ধর্ম

জুলাই ৭, ২০১৬, ৬:২৪ পূর্বাহ্ন

আজ খুশির ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ/তোর সোনা দানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ/দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই গানে ঠোঁট মিলিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে দেশ।

কবি ভাষায় ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। হিংসা-বিদ্বেষ ভেদাভেদ ভুলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহিন আনন্দ উৎসবে।

ঈদ সবার জীবনেই কম-বেশি আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়। আগের দিন সন্ধ্যাকাশে শাওয়াল মাসের এক ফালি চাঁদ দেখা যায়নি, কিন্তু তাতে কি হয়েছে? চাঁদ দেখা যাক আর নাই যাক বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। হিজরী দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন। হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসব হলো ঈদ।’


ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পবিত্র হয়ে মিষ্টি মুখ করে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে ঈদের জামায়াতে শরীক হন। নামাজের পর পরিচিত অপরিচিত সবার সঙ্গেই কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। এরপর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো রয়েছেই। ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পর মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান থাকে না। ঈদুল ফিতর ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেয়। সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে।


দীর্ঘ একমাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা ইবাদত বন্দেগীসহ সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য উপহারস্বরূপ এই ঈদুল ফিতর।


একমাস টানা সিয়াম সাধনার পর ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য অনুভূতি। তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে।

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে পৌঁছে গেছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ।

ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। অনলাইন দৈনিকসহ জাতীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন। জাতীয় ঈদগাহে বরাবরের মতো প্রধান ঈদ জামাতের প্রস্তুতি রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রমুখ দেশবাসী ও মুসলিম ‍উম্মাহর সুখ শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নিউজপেজ/ইএইচএম