সম্পাদকীয়

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫, ১:২৬ অপরাহ্ন

দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে তো!

নোয়াখালীর একটি ইউনিয়ন পরিষদের কথা বলছি। টানা তিনবার সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন জাসদ সমর্থিত এক প্রার্থী। অথচ ভোটের অংকে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি-আওয়ামী লীগ। তার যোগ্যতা হল- দলের উদ্ধে উঠে সবার সাথে সু-সম্পর্ক রাখা, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা এবং বিপদ-আপদে যথা সম্ভব জনগণের পাশে থাকা। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সেই চেয়ারম্যানের যত যোগ্যতাই থাকুক না কেন জাসদের মশাল প্রতীক নিয়ে নৌকা-কিংবা ধানের শীষের সঙ্গে তার পেরে উঠা কি সম্ভব!

যদিও আগে নির্দলীয় আবরনে অনেকটা দলীয় নির্বাচনই হতো। কিন্তু দলীয় প্রতীক ছাড়া ওইসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল-মতের উদ্ধে কিছু সংখ্যক উদার-গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন জনপ্রতিনিধি তৈরি হতো। যারা সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন। কিন্তু এখন সেই সুযোগ কতটুকু আছে?

পার্শ্ববর্তী ভারতসহ উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতেই হয়। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো তাদের মতো কতটা শক্তিশালী! দলগুলোই বা গণতন্ত্র চর্চা কতটুকু করে।

যাহোক নির্বাচনী ডামাঢোল শুরু হয়ে গেছে। বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাদের শরীক নিবন্ধন বাতিল হ্ওয়া জামায়াতের প্রার্থীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে বড় দুই দলের শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মাঠে আছেন। দীর্ঘ দিন পর মানুষ নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই দেখবে।

প্রশ্ন হলো সে লড়াই-কতটা অবাধ-সুষ্ঠু আর সহিংসতা বিহীন হবে? উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা, যারা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন- তাদের পক্ষে কতটা সম্ভব হবে মন্ত্রী-এমপিদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দেয়া।

তৃণমূলের ওইসব কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন এসব ব্যপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে নারাজ! ইতোমধ্যেই পাঁচটি পৌরসভায় বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

যার তিনটি পৌরসভা বিএনপিরই দুর্গ হিসেবে খ্যাত নোয়াখালী ও ফেনী জেলায়। বিশেষ করে ফেনীর বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বেশিরভাগ কাউন্সিলর পদেও প্রতিদ্বন্ধিতা নেই। প্রশ্ন আসে - সেসব জায়গায় বিএনপির প্রার্থী সংকট ছিল নাকি হুমকি দমকি ছিল। সবকিছু ছাপিয়ে এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় নতুন অধ্যায় বলা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় সেই যাত্রায় নির্বাচন কমিশন কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারে।

নিউজপেজ২৪/একস