অর্থনীতি

জুন ৮, ২০১৬, ৯:১৯ অপরাহ্ন

বাজেটের আকার অস্বাভাবিক নয়, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ পেজ ডেস্ক

ঢাকা: জাতীয় সংসদের পেশ করা ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকারকে স্বাভাবিক বললেও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

বুধবার (০৮ জুন) দুপুরে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদশের অর্থনীতির আকার বড় হতে থাকার ফলে এই অঙ্কের বাজেট অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রশ্ন ওঠে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে।

ঘোষিত বাজেটকে গতানুগতিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জন্য ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজটের এই আকার বাংলাদশেরে অতীত বাজেটগুলোর ধারাবাহিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এই বাজেটের মোট ব্যয় জিডিপির ১৭ শতাংশের মত। এর আগের বাজেটগুলো জিডিপির ১ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে ছিলো। এদিক থেকে বলা যায় বাজেটটি এক অর্থে গতানুগতিক।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, ২০১৫ – ২০১৬ অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ সম্ভব না হওয়ায় ২০১৫ – ২০১৬ অর্থ বছরের জন্য সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

অর্থাৎ ৩০ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা কমানো হয়। চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।

তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বার্ডের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবার আশা পোষণ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই- তাকে আশাভঙ্গের কষ্ট পোহাতে হয়ছে। তাই আমাদের শঙ্কা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জন্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব হবে না।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী কী করবেন। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর মতন তাঁকে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রায় নিন্মমুখী সংশোধন করতে হবে। অর্থাৎ কাট-ছাঁট করতে হবে। তাহলে কোথায় তিনি কাটছাঁট করবেন? শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মত কল্যাণমুখী খাত থেকে অথবা মানবকল্যাণ এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, এমন কোন খাত থেকে? প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব।

দীর্ঘকাল ধরে বাজেটের অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রাধান্য দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেটে অনুন্নয়ন বাজেট ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দীর্ঘকাল ধরে বাজেটের অনুন্নয়ন ব্যয়প্রাধান্য দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বিএনপি মনে করে বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের বৃত্তকে সঙ্কুচিত করতে হবে। এটি করা সম্ভব হলে অধিক হারে জনকল্যাণও নিশ্চিত হবে।

সরকারি বিনিয়োগের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সময়মত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্পের গুণগত মানকে ভয়াবহভাবে অবনত করে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, ২০০৬ সালে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারিত পদ্মা সেতুর ব্যয় এখন ২৮ হাজার কোটি টাকার উপরে ধরা হয়েছে।

বাজেটে বিভিন্ন খাতে অপ্রতুল বরাদ্দের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাজটের ৪.৭% যা অগ্রাধিকার তালিকায় ১১তম এবং জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। কৃষি খাত অবস্থান করছে ১৩তম স্থানে। কৃষকের বড় অবদান দেশকে খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা। শস্য খাত ছাড়াও কৃষির অন্যান্য সহখাতেও যথেষ্ট বিকাশ হয়েছে। কিন্তু কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। সতরাং আমরা মনে করি স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

সরকারের পক্ষে বাজেট বাস্তবায়ন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয় দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মনে করি একটি সুষ্ঠু এবং সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ গঠিত হয়, তেমন একটি সংসদের পক্ষেই সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী বাজেট অনুমোদন করা সম্ভব। বর্তমান সংসদের সেরকম চরিত্র নেই। আমরা আশা করব দেশে সত্যিকার জনপ্রতনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হবে। এর জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউছুফ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউছুফ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

নিউজ পেজ/আরএ.