মিডিয়া

ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০১৬, ২:৩৮ অপরাহ্ন

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গ্রহণের আবেদন পুলিশের

নিজস্ব প্রতিনিধি

দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।


শনিবার এ সংক্রান্ত আবেদন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর হোসেন।


রাষ্ট্রদ্রোহের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়েরের পর আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোতয়ালি থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।


কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর হোসেন বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। আমরা অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হবে।


সূত্রমতে, শুক্রবার স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে লেখা আবেদন সুপারভাইজিং অথরিটি হিসেবে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনারের (দক্ষিণ) কাছে পাঠানো হয়। শনিবার সেটি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে।


১৭ ফেব্রুয়ারি মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে দুইটি মানহানির মামলায় তাকে আদালতে হাজিরের জন্য সমন জারি করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোতয়ালি থানার ওসিকে বলেছেন আদালত।


রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন।


জরুরি অবস্থার সময় যাচাই ছাড়া শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতির’ খবর প্রকাশ করায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে।


সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির খবর’ সরবরাহ করেছিল জানিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক টেলিভিশন আলোচনায় মাহফুজ আনাম বলেন, যাচাই না করে ডেইলি স্টারে তা প্রকাশ করা ছিল ‘বিরাট ভুল’।


ওই সময় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য মামলা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বহু রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মাহফুজ আনামের এই স্বীকারোক্তির পর সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা শুরু হয়।