শিল্প সাহিত্য

জানুয়ারী ২২, ২০১৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন

সুরস্রষ্টা খোন্দকার নুরুল আলম আর নেই

নিউজপেজ ডেস্ক

‘চোখ যে মনের কথা বলে’ গানটি শোনেননি এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। এ গানের সুরস্রষ্টা দেশবরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী খোন্দকার নুরুল আলম (৮০) মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। শুক্রবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অসুস্থবোধ করলে খোন্দকার নুরুল আলমকে রাজধানীর ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান গুণী এ সঙ্গীত পরিচালক। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান অথবা বনানীতে দাফন করা হতে পারে।

এদিকে শনিবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খোন্দকার নুরুল আলমের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হবে বলে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত সেখানে রাখা হবে তাকে।

কয়েক বছর ধরে নিভৃতে ছিলেন একুশে পদকে ভূষিত খোন্দকার নুরুল আলম। থাকতেন ধানমণ্ডির ১৫ নম্বরের পৈত্রিক বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রামের মেয়ে কিশওয়ার সুলতানার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

১৯৩৬ সালের ১৭ আগস্ট ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলার ধুবড়ী মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন খোন্দকার নুরুল আলম। বাবা নেসারউদ্দিন খন্দকার ও মা ফাতেমা খাতুনের দ্বিতীয় সন্তান তিনি। মাকে হারান ১৯৪৮ সালে, ১২ বছর বয়সে। একই বছর পুরো পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে চলে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে ১৯৫৯ সালে বেতারের সঙ্গে যুক্ত হন খোন্দকার নুরুল আলম। ১৯৬০ সালে তিনি ‘হিজ মাস্টারস ভয়েস’ গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে সুরকার হিসেবে যোগদান করেন। বিটিভির জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

‘ইস ধরতি পার’-এর মাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যুক্ত হন খোন্দকার নুরুল আলম। ১৯৬৮ সালে ‘অন্তরঙ্গ’ ও ‘যে আগুনে পুড়ি’ বাংলা ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি। সে সময় ‘যে আগুনে পুড়ি’র ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

এরপর আর থেমে থাকেননি, স্বাধীনতার পর ‘ওরা ১১ জন’ ছবিরসঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন খোন্দকার নুরুল আলম। অসংখ্য কালজয়ী ছবিতে রয়েছে তার সুর করা ও গাওয়া গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘সংগ্রাম’, ‘জলছবি’, ‘দেবদাস’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’ প্রভৃতি।

সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি পুরস্কার, শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন খোন্দকার নুরুল আলম।

নিউজ পেজ২৪/আরএস