। ফলে দামও বাড়ে কিছুটা।

বৃষ্টির এ চিত্র ফি বছরের। রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যাও দীর্ঘদিনের। প্রতিবছরই বৃষ্টি মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রা পুরোটাই থমকে যায়। চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ বলতে গেলে সারাদেশেই ওই চিত্র। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা, তার ফলে সৃষ্ট যানজট, মানুষের ভোগান্তির বিবরণ এবং তার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয় পত্র-পত্রিকায়।

বৃষ্টির দিনে বৃষ্টি হবে এটাই তো সত্য। কম হবে না বেশি হবে সেটা প্রকৃতির ব্যাপার। অর্থাৎ দেখা যায় কয়েক দিন কোথাও কোনো বৃষ্টি নেই। একেবারে সব শুকনো, মেঘশূন্য আকাশ। আবার কখনও শুরু হলো বৃষ্টি, কোনো দিন অল্প সময়েই থেমে গেল। কোনো কোনো সময় চললো একটানা। অঝোরে ঝরতে লাগলো। এসব হিসাব রেখেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন। রাজধানীতে বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণের মধ্যে উল্লেখ করা যায় বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ওয়াসা, ডেসা, তিতাস গ্যাস ও টিএন্ডটির কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। এ ব্যাপারে উল্লিখিত সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।

এক সংস্থা খুঁড়ে ভরাট করে যায় তো আরেক সংস্থা এসে একই জায়গায় কাজ শুরু করে। চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর প্রায় অর্ধ শতাধিক সড়কে এ ধরনের খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে। এসব সড়কের দুই শতাধিক কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটে। অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে যানবাহনকে অন্য সড়কে চলতে হচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে বৃষ্টি নামলে। সড়ক পুনঃসংস্কারের সময় গর্তগুলোতে বৃষ্টির পানি থাকলেও তা নিষ্কাশিত হয় না। এ কারণে রাজধানীর অনেক সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু হতে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের পূর্বানুমতি না নিয়েই যত্রতত্র এভাবে রাস্তা খনন করায় রাজধানীর রাস্তাঘাটের ওই বেহাল দশা।

এ ছাড়া রাজধানীতে জলাবদ্ধতার আরও কিছু গুরুতর কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বড় কারণ হচ্ছে, ওয়াসার বর্জ্য পানি সুষ্ঠুভাবে ত্বরিৎ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। একটু বৃষ্টিতেই ঢাকার পথঘাট এখনও বেশিরভাগই ডুবে যায়।

সেই সঙ্গে ওয়াসার কর্মকর্তারাই বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের অপ্রতুল ব্যবস্থার কথা জানিয়ে বলেছেন, প্রাকৃতিক খাল ও বর্জ্য পানির লাইনের মাধ্যমে সারা বছর যে পরিমাণ পানি নিষ্কাশিত হয়, শুধু বর্ষার দু’মাসে ঢাকাতে পানির পরিমাণ দাঁড়ায় তার চেয়ে বেশি।

ওয়াসার এক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল-বিল-ঝিল দখল ও ভরাট হতে থাকায় পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চলতি বর্ষায় রাজধানীর রাজপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



বর্ষা মৌসুমে ২৩ কোটি বর্গমিটার বৃষ্টিপাতের পানিতে ঢাকার রাস্তাঘাট পানিতে সয়লাব হয়। অন্যদিকে, নগরবাসী বর্জ্য পানি ছেড়ে দেন ৩৩ কোটি বর্গমিটার। এই ৫৬ কোটি বর্গমিটার পানি নিষ্কাশনের মতো অবকাঠামো ঢাকা ওয়াসার নেই। তিনি জানান, মহানগরীর বৃষ্টি ও বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ঢাকার ৬০ ভাগ এলাকা কভার করে। ফলে ৪০ ভাগ এলাকা এখনও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের বাইরে থেকে গেছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে যে অবকাঠামোর মাধ্যমে ড্রেনেজ কার্যকর রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তার মধ্যে স্টর্ম ওয়াটার লাইন ২৪০ কিলোমিটার, বক্স কালভার্ট ৮ কিলোমিটার, খোলা খাল ৬৫ কিলোমিটার, পাম্পিং স্টেশন ৩টি, ধোলাইখালের সেকেন্ডে ২২ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পিং স্টেশন, কল্যাণপুরের ১০ ঘনমিটার পাম্পিং স্টেশন, গোড়ান-চটবাড়িতে ২২ ঘনমিটার পাম্পিং স্টেশন। এ ছাড়াও ডিসিসির তৈরি ২০ হাজার কিলোমিটার সারফেস ড্রেন এবং ২০০ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন দিয়েও পানি নিষ্কাশিত হয়। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের দুরবস্থা মোটেই নতুন বিষয় নয়। এবারও যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে তাও বোধকরি অভাবিত নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সময় ঢাকা নগরীতে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ছিল। ধোলাইখাল, মতিঝিল, বেগুনবাড়ি, কল্যাণপুর খালসহ নগরীর বহু খাল ইতিমধ্যে বেদখল ও ভরাট হয়ে গেছে। অল্প যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নগরীর নিচু এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মিত হওয়ায় প্রাকৃতিক নিয়মে পানি নেমে যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। নগরীতে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলা যায়নি এবং যেটুকু আছে তাও সর্বত্র ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ লাইনের সঙ্গে আন্তঃসংযুক্ত নয়। এছাড়া ড্রেন ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।



ঢাকা শহরে এখন প্রায় ২ কোটির বেশি লোকের বাস। শহরের আয়তন ৩৬০ বর্গকিলোমিটার। তাই এক কোটি অধিবাসী নানা সমস্যার জর্জরিত। এতসব সমস্যার মধ্যে জলাবদ্ধতা এখন একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পিত উপায়ে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে হবে। জলাবদ্ধতার কারণগুলো যেহেতু অজ্ঞাত নয়, সেহেতু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন নয় নিশ্চয়ই। রাজধানীর জলাবদ্ধতা রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বক্স কালভার্ট ও ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রাকৃতিক খালগুলো সংস্কার করতে হবে। ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলেই জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে।


কাজেই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ই কাইমসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলা যায়, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ন হওয়া ঢাকার মতো একটি মেগা সিটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আরো অধিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

আমরা আশা করবো, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে।

লেখক : জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী।

নিউজ পেজ২৪/ইএইচএম