শিল্প সাহিত্য

ডিসেম্বর ৩, ২০১৫, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

আরবী গল্প : ‘ইন্তেজার’

মূল : ফাদেল মাশালী, অনুবাদ : ড. আবদুস সালাম

[ড. ফাদেল মাশালী আধুনিক আরবী সাহিত্যে নিজের স্থানটি পাকা-পোক্ত করে নিয়েছেন নিজস্ব শৈলীতে। বিশেষ করে গল্পের ক্ষেত্রে তার একটি নিজস্ব প্রয়াসের উদ্বোধন লক্ষ্য করার মত। তাঁর জীবন তাঁরই মত করে দেখা, তার জগত্ তাঁরই অনুধাবনের সীমানায় উন্মোচিত। ফলে ড. ফাদেল মাশালী আরবী ভাষা ও সাহিত্যের পাঠকদের কাছে একটি ঐকান্তিকতার আগ্রহে সম্মানিত হয়েছেন, সংবর্ধিত হয়েছেন।]

দরোজার করাঘাত শুনতে পেল। হৃদয় আশার দোলায় উঠলো দুলে। প্রতীক্ষিত আনন্দের শান্ত-শিহরণ বয়ে গেল মন-মস্তিস্কে। তাহলে অবশেষে, অবশেষে কি তার ডাকে কেউ সাড়া দিল? দরোজা খোলা, ও-নিশ্চয়ই তা বুঝতে পারবে, এরপর আস্তে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকবে, ওর মুখে দেখব একরাশ ছড়ানো হাসি। দেখো, পূর্ণিমা চাঁদের মত স্বপ্নীল-স্নিগ্ধতা নিয়ে ও-এখনি ঢুকবে৷ মনে হয, বনী হামদানের কোন অশ্বারোহী যুবক হবে-ও। গায়ের রঙ হবে নীল নদের পানির মত। আমালিকদের কোন সভ্রান্ত যুবকও হতে পারে। কিংবা হতে পারে বাবেলের কোন কাহিনী-পুরুষ৷ না, না, ওর হাতে ছুরি, বন্দুক কিচ্ছু থাকবে না। ওর সাথে শুধু মুখ-ভরা হাসি থাকবে-আজকে যার প্রয়োজন বডডো বেশী।

বিশটা বছর এই অসহ্য প্রতীক্ষায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে অপেক্ষা করছে সে। দিন যাপনের ক্লান্তি ধীরে ধীরে নিঃশেষিত করে তুলছে তাকে। বাদামী রঙের আশ্বারোহী এ-ডাক্তারকে কতদিন ধরে খুঁজছে! কত ছবি তার হৃদয় পর্দায় এঁকেছে! ওর অসুখ যখন বেড়ে যায়, এভাবে ছবি আঁকতে থাকলে বেদনার কিছুটা উপশম হয় যেন।

আগন্তুক আবারো করাঘাত করলো মনে হয়। ও চঞ্চল হয়ে উঠলো। সারা শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শক্তিগুলো একত্রিত করতে চাইছে। ডাইনে মাথা কাত করতেই চোখাচোখি হলো দেয়াল-ঘড়িটার সাথে। চোখের ভ্রু দু’হাতে কুচকালো একবার। যেন ক্ষীয়মান দৃষ্টির সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হলো আলো-আঁধারির। ঘড়ির কাটায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দেখলো লম্বাটা খাটোটাকে ছুঁই ছুঁই করছে। ওরা দু’টোই এখনো প্রথম তিন ঘরে বন্দী। তাহলে একটু আগেই ফজরের আযান হলো? অশ্বারোহী ঠিক সময়ে এসেছে। আসলে আশ্বারোহিদের জন্ম হয় ফজরের সাথে সাথে। শেষতক এলো বটে। আল্লাহর যে-মাখলুকের প্রত্যাশায় এতদিন-সে-ই তাহলে কপাটের কাছে?

হঠাৎ জেগে ওঠা ওর চাঞ্চল্য ধরে রাখার অপ্রাণ চেষ্টা করছে, আগন্তককে নিয়ে আসার জন্যে উঠে দাঁড়াবার দুর্বার প্রয়াস চালাচ্ছে সে। কম্পমান হাত দু’টো করলো মুষ্টিবদ্ধ। বিছানা হাতড়িয়ে জোরে চাপ দিলো তার সমস্ত শক্তি নিয়োগ করে। দেহটা খানিক উঁচু হলো। ভালোভাবে বসার আগেই শুরু হলো দু’হাতে প্রচণ্ড কাঁপুনি। ঘামে ভিজে গেল সারা শরীর। প্রাণান্ত চেষ্টা করতে লাগলো একটু বসার জন্যে। দ্রুত নিঃশ্বাসের সাথে আরম্ভ হলো গোঙানীর শব্দের দাপাদাপি। অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। গলায় কিসের ফাঁস এঁটে গেছে। অমনি ধপাস করে পড়ে গেল… এবং শরীর কাঁপতে লাগলো ঝাঁকুনি দিয়েই।

শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে রোগাক্রান্ত হবার পর থেকে ও বড় একা। চার দেয়ালের মাঝে কিছু তিক্ত স্মৃতি ও সব হারাবার গ্লানি নিয়ে বন্দী সে। দিন যায় আসে, আরোগ্যের বালাইও নেই। মুক্ত দরোজা, অথচ কেউ আসেনা। আসলেও পেছন পথে পালিয়ে যায়। সোনালী ভবিষ্যতেরা পালিয়ে যায় সামনে বাঁকে। তাকে আর কোন দিন ছুঁতে পারবে না –এ যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ।….মমী ঢাকা পুরু আবরণের মত বর্তমান তাকে যেন ঢেকে রেখেছে। সে পুরু আবরণ আরো প্রশস্ত হয়ে তাকে পেঁচিয়ে ফেলতে চাইছে যেন৷ হাত-পা অসাড়-অবশ৷ র্নিজনতার গহবরে সে আজ নিক্ষিপ্ত৷ নিষ্ঠুর বর্তমান তার বাকশক্তি ভবিষ্যতের রাস্তা মাড়াতে দিচ্ছেনা। নিশ্চল যামানার অভিশাপ ওর মাথায়। কালব্যধির তাণ্ডবনৃত্য ওর প্রতি শিরা-উপশিরায়৷ খানিক চোখ বুজে আরাম করার চেষ্টা করল। চারিদিকে তাকালো৷ চওড়া দেয়াল, হলদেটে ক’খান বই আর ওষুধের কিছু বোতল ছাড়া আর কিছু নেই। কান খাড়া করল বাইরের প্রতি।… স্পন্দন- চারপাশের পৃথিবী চলছে অবিরাম৷ কালের গতি প্রবাহমান। সংগীতের সুরমূর্ছনা সারা পরিবেশ নৃত্য-পাগল অথচ বাইরের সূচিভেদ্য আঁধার কেউ থাকতে পারে না ?

মন নিরাশ-তিমিরে এতটুকুন হয়ে গেল৷ ও দিকে বাড়ছে দুরন্ত ব্যাধির মরণ-যাতনা। হামাগুড়ি দিয়ে চললো দরোজার দিকে। কোন রকমে খুলে মুখ বাড়িয়ে দিলো। অপেক্ষা করতে লাগলো অসীম আগ্রহে। আকুতিভরা দুহাত তুললো আকাশের দুয়ারে। ক’টা ইঁদুর এবং বিড়াল ছাড়া আর কেউ ঘরে ঢুকলো না। ওরা সেই প্রথম থেকেই তার সাথে আছে৷ প্রথম প্রথম ভেবেছিলে বৃষ্টির ধারা ফোঁটায় ফোঁটায় আসে। হয়ত ওদের দিয়েই রহমাতের শুভ সূচনা। কাজেই ওদেরকে ঘরে ঠাঁই দিতে দোষ কি। দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি, মারামারি-হরেক রকম খেলা দেখিয়ে ওরা তাকে হাসাতো। কিন্তু তারপর থেকে শুরু হলো বিদ্রুপের পালা। বইগুলো টুকরো টুকরো করলো, খাদ্যগুলো দিলো সাবাড় করে,এরপর ওষুধের পাত্রে দিলো পেশাব করে। কিন্তু…

ও যে ফজরের আযানের সাথে সাথে দরোজায করাঘাত শুনেছিল। ভেবেছিলো বাদামী রঙের আশ্বারোহী এ ডাক্তার অবশেষে আসবেই। ও-যে বড় পরিচিত। নিশুতিরাতে কতবার তাকে স্বপ্নে দেখেছে! না, না, ও নুওয়াইল চোরের মত নয়। ওরে আল্লাহ্রে, ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন চোরটা খিড়কি দিয়ে ঢুকেছিলো। না, র‌্যাম্বোর স্টাইলে বোমা নিয়েও সে আসবে না। নিশ্চয় ও-খালী হাতে আসবে। অশ্বারোহী বটে, তবে তার অস্ত্র হবে একমুখ হাসি, কিছু প্রত্যয় এবং মেধা ….. ছুরিও না, বন্দুক না।

-আসুন ডাক্তার দরোজা ভেজানো। একটু ধাক্কা দিলেই খুলে যাবে। আসুন, আমার বিশ্বাস, আবদ্ধকালের দুর্বিসহ ও দুর্গম এ-পথ আপনি হাতে ধরে আমাকে পার করতে পারবেন, হে চপল অশ্বারোহী, আসুন, আমার হাতটা ধরুন।

ওর গলার স্বর বাড়াতে চেয়ে ব্যর্থ হলো। গলা আটকে গেল। শুরু হলো শুকনো কাশি। প্রাণ বেরিয়ে আসতে চাইছে যেন। দুচোখ বেদনার অশ্রু ঝরানো। যন্ত্রণায় সারা মুখ নীল হয়ে গেল। সমস্ত শরীর কাঁপছে রি রি করে। ভয়ার্ত চোখজোড়া ঠিকরে পড়লো- দেয়ালে টাঙানো মৃত জীবনসংগিনীর কাঁচে বাধা ছবির ওপর। সেটাও যেন কাঁপছে। ওইতো, যেন ছবিটা ধীরে ধীরে লম্বা হয়ে নীচে নামছে। কাঁচের আবদ্ধতা ভেঙে মেঝেতে পা দিচ্ছে। হেঁটে হেঁটে কাছে আসছে৷ আহ্‌ আলতো করে বুকে হাত রাখলো সে! ভিজে ঘাম মুছে দিচ্ছে!! ঘটনার আকস্মিকতায় শ্বাস নিতেও যেন ভুলে গেল সে। দেখলো ক্ষুব্ধতা ও ঘৃণায়ভরা নয়ন জরা-ব্যাধিগ্রস্থ মুমূর্ষু স্বামীর আপদমস্তক নিরীক্ষণ করে চলছে- বড় লজ্জায় অভিভূত হয়ে গেল।

কাঁপা গলায় বললো-

-তুমিতো জানো প্রিয়তমা, আমি কত বলিষ্ঠ ছিলাম!

-হ্যাঁ ছিলে বটে!

কিছু সাহস সঞ্চারিত হলো- ডুব দিলো অতীতের মরাগাঙে-ভাব লেশহীন কণ্ঠ বলে উঠলো-

-চিনতো আমায় অশ্ব এবং রাতের আঁধার, উষর মরু...

-চুপ কর -কথা শেষ না করতে দিয়েই ওর স্ত্রী ধমক দিয়ে উঠলো -এখন কী হয়েছে তাই বলো।

দুর্বল দুটি হাত উঠিয়ে দিলো বাতাসের কাঁধে…বাড়িয়ে দিলো আপন প্রিয়তমার দিকে৷ আবার ফিরিয়ে আনলো। পৃথিবীর বয়ে চলা নদীর মত তার সারা দেহ হতে ঘাম ঝরে পড়ছে একে-বেকে। অনুচ্চ স্বরে বললো:

-জাতির বিরুদ্ধে আক্রমণ তো ওরাই করেছিলো…. ওরাইতো বোম ফেলেছিলো। চেরোনোবিলের দুর্ঘটনার যেন আবার হলো পুনরাবৃত্তি। কই আজো কোন শান্তির জন্য শীর্ষ সম্মেলন হলোনা!!

-তারেক কোথায়? কোথায় আমার তারেক আর ছেলে মেয়েরা?

ভেজানো কপাটের দিকে ইশারা করে বললো:

– তারেক সমুদ্রে গেছে, ওর ভাই বোনেরাও তার সাথে৷ ওরা নাকি বেঁচে থাকার জন্য এক মুঠো হালাল রুজির সন্ধানে বেরিয়েছে।

কিছুক্ষণ নীরব হয়ে পড়ে রইলো। অবাধ্য অশ্রু তখনো বয়ে যাচ্ছে দুচোখ দিয়ে। বললো- লোকেরা বলা-বলি করে, তারেক নাকি আমার মুখ দেখবে না বলে জাহাজ পুড়িয়ে দিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছে। লোকেরা বলে বেড়িয়েছে, তারেক আমার নাম শুনে ঘৃণায় থুথু ফেলতো।

এসব শুনেও মূর্তিমান ছবিটা নিষ্পন্দই রয়ে গেল। ও- যেন রোগীর মুখ থেকে আরো জেনে নিতে চায়। লোকটা দেখলো-আগুনে পোড়া কয়লার মত চোখের অসহ্য অগ্নিদৃষ্টি তার প্রতিটি অঙ্গ জ্বালিয়ে দিচ্ছে। দেখলো- ওর স্ত্রীর চুল ঢাকা চাঁদর অল্প সরে গেল। দেখতে পেল- তার রক্তিমাভ বুক, গ্রীবা ও দু’কানের চারপাশ আগুনে দগ্ধ হয়ে কয়লার মত হয়ে গেছে৷ সীমাহীন লজ্জায় আবিষ্ট হয়ে কৈফিয়তের স্বরে তড়বড়িয়ে উঠলো:

-আমি কী করতে পারতাম বল প্রিয়তমে? ওদের বন্দুকগুলো একসাথে গর্জে উঠে সারা শহর শেষ করে দিলো। আমার কি করণীয় ছিলো বলো?

মূর্তিমান মেয়েটির কাছে কথাগুলো বড় অসহ্য মনে হলো। আরো খানিক এগিয়ে এলো রোগাক্রান্ত স্বামীর অংক পাশে। ওর গায়ের পুড়ে যাওয়া ক্ষতের গন্ধ এসে ঠেকেছে নাকে…মেয়েটি অগ্নিশর্মা হয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো:

-শুধু কি বন্দুক? শুধু বন্দুকের গুলি কি এতবড় অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে?

তিক্ত সত্যের সুতীক্ষ্ণ শব্দ-বাণ যেন তার হৃদয়তন্ত্রীতে যেয়ে বিঁধে গেল! মনে হলো, নিশ্ছিদ্র পর্দায় লুকিয়ে রাখা রহস্য বোধ হয় এখনই জানা হয়ে যাচ্ছে। হয়ত এখনই থলের ব্যাঙ লাফিয়ে পড়বে। তার চেয়ে আত্মহনন যে অনেক ভালো।

ক্ষীণকম্পিত কণ্ঠে জবাব দিলো:

-জানিনে৷ তবে আমি আগুন দিইনি বিশ্বাস কর প্রিয়তমা। খোদার কসম এভাবে আগুন লাগিয়ে কওমের এতবড় সর্বনাশ আমি করতে পারি?

মহিলা তারস্বরে চিৎকার দিয়ে বলল:

অদ্ভুতকাণ্ড, আগুন তুমি লাগাওনি, তবে কি বসে খেলা দেখছিলে? ইঁদুর- বিড়ালের খেলা দেখছিলে না ?? শত্রুদের দালাল। তুমি কাপুরুষ৷ জাতির বিশ্বাসঘাতক৷৷৷ ভীরু এখন ছারখার জনপদের কয়লা শুঁকে আর নিজের আঙুল কামড়িয়ে মর।

ওর সারা শরীর থরথর করে কাপছে। ঘরের চার দেয়াল যেন টলছে। শরু হলো শুকনো কাঁশি। বুকের পাঁজর যেন ভেঙে যেতে চাইছে। বিগলিত অশ্রুর ঝর্নাধারা যেন সারা পৃথিবীকে কুয়াশাচ্ছন্ন করে দিচ্ছে। গাঢ় ধোয়ার ভেতর দিয়েও দেখতে পাচ্ছে আগুনের লেলিহান জিহ্বা। আস্তে আস্তে গিলে ফেলেছে ওর জীবন সঙ্গিনীর শ্বেতশুভ্র কান্তিময় দেহ। শুনতে পাচ্ছে মেয়ে কন্ঠে আর্তচিৎকার : বাঁচাও … বাঁ…. ও, ওগো ওভাবে কি দেখছো, আমাকে বাঁচাও। দেখতে পাচ্ছে – যেন একটু বাঁচার জন্য ওর প্রিয়তমা ছুটে চলছে আবদ্ধ কাঁচের চতুর সীমানায়। যেখান থেকে এই কিছু আগেই সে নেমে এসেছিলো।

লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা করলো রোগশয্যা থেকে- যে করেই হোক ওকে যে বাঁচাতেই হবে৷ বুঝতে পারলো নিমেষেই ওর দেহের নীচের ভাগ পক্ষাঘাত্গ্রস্ত হয়ে গেছে। চিৎকার করার চেষ্টা করছে, অথচ তার কন্ঠ যেন কে আটকে রেখেছে। হুঁশ ফিরে এলে দেখলো ওর আত্মার আত্মীয় জীবনসঙ্গিনীকে বন্দী করেছে দেয়ালে টাঙানো একটুকরো কাঁচ। কোন রকমে গোঙানীর শব্দে বললো:

-ওগো, এজন্যেই কি দরোজায় করাঘাত করেছিলে ?… শুনতে পেলো সুদূর অন্তরীক্ষ ভেদ করে গম্ভীর মেয়েলি কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে:

আরে বোকা, মৃতরা কি দরোজায় করাঘাত করতে পারে?

ওর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চোখ জোড়া হলো বিস্ফারিত। উৎকর্ণ হলো বাইরে কিছু শোনা যায় কিনা ? হ্যা, ওইতো বাতাসে বাতাসে অনুরণিত হচ্ছে, ‘বোকা, মৃতরা কি দরোজায় করাঘাত করতে পারে?… কিন্তু ওইতো দরোজায় এখনো করাঘাত শোনা যাচ্ছে। দ্রূত। ছন্দের তালে তালে। সারা বাড়িতে স্পন্দিত হচ্ছে সরব সে করাঘাত। ওতো বাদামী রঙের অশ্বারোহী ডাক্তার … ওতো আসবেই। বলেছিলাম না, আমার স্কন্ধে জেঁকে বসা জমানার নিশ্ছিদ্র গণ্ডি থেকে ও আমাদের নিয়ে যাবে মুক্ত ধরণীতলে? দেখো….. আমার এ ধারণা মিথ্যে হবেনা… দরোজার দিকে যন্ত্রণাকাতর দৃষ্টি নিবদ্ধ… হৃদয়তন্ত্রী ছিঁড়ে ছিঁড়ে শেষবারের মত বেরিয়ে আসছে:

-এসো, ওগো ডাক্তার … এসো, দরোজা খোলা আছে। সামান্য ধাক্কা দিলেই খুলে যাবে। এসো, তোমাকে যে বডড্‌ প্রয়োজন আজ। জাতির বিশ্বসঘাতকতার ঋণ আমি শোধ করতে চই। এসো, আমার হাতটা ধর না, বড়…. আমি যে তোমার ইন্তেজারে…।

নিউজ পেজ২৪/আরএস