ডিসেম্বর ৫, ২০১৫, ৫:৪৭ অপরাহ্ন

রংপুরে শিশুর পেটে শিশু!

নিউজপেজ ডেস্ক

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। দুই মাস বয়সি শিশুর থেকে জন্ম নিয়েছে আরেক শিশু।

শনিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একটি ছেলে শিশুর পেটে অস্ত্রপচার করে আরেকটি শিশুর ভ্রুণ বের করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসরা জানিয়েছেন, সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুটির (অথবা ভ্রুণ) হাত, পা, মস্তিষ্ক, মাথার চুলসহ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। একটি স্বাভাবিক শিশুর নমুনা ধারণ করেছে সদ্যজাত শিশুটি। এ ঘটনাকে বিরল বলে আখ্যায়িত করেছেন চিকিৎসকরা।

ওই হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবুল কুমার সাহার নেতৃত্বে ৬ জন চিকিৎসক ছেলে শিশুটির পেটে অস্ত্রপচার করেন। এ ব্যাপারে ডা. বাবুল কুমার সাহা বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রতের বাজার গ্রামের পোশাক শ্রমিক সোহেলের স্ত্রী মুন্নী বেগম দুই মাস আগে একটি ছেলে শিশু প্রসব করেন। জন্মের কিছুদিন পর শিশুটির পেট ফুলতে থাকে। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যান করলে শিশুটির পেটে আরেক শিশুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। শনিবার সকালে সফল অস্ত্রপচার করে শিশুটির পেট থেকে আরেকটি মেয়ে শিশুর ভ্রুণ বের করা হয়।’

ডা. বাবলু কুমার সাহা আরো বলেন, ‘অপারেশন করে দেখা যায়, মেয়ে শিশুটির শরীরে প্রায় সবগুলো অরগান ডেভেলপ করেছে। শিশুর ভ্রুণটি যেহেতু প্রায় পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করেছে, সে কারণে আমরা এটাকে বাচ্চার পেটে বাচ্চা বলছি। তবে শিশুটি পোষক শিশুর পেটে আর ৫/৬ মাস থাকলে এটি পরিপূর্ণ শিশু হয়ে যেত। তবে এ ক্ষেত্রে পেটে থাকা শিশুটি বাঁচতে পারত, মারাও যেতে পারত। তবে যে শিশুর পেটে বাচ্চাটি বড় হচ্ছিল, সেই শিশুটিকে বাঁচানো যেত না। এ কারণেই অপারেশন করতে হয়েছে। অপারেশন করার পরে শিশুটির জ্ঞান ফিরেছে। এখন সে সুস্থ আছে।’

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে শিশুটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৮ নম্বর শিশু সার্জারি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে। অপারেশন করে বের করা মেয়ে শিশুর ভ্রুণটি সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।

নিউজ পেজ২৪/আরএস