খোলা কলাম

জুন ৭, ২০১৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ন

অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির বেশির ভাগ ধারণা নেন শরিয়াহ থেকে

জি. মুনীর

অ্যাডাম স্মিথের নাম অর্থনীতির জগতে এক বহুল উচ্চারিত নাম। পাশ্চাত্যে তাকে বিবেচনা করা হয় ‘অর্থনীতির জনক’ বা ‘ফাদার অব ইকোনমিকস’ হিসেবে। তিনি শ্রদ্ধার পাত্র পাশ্চাত্যে শিক্ষাবিদদের কাছে ও সরকারের কাছেও। শ্রদ্ধার প্রাত্র তিনি পাশ্চাত্যের জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও। বিশেষ করে তিনি শ্রদ্ধার পাত্র আন্তর্জাতিক ডানপন্থীদের নগরদুর্গ বলে খ্যাত ওয়াশিংটন ডিসিতে। কানাডার সুপরিচিত বুদ্ধিজীবী জন রালস্টন সাউল উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটনের ‘নিও-কনজারভেটিভ/নিও-লিবারেল’ আইডিওলজির সমর্থকেরা অ্যাডাম স্মিথকে দেখেন তাদের ঈশ্বরের এক সংস্করণ হিসেবে। এরা তাকে ঈশ্বরের একটি সংস্করণ বিবেচনা করে তার ওপর তাদের স্বপ্রতিজ্ঞাত বিশ্বাস তথা প্রফেসড ফেইথ বিশ্বব্যাপী বলবৎ করে জঙ্গিপনা ও সন্ত্রাসের (মিলিট্যান্সি ও টেররের) মাধ্যমে। রালস্টন আরো উল্লেখ করেন- বেশির ভাগ খুন হওয়া লেখক, নেতা ও দার্শনিক হত্যার শিকার হয়েছেন পাশ্চাত্যের মৌলবাদী ও চরমপন্থী পুতুল সরকারগুলো এবং তাদের প্রশিক্ষিত, নিয়োজিত ও টিকিয়ে রাখা মিলিট্যান্ট গ্রুপের হাতে। ভিন্নমতের লেখক ও চিন্তাবিদদের হত্যা ও কারাগারে পাঠানোর বাইরে নাগালের মধ্যে থাকা কারো ওপর ওয়াশিংটন স্মিথের ধারণার চরম ব্যাখ্যা কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের নজর আক্রমণ্য তথা ভালনারেবল তরুণদের ওপর।

সম্প্রতি অ্যাডাম স্মিথকে নিয়ে Robert Barsocchini একটি লেখা লিখেছেন ‘কাউন্টার কারেন্ট’-এর ওয়েবসাইটে। লেখাটিতে তিনি একটি অসাধারণ সত্য কথা তুলে ধরেছেন। এ সত্যটির প্রতিফলন রয়েছে তার এই লেখার শিরোনামে। শিরোনামটি হচ্ছে- ‘ফাদার অব ওয়েস্টার্ন ইকোনমিকস টুক মোস্ট অব হিজ আইডিয়াজ ফ্রম শরিয়াহ ল।’ অর্থাৎ তিনি এই লেখার মাধ্যমে এটুকুই বলতে চেয়েছেন- অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির যেসব ধারণা বিশ্ববাসীকে দিয়েছেন, তার বেশির ভাগই তিনি নিয়েছেন ইসলামের শরিয়াহ আইন থেকে। উল্লেখ্য, রবার্ট বারসোকিনির নানা লেখা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশিত হয়। তার লেখায় আলোকপাত থাকে ফোর্স ডায়নামিকস, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর। পেশাগতভাবে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের ওপরও লেখালেখি করেন।
রবার্ট বারসোকিনি তার এই লেখায় উল্লেখ করেন, অ্যাডাম স্মিথকে পাশ্চাত্য পরম শ্রদ্ধার সাথে দেখলেও বাস্তবে অ্যাডাম স্মিথ পাশ্চাত্যে খুব কমই পঠিত হয়। তার সম্পর্কে জানাজানি আসলে টুকিটাকি ও অডিও-ভিডিও থেকে তুলে আনা কিছু বক্তব্য। এমনকি এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে অপ্রাসঙ্গিক ও বিকৃতভাবে স্মিথের বক্তব্যের বিপরীত কিছুকে যৌক্তিক করে তোলার জন্য। পশ্চিমা ক্ষমতাধর ক্ষুদ্র শাসকগোষ্ঠী (অলিগার্কি) যেভাবে গোপন রেখেছে স্মিথের প্রকৃত কর্ম, তেমনি অন্যরা গোপন রেখেছে বাইবেলের সত্যকেও। আসলে অ্যাডাম স্মিথ প্রবল সমালোচক ছিলেন অলিগার্কি অর্থাৎ ক্ষমতাধর ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর শাসনের। তিনি উল্লেখ করে গেছেন, এই গোষ্ঠী বাজারে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করে থাকে। সেখানে অন্যের কতটুকু ক্ষতি হলো, সেটি তাদের বিবেচ্য নয়। অ্যাডাম স্মিথ অবাধ মূলধনপ্রবাহেরও প্রবল বিরোধী ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই অবাধ মূলধনপ্রবাহ একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। এমনকি তিনি বিরোধী ছিলেন শ্রমবিভাজনেরও। এটিকে তিনি অভিহিত করেছেন বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে। আর এ কারণেই সরকারের উচিত অবাধ মূলধনপ্রবাহ ঠেকানোর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা।
একটি ভিডিও থেকে গভীরভাবে জানা যায়, আসলে ওয়েস্টার্ন অলিগার্কিরা এ কাজটি করে, যখন এরা অ্যাডাম স্মিথের ‘দ্য ওয়েলথ অব ন্যাশন’ বই থেকে অপ্রাসঙ্গিক ও অতি-সংক্ষেপায়িত বক্তব্য নিয়ে আসল বক্তব্য লুকানোর কাজটি করে। এখানে তাদের কাজটি সংক্ষেপে প্রকাশ করা যাবে এক কথায়- ‘দে ইউজ দেয়ার পাওয়ার টু সাবডিউ অ্যান্ড রব পিপল হু আর উইকার দেন দেম’। অর্থাৎ এরা এদের ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই সব মানুষকে ডাকাতি করতে ও তাদের বশে আনতে, যারা এদের চেয়ে দুর্বলতর।
এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণের মধ্যে একটি অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। শত শত বছর ধরে পাশ্চাত্যের প্রিডেটরদের জন্য এ কৌশলগত ও সম্পদ সমৃদ্ধির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি একটি বড় টার্গেট। যখন পাশ্চাত্য কোনো একটি এলাকা বা জনগোষ্ঠীকে লুণ্ঠনের টার্গেটে পরিণত করতে শুরু করে, তখন এর সাথে চলে ব্যাপক অপপ্রচারাভিযান বা প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন। এই অপপ্রচার পাশ্চাত্যের শিকার ধরার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিরপরাধ মানুষ হত্যা, তাদের প্রতি নির্মম আচরণ, তাদের সম্পদ লুণ্ঠনের ফলে পাশ্চাত্যের জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে মানসিক অস্বস্তি দেখা দেয়, তা লাঘবে এই অপপ্রচার সহায়ক হয়।
জ্যাক শাহীন নামের জনৈক মিডিয়া স্টাডিজ প্রফেসর লক্ষ করেন, ইউএস করপোরেট মিডিয়া ও সরকারকে মাঝে মধ্যে আলাদা করে ভাবা কঠিন। এই ইউএস মিডিয়া ও সরকার মধ্যপ্রাচ্যের লোকদের বর্ণনা বা চিহ্নিত করে ‘untermenschen’ নামে। এটি একটি জার্মান শব্দ, যা ব্যবহার হয় sub-human ( মানুষ হওয়ার অযোগ্য) বোঝাতে। এ শব্দটি নাৎসিরা ব্যবহার করত তাদের দমনপীড়নের শিকার মানুষের বেলায় তাদেরকে অমানুষ হিসেবে ব্যবহার করাকে বৈধ করে তোলার জন্য। সম্ভবত নাৎসিরা এটি শিখেছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকেই।
এটি পাশ্চাত্যের জন্য বেদনাদায়ক যে- ‘অ্যাডাম স্মিথ তার বেশির ভাগ সর্বোত্তম ধারণা ও সর্বোত্তম কথাগুলো নিয়েছিলেন মধ্যযুগীয় ইসলাম থেকে’, বিশেষ করে শরিয়াহ আইন থেকে। উধারফ এৎধবনবৎ এমনটিই উল্লেখ করেছেন- Adam Smith, “got most of his best ideas and best lines from medieval Islam”, specifically from Sharia law, as noted by David Graeber। ড্যাভিড গ্রেইবার ছিলেন একজন নৃবিজ্ঞানী। তিনি শিক্ষকতা করেছেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ১১০০ সালের দিকে ইসলামি চিন্তাবিদ আল গাজ্জালি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শ্রমবিভাজনের গুরুত্বের কথা। তিনি তার এ বিষয়টির ব্যাখ্যা তুল ধরতে একটি সুই কারখানার উদাহরণ টানেন। অ্যাডাম স্মিথ একই উদাহরণ তুলে ধরেন শ্রমবিভাজনের একই ধারণা তুলে ধরতে। তবে তিনি এই উদাহরণ তুলে ধরতে গাজ্জালির কথা উল্লেখ করেননি।
ইব্রাহিম এম. ওয়েইস (Ibrahim M. Oweiss) জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন প্রফেসর এমিরেটাস। তিনি স্মিথের আরেকটি ইসলামিক উৎসের কথা লিখে জানিয়েছেন। সম্ভবত সে উৎসটি হচ্ছেন ইবনে খালদুন। ওয়েইস উল্লেখ করেন : Khaldun’s “significant contributions to economics… should place him [ahead of Smith] in the history of economic thought [as Smith’s] great works were published some three hundred and seventy years after Ibn Khaldun’s death. Not only did Ibn Khaldun plant the germinating seeds of classical economics, whether in production, supply, or cost, but he also pioneered in consumption, demand, and utility, the cornerstones of modern economic theory.
অ্যাডাম স্মিথ নন, বরং ইবনে খালদুনই একটি জাতির সম্পদ (ওয়েলথ অব ন্যাশন) গঠনে শ্রমের অবদানের বিষয়টি সর্বপ্রথম উপস্থাপন করেন। আবার ইবনে খালদুনই ফ্রি ইকোনমি এবং ফ্রিডম অব চয়েজ বিষয়টি তুলে ধরেন। খালদুনের করতত্ত্ব বা থিওরি অব ট্যাক্সেস প্রভাব ফেলেছে আধুনিক অর্থনৈতিক চিন্তায় এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালায়।
কয়েক শতাব্দী পর এসব ধারণা তুলে ধরেন সপ্তদশ শতাব্দীর মার্কেন্টাইলিস্টরা ও কমার্সিয়াল ক্যাপিটালিস্টরা। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেনÑ স্যার উইলিয়াম প্যাটি (১৬২৩-১৬৮৭), অ্যাডাম স্মিথ (১৭২৩-১৭৯০), ড্যাভিড রিকার্ডো (১৭৭২-১৮২৩), থমাস আর. মালথাস (১৭৬৬-১৮৩৪), কার্ল মার্কস (১৮১৮- ১৮৮৩) এবং জন ম্যানার্ড কেইনস (১৮৮৩-১৯৪৬)। এর পরে আসে সমসাময়িক অর্থনৈতিক তাত্ত্বিকদের নাম।
প্রফেসর জোসেফ অ্যালোইস স্কুমপিটার। তিনি অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিজ্ঞানী। তিনি ১৯১৯ সালে দায়িত্ব পালন করেন অস্ট্রিয়ার অর্থমন্ত্রী হিসেবে। ওয়েইস প্রফেসর জোসেফ অ্যালোইসের লেখা উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন : Adam Smith was in fact “a mere collector of previous economic thoughts. He eloquently presented these ideas in detail in an excellent new form and style [but n] evertheless, by comparison, Ibn Khaldun was far more original than Adam Smith, in spite of the fact that the former had also restructured and built upon foundations laid down before him, such as… Aristotle’s analysis of money and Tahir Ibn al-Husayn’s treatment of government’s role. Still, it was Ibn Khaldun who founded the original ideas in numerous areas of economic thought.”
ওয়েস্টার্নারেরা এসব অর্থনৈতিক ধারণার জন্য শরিয়াহ আইনের বদলে বরং স্মিথ ও অন্যান্য ইউরোপীয়দের অবদানের কথা উল্লেখ করাকেই অগ্রাধিকার দেয়। এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে এ লেখার শুরুতেই উল্লিখিত প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন। পাশ্চাত্য এই অপপ্রচারের শিকারদের মানব হিসেবে ভাবতে চায় না। ওয়েইস উল্লেখ করেন, ক্রুসেডগুলোর (যেগুলো পরিব্যাপ্ত ছিল একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে) পর থেকে বেশির ভাগ পশ্চিমা দার্শনিক উদ্যোগী হন বিভিন্নমুখী প্রয়াসের মাধ্যমে মুসলিম স্কলারদের প্রভাব এড়িয়ে যেতে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল মুসলমান লেখকদের নাম উল্লেখ না করেই তাদের ধারণাগুলো ব্যবহার করা। মুসলমানদের কাছ থেকে হলি ল্যান্ড দখল করার জন্য ক্রুসেডারদের পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ জন্ম দিয়েছিল এক জোরালো বিদ্বেষী মনোভাবের। এই মনোভাব ভালোভাবেই প্রোথিত হয় পশ্চিমাদের মনে। এ থেকে পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা বিমুক্ত থাকতে পারেননি। এবং তা অব্যাহত ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। সম্ভবত তা অব্যাহত ছিল আধুনিক সময় আসার আগ পর্যন্ত।
এই ডায়নামিকের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডারেরা সরকার ও অন্যান্য ক্ষেত্রের ধারণা নেয় ন্যাটিভ ফিলোসফারদের কাছ থেকে। তখন চলছিল ন্যাটিভ ন্যাশনগুলোর অস্তিত্বহীন করার কাজ, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাদের মানবতা অবদমন করে। দুঃখজনকভাবে এই প্রকল্প আজো চলমান।
অ্যাডাম স্মিথ যেসব ধারণা শরিয়াহ থেকে নিয়েছিলেন সুনির্দিষ্টভাবে, সেগুলোর উৎসের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। তবু তিনি সাধারণত খোলাখুলিভাবে মুসলমানদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশংসা করতেন। তিনি তার ‘হিস্ট্রি অব অ্যাস্ট্রোনমি’ বইয়ে লিখেছেন : “the empire of the Caliphs seems to have been the first state under which the world enjoyed that degree of tranquility which the cultivation of the sciences requires. It was under the protection of those generous and magnificent princes, that the ancient philosophy and astronomy of the Greeks were restored and established in the East; that tranquility, which their mild, just and religious government diffused over their vast empire, revived the curiosity of mankind, to inquire into the connecting principles of nature.”
ইউরোপীয় ইতিহাসবিদ আরনল্ড জে. টয়েনবি কোনো বিশেষ মুসলমান স্কলারকে প্রশংসা না করার প্রবণতার অর্গল ভেঙে ইবনে খালদুন সম্পর্কে লিখেন : “in his chosen field of intellectual activity, [Khaldun] appears to have been inspired by no predecessors… and yet, in the Prolegomena… to his Universal History he has conceived and formulated a philosophy of history which is undoubtedly the greatest work of its kind that has yet been created by any mind in any time or place..”
ওয়েইস উপসংহার টেনে বলেন, অর্থনীতির সার্বিক ক্ষেত্রে খালদুনের অভাবনীয় অবদানের কারণে অ্যাডাম স্মিথ নন, ইবনে খালদুনকেই বিবেচনা করা উচিত ‘ফাদার অব ইকোনমিকস’ হিসেবে।
কিন্তু পাশ্চাত্যের ফান্ডামেন্টালিস্টরা যত দিন তাদের ভায়োলেন্ট ফোর্সের মনোপলি ধরে রাখবে, তত দিন এরা বিশ্বব্যাপী ভিন্নমতের লেখক ও চিন্তকদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে। আর এ ক্ষেত্রে এরা ব্যবহার করবে নাৎসিদের মতো প্রপাগান্ডা, তাদের আন্তর্জাতিক সশস্ত্র ডাকাতিকে যৌক্তিক করে তোলার জন্য।