সম্পাদকীয়

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৩, ২:২২ অপরাহ্ন

সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন ও ভুলুণ্ঠিত মানবতা

নিউজ পেজ ডেস্ক

চারপাশে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। আবারো একটি যুদ্ধের মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য। বরাবরের মত আমেরিকা ও তার মিত্র ইসরাইলের অজুহাত মানবাধিকার লঙ্ঘনের।

সিরিয়ায় বাশার সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এই অভিযোগে যুদ্ধের হুঙ্কার দিচ্ছে সাম্রাজবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বলছে অভিযোগ প্রমাণের আগে সিরিয়ায় হামলা চালালে তা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বলছে জাতিসংঘ অনুমোদন না দিলেও তারা হামলা চালাবে।

সিরিয়ার প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তুষ্টির কারণ কি শুধুই বাশার সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন (যদিও এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এখনো প্রমাণিত নয়), নাকি তার পেছনে আরো কোনো কারণ আছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনই যদি একমাত্র কারণ হতো তাহলে তো মাত্রই কিছুদিন আগে মিশরে সামরিক সরকার কর্তৃক যে গণহত্যা চালানো হলো তার বিরুদ্ধে আমেরিকাকে আগে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটি সরকারকে উচ্ছেদ করা সামরিক জান্তাকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

আসলে টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে আফগানিস্তান ও ইরাক হামলার মধ্য দিয়ে আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে তার যে প্রভাব বলয় বিস্তার শুরু করেছে তারই ধারাবাহিকতা হচ্ছে সিরিয়া আক্রমণের তোড়জোড়।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে সিরিয়া আক্রমণের বিষয়ে মুসলিম বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত। কিছু কিছু মুসলিম দেশ প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আহবান জানাচ্ছে সিরিয়া আক্রমণের জন্য। যদিও ইরান ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ খোলাখুলি সিরিয়ার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা অনুধাবন করে আমেরিকা তাদের হামলা পরিকল্পনা কিছুদিনের জন্য স্থগিত করেছে। তবে এখনো যুদ্ধের সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। একবিংশ শতাব্দিতে এসে বিশ্ববাসী আর শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে নতুন করে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখতে চায় না। তাই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উচিত এখনই কাল্পনিক অভিযোগ নিয়ে মায়াকান্না না করে আসন্ন যুদ্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাখা।