সম্পাদকীয়

এপ্রিল ২৬, ২০১৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

সব ক্ষেত্রেই কেন এমন লাগামহীন অবস্থা?

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

গতকাল যখন লেখার প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিলাম তখন খবর পেলাম, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে মোটরসাইকেলে এসে দুষ্কৃতকারীরা প্রধান কারারক্ষীকে গুলি করে হত্যা করেছে। এটাও কি সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলার লক্ষণ? কারাগারের সামনে সশস্ত্র রক্ষী থাকার পরও যদি হত্যাকারী নিরাপদে চলে যায় তাহলে আইনশৃঙ্খলার কত দুর্বলতা ভেবে পাই না। এখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম যা, এই দামে ১৯৭৫-’৭৬ সালে বাংলাদেশে ১৩-১৪ টাকা লিটার অকটেন-পেট্রল ছিল। কোথায় ১৫০ ডলার থেকে নেমে প্রতি ব্যারেল ২৮-৩০ ডলার হয়েছে। সরকার গতকাল ৩ টাকা থেকে ১০ টাকা কমিয়েছে। দেশবাসীর সঙ্গে এমন মশকারা আগে কেউ করেছে বলে জানা নেই।

এখন ফকিরও ৩ টাকা নিতে চায় না। ১০ টাকা দিলেও গাল ভরে না। ঢাকার মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুকদের কাছে আমি খুব পরিচিত। তারা মনে করে আমিও তাদেরই একজন। তাই একেবারে পকেটে হাত না দিলেও সামনে পেলেই কিছু আদায় করার জন্য দারুণ জোরাজুরি করে। ১০ টাকা তেলের দাম কমিয়ে সরকার এবং দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। এ রকম মশকারা না করে পেট্রলের দাম ৫০-৬০ টাকা কমানো উচিত। সরকার এবং ব্যক্তি কখনো এক নয়, ব্যাপারটা মনে হয় যারা উচ্চ পদে আছেন তারা ভুলে গেছেন। অন্যদিকে এই সেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক দিনের বেলায় তার বাড়ির সামনে দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চারজন নিহত হলেন। যোগ্য দক্ষ পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। নিজের ঘরে সাগর-রুনি যখন নিহত হন তখন সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। ৪৮ মাসেও পারেননি। নিরাপত্তাবলয়ে ঘেরা সেনা ছাউনির ভিতরে তনু নিহত হয়েছেন। হত্যাকারীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত পরশু রাজশাহীতে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নিজের হাতে, না ঘাতকের দ্বারা নিহত হয়েছেন ঠিক বুঝতে পারছি না। সর্বত্র পাপ সীমাহীন হওয়ার এটাই লক্ষণ। সেদিন হঠাত্ই একজন জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনি নাকি বলেছেন জয়ের যে টাকা আছে তা দিয়ে পাঁচটি পদ্মা সেতু হতে পারে? তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এসব কোথায় বলেছি? সোজা-সাপটা জবাব, আপনার ফেসবুকে। চমকে গিয়েছিলাম, কী বল? আমি তো ফেসবুক ব্যবহার করি না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ফেসবুক যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী ব্যবহার করে।

তার এক কথা, সত্যিই কি জয়ের টাকা দিয়ে পাঁচটি পদ্মা সেতু হতে পারে? তাকে বলেছিলাম, জানি না। জয়-পুতুল যখন দিল্লিতে তখন ওদের কোলে-কাঁখে নিয়েছি। তাদের এত টাকা হয়েছে আমি জানি না। জানলেও ওভাবে বলতাম কিনা সন্দেহ। রাজনীতি এক জিনিস আর মনুষ্যত্ব অন্য জিনিস। ওদের স্নেহ করি। ওরা বড় হয়েছে, তাই বলে স্নেহহারা হয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান সম্পর্কে শুনতাম, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। এখনো শুনি, যে সরকার তাদের নাস্তানাবুদ করেছে, নির্যাতন করেছে তারাও তার নামে হাজার তো দূরের কথা, শত কোটির মামলাও দেয়নি, এ সরকারও দেয়নি। আসলে আমরা একজন আরেকজনকে ছোট বা ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য অনেক কথা বলি। অথচ বাস্তবে তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

আমার ফেসবুকই নেই বা এখন পর্যন্ত ব্যবহার করি না। আর সেই ফেসবুকে আমার কোনো বক্তব্য আসা সে তো আরও বড় অসত্য। কী বলি! ডিজিটাল জমানা, সব কিছু বাতাসে ওড়ে। আগে চোর-ছেঁচড় কত কষ্ট করে সিঁধ খুঁড়ে বাড়ির গৃহস্থের এটাওটা চুরি করত। এখন আর কষ্টের দরকার পড়ে না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে বোতাম টিপে লাখো কোটি চুরি করা যায়। গরিব মানুষ চোর ফেরাতে ঘরে বেড়া দেয়, কেউ শোলা দিয়ে, কেউ বাঁশ, কেউবা টিনের। যারা সামর্থ্যবান তারা ইটের দেয়াল তোলে। কিন্তু সরকারের ঘরে চুরি হলে রাষ্ট্রের কী হবে? দেশের মানুষ কোথায় যাবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের আট হাজার কোটি টাকা বোতাম টিপে চুরি হয়ে গেছে। আমাদের লোক জড়িত না থাকলে কি তা সম্ভব? গরিবের ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে কোরবানি দিয়ে সব শেষ। এটা ঠিক, কিছু টাকা ফেরত পাব। হয়তো সব টাকাও পেতে পারি। কিন্তু এভাবে চুরি যে হলো তার কী হবে? চোরেরা কি বহাল তবিয়তেই থাকবে, নাকি শাস্তি হবে? জানি, এখনো সব প্রশ্নের জবাব পাব না। কিন্তু প্রশ্নগুলো থাকবে, ভাবীকাল নিশ্চয়ই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আমাদের ঘরের মেয়ে, বহু বছর থেকে তাকে চিনি। আমরা রাজনীতি করতাম, রোদে পুড়তাম, তারা সংস্কৃতিচর্চা করতেন, সুন্দর মুখে রং মেখে অভিনয় করতেন। আমরা রং মাখতেও জানি না, অভিনয় করতেও পারি না। এখন তিনি মন্ত্রী। সব মোবাইল ফোন আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বায়োম্যাট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। বায়োম্যাট্রিক পদ্ধতির ভালো দিক অবশ্যই আছে, কিন্তু খারাপ দিক কি কিছুই নেই? বিদেশি সংস্থার হাতে আমাদের কোটি কোটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ যখন থাকবে, তখন কারও সঙ্গে প্রেম করা কোনো মেয়ের অন্যের ঘরে বিয়ে হলে যেমন তাকে শঙ্কিত থাকতে হয়, ঠিক তেমন আমাদের শঙ্কিত থাকতে হবে না? আমরা যারা ছাপোষা মানুষ বিষয়সম্পদ নেই, তাদের না হয় কোনো ভয় নেই। নেংটির আবার বাটপাড়ের ভয় কী? কিন্তু যাদের আছে তাদের আঙ্গুলের ছাপ জাল করে কজনকে কত বিপদে ফেলা হবে বা যখন পড়বে তার আগে কেউ খুব একটা ভাববে বলে মনে হয় না।

মাননীয় মন্ত্রী তারানা হালিম আমার কোনো ফেসবুক নেই, আমার নামে কেউ যদি ফেসবুক খুলে থাকে তা দিয়ে কারও পক্ষে-বিপক্ষে যাই বলে থাকুক সে দায়দায়িত্ব তার। তাই মাননীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আমার নামে কোনো ফেসবুক থাকলে তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হোক এবং ফেসবুকে কেউ কোনো কঠিন মন্তব্য করে থাকলে তার জন্য তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। বর্তমানে সারা দেশে এক অভিনব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলছে। এমন নির্বাচনী কলঙ্ক এ ভূখণ্ডের কেউ কখনো দেখেনি। এমন অথর্ব যোগ্যতাহীন নির্বাচন কমিশন কোনো দিন পৃথিবীর কোনো দেশ দেখেনি। দুর্ভাগ্যের বিষয় নির্বাচন কমিশন যখন যা করে তার দায়দায়িত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাঁধে পড়ছে। কদিন আগে কয়েকজন হিন্দু সহকর্মীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। জায়গাটা ছিল একটা হিন্দুপ্রধান এলাকা। কেন যেন হঠাত্ই জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মহারাজা দশরথের কয় ছেলে? সব কজন বলতে পারেনি। শেষের দিকে দু-এক জন অনেক কষ্টে বলেছিল। দশরথের চার ছেলে— এটা খুব কঠিন বিষয় ছিল না। রাম, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন। দশরথের আবার ছিল তিন পত্নী— কৌশল্যা, সুমিত্রা, কৈকেয়ী। কৌশল্যার পুত্র রাম, কৈকেয়ীর পুত্র ভরত ও শত্রুঘ্ন আর সুমিত্রার পুত্র লক্ষ্মণ। কৈকেয়ীর ছলনার কারণে রামের যখন বনবাস হয় তখন ভরত ছিল নানার বাড়ি। সে কিছুই জানত না। রামকে বনবাস দিয়ে পুত্রশোকে কয়েক দিনের মধ্যেই যখন দশরথ মারা যায় তখন দশরথের সব ছেলে অযোধ্যার বাইরে। কৈকেয়ীর কারণে ভরত রাজা হবে এটা ছিল নিশ্চিত। কিন্তু ভরত রাজধানীতে ছিল না। ছিল নানার বাড়ি কেকয় রাজ্যে। তাই কী করা যায়? অনেক বিচার-বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গে দূত পাঠানো হলো কেকয় রাজ্যে ভরতের নানার দেশে। দূত দেখে ভরতের শঙ্কা জাগে। কিন্তু তা প্রকাশ করে না। অযোধ্যায় এসে দেখে পিতা দশরথ নেই। তাকে তেলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তুলে তার সব ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম করা হয়। মা কৈকেয়ী যখন ভরতকে রাজ্য অভিষেকের কথা বলে তখন সে বেঁকে বসে। সে রাজি হয় না। পিতার মতো বড় ভাই রামই অযোধ্যার রাজা হবে। ততদিনে রাম বনবাসে চলে গিয়েছিল। ভরত অযোধ্যার মন্ত্রীদের এবং তিন মাকে নিয়ে বনে যায় রামকে ফিরিয়ে আনতে। তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়। কিন্তু রাম কিছুতেই তার পিতৃ আজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হয় না। বিফল হয়ে তারা অযোধ্যায় ফিরে এসে রামের পাদুকা সিংহাসনে রেখে রাজ্য শাসন করতে থাকে। শ্রীরাম বহু জায়গা ঘুরে দণ্ডকারণ্যে যায়। এরপর সেখান থেকে পঞ্চবটী, আরও নানা স্থানে ভ্রমণ করে জনস্থানে ঋষিদের সঙ্গে বসবাস করছিল। সে সময় একদিন গোদাবাড়িতে স্নান করে রাম লক্ষ্মণ সীতা আশ্রমে ফিরে আসে। হঠাত্ই রাবণের বোন রাক্ষুসী শূর্পণখা উপস্থিত হয়ে রামের সৌন্দর্য দেখে সীতাকে ত্যাগ করে তাকে বিয়ে করতে বলে। রাম তাকে তাদের বনবাসের সব ঘটনা জানিয়ে বলে, ‘আমি বিবাহিত। সীতা আমার ধর্মপত্নী। তাকে ত্যাগ করা যাবে না। আমার ছোট ভাই লক্ষ্মণ অবিবাহিত আপনি বরং তাকে বিয়ে করে সুখী হতে পারেন।’ তখন লক্ষ্মণ বলে, আমি রামের দাস। তুমি কেন দাসের দাসী হতে যাবে— এসব শুনে শূর্পণখা ভীষণ রেগে গিয়ে রাক্ষসরূপ ধরে তাদের বধ করতে চাইলে মহাবীর লক্ষ্মণ তার নাক-কান কেটে দেয়। রাবণের বোন শূর্পণখা ক্রোধান্বিত হয়ে ভাই খর ও দূষণের কাছে বিচার দিলে দণ্ডকারণ্যের রাক্ষস অধিপতি রাবণের ভাই খর ও দূষণ তাদের ১৪ হাজার রাক্ষস নিয়ে রামকে বধ করতে যায়। কিন্তু রাম একাই তাদের ধরাশায়ী করে। তখন শূর্পণখা লঙ্কায় গিয়ে রাবণকে বৃত্তান্ত জানালে লঙ্কেশ্বর রাবণ পুষ্পরথে চড়ে দণ্ডকারণ্যে হিতৈষী মারীচের আশ্রমে উপস্থিত হয়ে তার আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে সাহায্য চাইলে মারীচ বলে, ‘যে আপনাকে রাম লক্ষ্মণ সীতার কথা বলেছে সে আপনার মহাশত্রু। আপনাকে দিয়ে সে বিষধর সাপের দাঁত তুলতে চায়। লঙ্কেশ্বর আপনি লঙ্কায় ফিরে যান। নিজের পত্নীতেই তুষ্ট থাকুন। রামকেও তার পত্নীর সঙ্গে আনন্দে বসবাস করতে দিন।’ মারীচের কথায় সে যাত্রায় রাবণ ফিরে যায়। আবার শূর্পণখা তাকে নানাভাবে উত্তেজিত করতে থাকে। কদিনের মধ্যে আকাশপথে সাগর পাড়ি দিয়ে মারীচের আশ্রমে রাবণ আবার আসে। রাক্ষসরাজকে দেখে মারীচ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘এত তাড়াতাড়ি আবার এলেন?’ রাবণ বলল, ‘বত্স! আমি বড়ই বিপদাপন্ন। তুমি আমার পরম সহায়। তুমি জনস্থান জান বা চেন। সেখানে আমার ভাই খর-দূষণ, বোন শূর্পণখা এবং ত্রিশা ১৪ হাজার রাক্ষস নিয়ে বাস করত। রাম তাদের সবাইকে বধ করেছে এবং শূর্পণখার নাক-কান কেটে দিয়েছে। আমি রাম লক্ষ্মণকে বধ করে সীতাকে হরণ করব। তুমি আমার সহায় হও।’ রাবণের কথা শুনে মারীচ ভয়ে শুষ্ক মুখে রাবণের দিকে চেয়ে রইল। অবশেষে মিনতি করে বলল, ‘রাজা! যারা সত্য কথা বলে এমন লোক অনেক আছে। কিন্তু অপ্রিয় অথচ হিতকর বাক্য বলার বা শোনার বেশি লোক নেই। আপনি চপল স্বভাবের গুপ্তচর নিযুক্ত করেন না। মহাগুণশালী বীর রামকে আপনি জানেন না। তার স্ত্রী সীতাকে হরণ করতে আপনি কেন ইচ্ছা করেন? সূর্যের প্রভাব কি হরণ করা যায় রাক্ষসাধিরাজ। এই ব্যর্থ চেষ্টা করে আপনার কী লাভ? রাম আপনাকে রণক্ষেত্রে দেখলেই বধ করবে।’ রাবণ ক্ষিপ্ত হয়ে মারীচকে বলে, ‘আমি তোমার মতামত শুনতে আসিনি, কোনো পরামর্শ নিতে আসিনি, তোমার সাহায্য নিতে এসেছি। সাহায্য করলে করবে, না হয় তোমায় আজই বধ করব।’ তার পরও মারীচ নির্ভয়ে বলল, ‘কোন পাপী আপনাকে এই পরামর্শ দিয়েছে জানি না। এর ফলে আপনার পুত্র, রাজ্য সব বিনষ্ট হবে। স্বেচ্ছাচারী রাজা যদি কুপথে চলেন তবে সভাসদ মন্ত্রীদের উচিত তাকে সর্বপ্রকারে নিবৃত্ত করা। আপনার জন্য আমার মরণ হবে তা ভাবছি না। আপনি সসৈন্যে মরবেন এ জন্যই আমার ভাবনা। রামের হাতে মরলে আমি কৃতার্থ হব। কিন্তু তিনি অচিরেই আপনাকে বধ করবেন সেটাই ভাবছি।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমার তেমনই মনে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা তাদের ওপর যায় না। কেন যেন দোষ-গুণ সব কিছু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে চাপে। এমন এক ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন, যারা এই কয়েক বছরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো কোনো আলোচনা করেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অথচ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার প্রয়োজন বোধ করেনি ইসি। মাছের যেমন পানির দরকার, তেমন গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের দরকার ভেবে দেখারও চেষ্টা করেনি। বাংলাদেশে দুর্জনের মুখ বন্ধ করা যায় না। অনেকেই বলেন জেলা পর্যায়ে কাজের সময় নির্বাচন কমিশনে অনেকেই পাটশাকের তাড়ি বা আঁটিও ঘুষ নিতেন। এমন লোক নিয়ে গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? জাতীয় নেতা হিসেবে বহু ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সফলতার দাবি করলেও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে তবে কি আমার ভগিনী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা নির্বাচন পদ্ধতির কবর রচনার দায়ভার মাথায় নেবেন?

লেখক : রাজনীতিক

নিউজপেজ২৪/ এএ