তথ্যপ্রযুক্তি

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

কল ড্রপে আর্থিক ক্ষতি বছরে ৩শ' ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা

নিউজপেজ ডেস্ক

প্রায় ১২ কোটি মোবাইল গ্রাহকের প্রতিদিন কল ড্রপ হচ্ছে ১ কোটি ৬০ লাখ মিনিট। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকা। বছরে এ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩শ’ ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অপারেটরদের কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের এ ক্ষতি গুনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ গতকাল মানবজমিনকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মুঠোফোনের কল ড্রপ একটি অনিয়ম হলেও মুঠোফোন অপারেটরদের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগী না হওয়ায় গ্রাহকদের এ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বারবার কল ড্রপ বন্ধ ও গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা দিলেও আজ অবধি কোনো ক্ষতিপূরণ গ্রাহকরা পায়নি।

তিনি বলেন, বিটিআরসি থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল মার্চ মাস থেকে মুঠোফোন অপারেটরা ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু সেই নির্দেশনাও উপেক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধিত মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ৭০ লাখ। প্রতিদিন কল ড্রপ হয় ১ কোটি ৬০ লাখ মিনিট। সর্বনিম্ন কল রেটের মূল্য ৬০ পয়সা করে ধরলে প্রতিদিন কল ড্রপের ফলে গ্রাহকের ক্ষতি হয় ৯৬ লাখ টাকা। মাসিক ২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা ১টি আর্থিক বছরে দাঁড়ায় ৩৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রাহকদের কাছ থেকে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে নিলে গ্রাহকগণ যেমন প্রতারিত হচ্ছে আবার রাষ্ট্রও এ খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এর কোনো বালাই নেই।

এদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্রাহকরা প্রায় ৯০ কোটি মিনিট কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুঠোফোন অপারেটরদের দুর্বল নেটওয়ার্ক, টাওয়ার তদারকির অভাব, কারিগরি দুর্বলতার ফলেই দিনকে দিন নেটওয়ার্ক সার্ভিস খারাপ থেকে অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ফোনে কথা বলার সময় কথা ভেঙে ভেঙে আসে। ফলে গ্রাহকগণ বারবার কল কেটে নতুন করে কল দিতে বাধ্য হয়। এতে করেও গ্রাহকদের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এ ধরনের পরিসংখ্যানের ভিত্তি প্রসঙ্গে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বিটিআরসি ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে তারা এ হিসাব বের করেছেন। এদিকে অ্যাসোসিয়েশনের এ হিসাবের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি জেনারেল টিআইএম নুরুল কবির। এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে তিনি জানান, বাংলাদেশের কল ড্রপ আইটিইউ এর মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে। তারপরও মোবাইল অপারেটররা বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু অপারেটরদের কারণে কল ড্রপ হয় না। আবহাওয়া, ফাইবার অপটিক, এনটিটিএন, আইসিএক্স এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণেও কলড্রপ হতে পারে। মন্ত্রণালয় বিটিআরসি ও অপারেটররা এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৯০ কোটি মিনিটের মধ্যে যদি ১ কোটি ৬০ লাখ মিনিট কল ড্রপ হয় তাহলে সেটা কত পার্সেন্ট হয়? নিশ্চয় অনেক কম। তারপরও কল ড্রপের কারণে যেন গ্রাহকদের কোনো রকম ক্ষতির শিকার হতে না হয় সেদিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশে ৬টি মোবাইল অপারেটর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। অন্যগুলো হচ্ছে-গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও সিটিসেল।

সুত্রঃ মানব জমিন


নিউজপেজ২৪/এন এ