শিল্প সাহিত্য

ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০১৬, ৪:২৪ অপরাহ্ন

শিরি-ফরহাদের মৃত্যু হয়েছিল ভূমিকম্পে

নিজস্ব প্রতিনিধি

শিরি-ফরহাদ প্রেমগাথার মূল উৎস প্রাচীন ইরানি লোকগাথা। এই কাহিনিরও আছে বেশকিছু রকমফের। অর্থাৎ একেক জায়গায় একেক রকম কাহিনি দেখা যায়। তবে কাহিনির নায়িকা শিরিন সব সংস্করণেই রানী বা রাজকন্যা। নায়ক ফরহাদ কোথাও বাঁধ বা জলাধার নির্মাতা, কোথাও স্থপতি, কোথাও আবার ভাস্কর। শিরি বা শিরিন শব্দের অর্থ ‘শ্রী’ বা ‘সৌন্দর্য’। অনেক ভাষা বা ধ্বনিতাত্ত্বিকদের বিচারে ফরহাদ বা ফর্হাদ শব্দটি ‘বৃত্ত’ বা বাঁধের কাছাকাছি।

এই প্রেম কাহিনির প্রাচীনতম একটি সংস্করণে দেখা যায় নায়িকা শিরি নায়ক ফরহাদকে বলেছিল, ‘ওই নদীতে বাঁধ বাঁধতে পারলে আমাকে পাবে।’ নায়ক ফরহাদ শিরির হৃদয় জয় করার আশায় অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজে নামে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বাঁধ ভেঙে যায় এবং জলেল তোড়ে ফরহাদ ভেসে যায়। তখন শিরিও পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

আরেকটি নির্ভরযোগ্য কাহিনিতে নায়ক ফরহাদকে দেখানো হয়েছে হতভাগ্য এবং খ্যাতনামা এক ভাস্কর রূপে। এই কাহিনি এ রকম- কোহে আরমান রাজ্যের রাজকন্যা শিরি রূপে-গুণে তুলনাহীনা। আর পশ্চিম চীন সীমান্তের ছোট জনপদ কাঁরেয়ার নামজাদা এবং প্রতিভাধর ভাস্কর ফরহাদ। পাথর কেটে মনুষ্য মূর্তি নির্মাণ করে সে। ফরহাদের অহঙ্কার ছিল তার বানানো মূর্তির চেয়ে সুন্দর দুনিয়ায় আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু, হঠাৎ একদিন রাজকন্যা শিরির একটি চিত্রপট (হাতে আঁকা ছবি) দেখে সেই অহঙ্কার ভেঙে খান খান হয়ে যায় তার। শিরির রূপে বিমুগ্ধ ফরহাদ। শিরির রূপে বিমোহিত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে। প্রেমে উন্মত্ত হয়ে একের পর এক শিরির মূর্তি গড়তে থাকে ফরহাদ। হয়ে যায় উদভ্রান্ত, উদ্দেশ্যহীন মুসাফির।

একদিন ঘুরতে ঘুরতে সত্যি সত্যি সামনাসামনি শিরির দেখা পায় সে। কিন্তু রাজ্য আর ক্ষমতার টানে শিরি গ্রহণ করতে পারে না ফরহাদকে। এদিকে অর্ধউন্মাদ ভাস্কর ফরহাদ কুঠার হাতে লেগে যায় বেসাতুন পর্বত কেটে শিরির স্মৃতিরূপে সেখানে প্রিয়তমার মূর্তি গড়ার কাজে। যুদ্ধ জয় শেষে এই ঘটনা শোনার পর রাজ্য সিংহাসন তুচ্ছ করে শিরি ছুটে যায় বেসাতুন পর্বতে ফরহাদের কাছে। এমন সময় ভূমিকম্পে এক সঙ্গে প্রাণ হারায় এই দুই প্রেমিক যুগল।