মিডিয়া

মার্চ ৩, ২০১৬, ১:৩৯ অপরাহ্ন

‘প্রধান বিচারপতির বক্তব্য সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নীতিকে উৎসাহ যোগাবে’

নিজস্ব প্রতিনিধি

গণমাধ্যমের বেশি স্বাধীনতা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেওয়া এমন বক্তব্য ক্ষমতাসীনদের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বেপরোয়া নীতিকে আরও সমর্থন ও উৎসাহ যোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বুধবার সিলেট জেলা আদালতে ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ পদ্ধতির উদ্বোধনকালে প্রধান বিচারপতির দেওয়া বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। এ ধরণের বক্তব্য ক্ষমতাসীনদের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বেপরোয়া নীতিকে সমর্থন ও উৎসাহ যোগাবে।

তারা বলেন, দেশের সাংবাদিক সমাজ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যম একে অপরের পরিপুরক। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যে বিপন্ন হয় তা বাংলাদেশে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আইনী বাধা-নিষেধ মেনে সংবাদমাধ্যম কাজ করবে তাও বলে দেয়া হয়েছে। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়া হয়েছে শর্তহীনভাবে। সংবিধান স্বীকৃত এ স্বাধীনতা কোন পক্ষ থেকে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব সংবিধানের রক্ষক সর্বোচ্চ আদালতের।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে। সত্য প্রকাশের দায়ে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে, জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন চলছে এবং গণহারে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের বিস্মিত ও শঙ্কিত করে তুলেছে।

নেতৃবৃন্দ গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পক্ষে উচ্চ আদালতের ইতিবাচক ও বলিষ্ঠ ভ’মিকা প্রত্যাশা করেন।